১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নির্বাচনে ডিজিটাল গভর্ন্যান্স অঙ্গীকার নিয়ে গোলটেবিল

আলোচনায় তথ্য সুরক্ষা, প্রাইভেসি, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামোর পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয় উঠে এসেছে।

নির্বাচনে ডিজিটাল গভর্ন্যান্স অঙ্গীকার নিয়ে গোলটেবিল
নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় ইশতেহারে ডিজিটাল নীতির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয় গোলটেবিলে। ছবি: বিআইজিএফ

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Feb 2026, 05:50 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:51 PM

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে ডিজিটাল গভর্ন্যান্স-সংক্রান্ত অঙ্গীকার কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, তা নিয়ে রাজধানীতে একটি গোলটেবিল আলোচনা হয়। আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে ডিজিটাল ভবিষ্যৎ, নাগরিক অধিকার, নীতিগত অগ্রাধিকার এবং বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশের মতো বিষয়।

বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এ আলোচনায় ডিজিটাল অধিকার ও অন্তর্ভুক্তি, সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সংযোগ, তথ্য সুরক্ষা ও প্রাইভেসি, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, উদ্ভাবন ও দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয় উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম বিআইজিএফ আয়োজিত এ গোলটেবিলে শিক্ষক, নীতিনির্ধারক, রাজনীতিবিদ, গবেষক, গণমাধ্যমকর্মী, আইনজীবী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। 

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইজিএফ-এর ভাইস চেয়ারপার্সন মো সাইমুম রেজা তালুকদার।

আলোচনায় বিএনপির তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক একেএম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, দলটি ক্ষমতায় গেলে প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ ও ব্যয়ের অডিট, বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার পর্যালোচনা এবং প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবে। তিনি আরও বলেন, জনগণের অধিকার সুরক্ষায় কিছু নির্দিষ্ট ডিজিটাল সেবা বিনামূল্যে দেওয়ার বিষয় বিবেচনায় থাকতে পারে। পাশাপাশি একটি কেন্দ্রীয় ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া বলেন, আইন ও প্রতিষ্ঠানের অগ্রাধিকার নির্ধারণ জরুরি। তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম জবাবদিহির আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. রকিবুল হক বলেন, ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের বড় অংশ ডেটা গভর্ন্যান্স। ডাটার মালিকানা এবং দেশ থেকে দেশে ডেটা স্থানান্তরের নিরাপত্তা কাঠামো স্পষ্ট থাকা দরকার।

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. খন্দকার এ. মামুন বলেন, দেশের জন্য একটি সমন্বিত এআই নীতি, কৌশল ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো জরুরি। জিনিয়াস ফার্মস লিমিটেডের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইরাদ আলী কৃষি খাতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এআই নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান।

সমাপনী বক্তব্যে বিআইজিএফ চেয়ারপার্সন আমিনুল হাকিম বলেন, উপযুক্ত নীতিমালার অভাবে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগে আগ্রহ দেখায় না। তিনি ইন্টারনেট খাতে রিডানডেন্সি ও সাবমেরিন ক্যাবল অবকাঠামো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন এবং এ বিষয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সরকারের মনোযোগ চেয়েছেন।

বিআইজিএফ-এর নির্বাহী সদস্য শারমিন খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিআইজিএফ চেয়ারপার্সন আমিনুল হাকিম, মহাসচিব মোহাম্মদ আব্দুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. রকিবুল হক, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার এ. মামুন, সাংবাদিক মারুফ মল্লিক, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাক্বো) মহাসচিব ফয়সাল আলিম, ফরেন ইনভেস্টর্স চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ফিকি)-এর নির্বাহী পরিচালক টি আই এম নুরুল কবির, ভিউজ বাংলাদেশের সম্পাদক রাশেদ মেহেদী, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলননের যুগ্ম সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া, বাংলাদেশ উইমেন ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের চেয়ারপার্সন শামিমা আক্তার, বাংলাদেশ ইয়ুথ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের চেয়ারপার্সন সৈয়দা কামরুন জাহান রিপা, জিনিয়াস ফার্মস লিমিটেডের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ও আগ্রাবাদ গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইরাদ আলী, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অফ বাংলাদেশ (পুসাব) –এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জাকারিয়া, সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ পারভেজ আলম, ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেডের চিফ অব গভর্মেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার আব্বাস ফারুক, বিআইজিএফ’র নির্বাহী সদস্য ড. জামিল আহমেদ প্রমুখ।