১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যেভাবে ভ্রমণ পরিকল্পনায় বিপ্লব আনছে এআই

এআই কেবল ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলছে না, বরং দাম পরিবর্তন ও গ্রাহক সেবা ব্যবস্থাপনার জন্যও এআই ব্যবহার করছে বিভিন্ন হোটেল ও এয়ারলাইনগুলো।

যেভাবে ভ্রমণ পরিকল্পনায় বিপ্লব আনছে এআই
টুরিস্টবান্ধব দেশ হলে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হয়। সে বিষয়েও সহায্য করতে পারে এআই।

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Aug 2025, 05:51 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:34 PM

কিছুদিন আগেও ভ্রমণ পরিকল্পনা মানেই ছিল গাইডবই ঘাঁটা আর ইন্টারনেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ভালো রেস্টুরেন্ট ও ঘুরে দেখার মতো বিভিন্ন জায়গা খোঁজা। 

এখন এসব ঝামেলার কাজগুলো সহজে করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর টুল ব্যবহার করছেন ভ্রমণপ্রেমীরা।

‘স্কুল অফ হসপিটালিটি অ্যান্ড স্পোর্ট ম্যানেজমেন্ট’-এর ইউএসএফ-এর সহকারী অধ্যাপক সেডেন ডোগান বলছেন, এ পরিবর্তনটি কেবল সাময়িক কোনো ট্রেন্ড নয়, বরং এর পেছনের কারণটা আরও গভীর।

এ বিষয়টিই এখন স্বাভাবিক। ডোগানের গবেষণায় উঠে এসেছে, দিন দিন আরও বেশি এআইয়ের তৈরি পরামর্শের ওপর নির্ভর করছেন ভ্রমণকারীরা।

তিনি বলেছেন, “গবেষণার প্রাথমিক বিভিন্ন ফলাফলে ইঙ্গিত মিলেছে, বিভিন্ন লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল কখনও কখনও ভুল তথ্য দেয় বা বিভ্রান্তিকর কিছু উপস্থাপন  করে। এরপরও মানুষ এসবের ওপর অনেক বেশি ভরসা করছে।”

এসব টুলের প্রতি মানুষের আগ্রহের মূল কারণ হচ্ছে, এগুলো মুহূর্তের মধ্যে বিশাল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে। যেমন– হোটেলের দাম তুলনা করা, রিভিউ পড়া ও এমন সব ধরন খুঁজে বের করা, যা একজন ভ্রমণকারী করলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নিত।

ডোগান বলেছেন, “আমি যদি এআইকে বলি, আমি নিউ ইয়র্কে পাঁচ দিনের জন্য একা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছি ও বলি যে, আমি নিরামিষভোজী, শহরের কেন্দ্রেই থাকতে চাই ও গণপরিবহন ব্যবহার করতে চাই। তবে আমার পছন্দ অনুসারে মিনিটে মিনিটে সাজানো এক কাস্টমাইজড ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি করে দেবে এআই।

“এসব মডেল আমাদের দেওয়া সব ধরনের তথ্য থেকে শেখে, যার মধ্যে ব্যক্তিগত ডেটাও থাকে। আপনার অবস্থান, আগে করা সার্চ, আয়ের পরিমাণ বা বয়সের মতো জনসংখ্যাগত তথ্যও প্রভাব ফেলে যে আপনি এআইয়ের থেকে কী ফলাফল পাবেন। ফলে একই হোটেলের জন্য দুজন ভিন্ন ব্যক্তি ভিন্ন দাম ও বিকল্প দেখতে পারেন।”

এআই কেবল ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলছে না, বরং দাম পরিবর্তন ও গ্রাহক সেবা ব্যবস্থাপনার জন্যও এআই ব্যবহার করছে বিভিন্ন হোটেল ও এয়ারলাইনগুলো। তবে প্রযুক্তি যত বেশিই ব্যবহৃত হোক না কেন ডোগানের ধারণা, আতিথেয়তার ক্ষেত্রে মানুষের স্পর্শই সবসময় মুখ্য থাকবে।

তিনি বলেছেন, “আতিথেয়তার মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে স্বাগত জানানো ও তারা যেন নিজের বাড়িতে আছেন তাদের এমন অনুভূতি দেওয়া। প্রযুক্তি যেন সেটিকে বদলে না দিয়ে বরং সাহায্য করে।”

ডোগান ভবিষ্যতে এমন এক অভিজ্ঞতার কথা বলছেন যাকে ‘ফিজিটাল’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি, অর্থাৎ শারীরিক ও ডিজিটাল সেবার সংমিশ্রণ। 

“এমন এক স্মার্ট হোটেল রুম কল্পনা করুন, যা আপনার পছন্দগুলো জানবে ও সেখানে আপনাকে সাহায্যের জন্য মানুষেরাও থাকবেন। এখানে মূল কথা হল মানুষ ও প্রযুক্তির মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা।”

জেনারেটিভ এআই প্রোগ্রামগুলোতে বড় ধরনের উন্নতি হচ্ছে। ফলে এগুলো আরও স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে, তথ্য মনে রাখতে ও জটিল বিশ্লেষণ করতে পারবে। যেমন– ভবিষ্যতে শব্দ, ছবি ও ভিডিও নিয়েও এমন সম্ভব হবে। 

প্রযুক্তি দ্রুত এগোচ্ছে উল্লেখ করে ডোগান বলেছেন, ভ্রমণকারী ও পেশাদার উভয়কেই এ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে।

“আমরা আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছি না। তাই কিছু কাজ হারিয়ে গেলেও নতুন নতুন কাজের সুযোগও তৈরি হবে।

“ঠিক যেভাবে ২০ বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পরিচালকদের মতো কোনও পেশা ছিল না তেমনি ভবিষ্যতে কর্মজীবন হবে এআই ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগের ওপর কেন্দ্রীভূত।”