Published : 21 Jun 2024, 03:07 PM
বিভিন্ন ধরনের ফাইল প্রিন্ট করতে মানুষ প্রিন্টার ব্যবহার করে। আর প্রতিটি পৃষ্ঠায়, প্রিন্টার কিছু অদৃশ্য হলুদ রঙের বিন্দু যোগ করে দেয়, যা ‘ট্র্যাকিং কোড’ নামে পরিচিত। একটি পৃষ্ঠা কবে, কখন ছাপানো হয়েছে সেটিই ধারণ করে এ ট্র্যাকিং কোড।
ট্র্যাকিং প্রযুক্তিটি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট হাও-টু গিক। এ প্রযুক্তি নকল ঠেকাতে সাহায্য করলেও, এতে রয়েছে প্রাইভেসি বিষয়ক উদ্বেগ।
কেউ উইন্ডোজ ১১-এর সঙ্গে একটি প্রিন্টারের সংযোগ করার পর, সেখান থেকে কোনো পৃষ্ঠা ছাপালেও ট্র্যাকিং কোডগুলো খুঁজে পাওয়া যাবে। তাত্ত্বিকভাবে উইন্ডোজ ১১-এর প্রাইভেসি সেটিংস পরিবর্তন করা গেলেওে প্রিন্টার থেকে ছাপা হওয়া হলুদ রঙের কোডের সেটিং পরিবর্তন করা যায় না বলে উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে।
এ ট্র্যাকিং কোডগুলো একপ্রকার ‘স্টেগানোগ্রাফি’, যা খুব সাধারণ একটি নথি বা ছবির মধ্যে তথ্য লুকিয়ে রাখার কৌশল। প্রিন্টারের ক্ষেত্রে, ট্র্যাকিং কোডগুলো ছাপানো নথির মধ্যেই প্রিন্টার ও নথি সম্পর্কে শনাক্ত করার মতো তথ্য যোগ করতে ব্যবহৃত হয়।
প্রিন্টারে ট্র্যাকিং কোডের সবচেয়ে পরিচিত প্রকার হল ‘ইয়োলো ডট প্যাটার্ন’, যেখানে ছোট ও সামান্য দৃশ্যমান হলুদ বিন্দু ডেটা এনকোড করার জন্য একটি গ্রিডে সাজানো হয়।
ট্র্যাকিং কোডগুলো প্রিন্টার ফার্মওয়্যার-এর মাধ্যমে তৈরি হয় এবং ছাপার সময় পৃষ্ঠায় এমবেড বা যোগ করা হয়। ফার্মওয়্যারে অ্যালগরিদম ঠিক করা থাকে, সে অনুসারেই অদৃশ্য চিহ্নগুলোর নির্দিষ্ট প্যাটার্ন তৈরি করে।
এ প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় এবং এতে কোন ব্যবহারকারীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয় না। আর বেশিরভাগ ব্যবহারকারীরা জানেনই না তাদের প্রিন্টারগুলো এমন তথ্য ছাপাচ্ছে যা তাদের শনাক্ত করতে পারে বলে লিখেছে হাও-টু গিক।
ট্র্যাকিং কোডগুলো কীভাবে এসেছে?
এ কোডগুলো মেশিন আইডেন্টিফিকেশন কোড (এমআইসি) নামেও পরিচিত, যা ১৯৮০’র দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রিন্টার নির্মাতারা ব্যবহার করে আসছেন। এ প্রযুক্তির পেটেন্ট মূলত ১৯৯৩ সালে দেওয়া হয়েছিল, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে।
জাল ঠেকানোর উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও প্রিন্টার নির্মাতাদের ভেতর সহযোগিতার মাধ্যমেই এ কোডগুলো তৈরি হয় বলে উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে।
১৯৮০’র দশকে, রঙিন প্রিন্টার ব্যবহার করে উৎপাদিত জাল মুদ্রার সমস্যা সমাধানের জন্য জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইউ.এস. সিক্রেট সার্ভিস। এর ফলস্বরূপ, প্রিন্টার নির্মাতারা মেশিন আইডেন্টফিকেশন কোড বাস্তবায়নে রাজি হয়।
প্রিন্টার নির্মাতারা বলেছেন, ট্র্যাকিং কোডগুলো তৈরির অন্যতম কারণ হল জাল মুদ্রা বা অর্থ এবং অন্যান্য অবৈধ নথির উৎস শনাক্ত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সহায়তা করা।
তবে, প্রাইভেসি সমর্থকরা এ প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারণ, এটি প্রিন্ট করা নথির ওপর ভিত্তি করে ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সক্ষম।
প্রিন্টার ট্র্যাকিং কোডকে ঘিরে বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও, বেশিরভাগ আধুনিক প্রিন্টারগুলোয় এটি একটি আদর্শ ফিচার হিসেবে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে হাও-টু গিক।
এ কোডগুলো কীভাবে কাজ করে?
যখন কেউ রঙিন প্রিন্টারে কোনো ফাইল প্রিন্ট করেন, তখন পৃষ্ঠাটিতে ১৫ বাই ৮ হলুদ বিন্দুর একটি গ্রিড যোগ করা হয়। ছাপানো পৃষ্ঠা জুড়ে গ্রিডের পুনরাবৃত্তি হয়, এবং প্রতিটি গ্রিড যেন অন্যটির ওপরে চলে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে গ্রিডগুলোকে কিছুটা দূরত্ব মেনে বসানো হয়। এ ছাড়া, গ্রিডগুলো পৃষ্ঠার প্রান্তের সঙ্গে সমান্তরালভাবে বসে। আর এ গ্রিডের বিন্দুগুলো তথ্যের একটি সিরিজ গঠন করে, যা অনেকটা প্রথম দিকের কম্পিউটারে ব্যবহৃত ‘পাঞ্চ কার্ডের’ মতো।
ট্র্যাকিং কোডগুলো ‘বাইনারি সিস্টেম’ ব্যবহার করে এনকোড করা হয়, যেখানে প্রতিটি বিন্দুই কিছু তথ্য উপস্থাপন করে। প্যাটার্নের নির্দিষ্ট স্থানে বিন্দুর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি বাইনারি কোডের “১” বা “০” এর সঙ্গে মিলে যায়।
বিন্দুগুলোর গ্রিডের প্রতিটি সারিই তথ্যের একটি নির্দিষ্ট অংশকে এনকোড করে, যেমন প্রিন্টারের সিরিয়াল নম্বর, উৎপাদন তারিখ ও ছাপা হওয়া নথির ‘টাইমস্ট্যাম্প’।