আইএসএসে গেল ক্রু-১৩: ইতিহাস গড়ে মিশনের নেতৃত্বে কৃষ্ণাঙ্গ নারী
এ দলে এমন একজন কানাডীয় নভোচারীও রয়েছেন। মহাকাশে থাকা অবস্থাতেই যার স্ত্রীর সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা রয়েছে।
নাসার ক্রু-১৩ দলের চার নভোচারী সফলভাবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছেন। উৎক্ষেপণের পর কেবল আট ঘণ্টার দ্রুততম ট্রানজিট শেষে তারা নিরাপদে মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছান।
বৃহস্পতিবার চার নভোচারী মহাশূন্যে পাড়ি জমিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে তাদের মিশনটি চলবে আগামী বসন্তকাল পর্যন্ত।
কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে এ রকেট ছাড়ার মধ্য দিয়ে জেসিকা ওয়াটকিন্স প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে কোনো মহাকাশ মিশনের নেতৃত্ব দেওয়ার ইতিহাস গড়লেন।
পেশায় ভূতত্ত্ববিদ ওয়াটকিন্স এক দশক আগে নাসার মার্স রোভার ‘কিউরিওসিটি’ নিয়ে কাজ করেছিলেন। এর আগে, ২০২২ সালে তিনি দীর্ঘ সময় মহাকাশ স্টেশনে কাটিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে এটা তার দ্বিতীয় যাত্রা।
এ দলে এমন একজন কানাডীয় নভোচারীও রয়েছেন, যে সময়টায় তিনি মহাকাশে থাকবেন, সে সময়েই তার স্ত্রীর সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা রয়েছে।
ক্যাপসুলের ফিউয়েল সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তিন সপ্তাহ পিছিয়ে দিয়ে নাসার এ মিশনটি উৎক্ষেপণ করেছে স্পেসএক্স। এমনকি উৎক্ষেপনের দিন সকালের দিকে ঘন মেঘের কারণে কাউন্টডাউন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলেও শেষ পর্যন্ত আকাশ পরিষ্কার হওয়ায় সফলভাবেই রকেটটি ছেড়ে যায়।
মহাকাশ স্টেশনে তাদের ছয় মাস কাটাতে হবে। তবে, ইলন মাস্কের কোম্পানির জন্য সেখানে পৌঁছানোর পথটি ছিল বেশ দ্রুতগতির, কেবল মাত্র আট ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে ঘুমানোর আগেই তারা গন্তব্যে পৌঁছান।
কক্ষপথে পৌঁছানোর পর রেডিও বার্তায় ওয়াটকিন্স বলেছেন, “অসাধারণ এই যাত্রার জন্য ধন্যবাদ।”
দলের বাকি তিন সদস্যের জন্য মহাকাশ যাত্রা একদমই নতুন অভিজ্ঞতা। তারা হলেন, নাসার সাবেক মেরিন লুক ডিলানি, রয়াল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সের কর্নেল জশুয়া কুট্রিক ও রাশিয়ার সাবেক সাবমেরিনার সার্গেই তেতেরিয়াতনিকভ।
ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান করা চার নভোচারীর স্থলাভিষিক্ত হবেন তারা।
মহাকাশযাত্রার আগে কুট্রিক আনন্দ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “আমরা নিজেদের বিশ্বের অন্যতম ভাগ্যবান মানুষ বলে মনে করছি।”
নাসার জন্য স্পেসএক্সের পাঠানো এটা ত্রয়োদশ মহাকাশ মিশন (২০২০ সালের পরীক্ষামূলক ফ্লাইট বাদ দিয়ে)। চার নভোচারী নিজেদের দলকে ‘ক্রু-১৩’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, যা ঐতিহাসিক ‘অ্যাপোলো ১৩’-এর প্রতি সম্মান জানিয়ে করা।
১৯৭০ সালের সেই চরম বিপদের মুখে পড়া চন্দ্রাভিযানটি শেষ পর্যন্ত নভোচারীদের নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে ওয়াটকিন্স বলেছেন, “আমরা সত্যিই তাদের ঐতিহ্য, সাহসিকতা ও দৃঢ়চেতা মনোভাবকে সম্মান জানাতে চেয়েছি এবং সেই মনোভাবেরই কিছুটা আমাদের সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চেয়েছি।”
উৎক্ষেপণ প্যাডে যাওয়ার সময় তিনি ও তার সহযাত্রীরা ‘লাকি ১৩’ লেখা নম্বর প্লেটওয়ালা কালো রঙের টেসলা গাড়িতে চড়েছিলেন।
এদিকে, মহাকাশে থাকা অবস্থায় বাবা হতে চলা চতুর্থ নভোচারী হতে যাচ্ছেন কুট্রিক। আগামী নভেম্বরের শেষদিকে তার স্ত্রী হিদারের কোলে আসতে চলেছে তাদের তৃতীয় সন্তান।
এই বিশেষ দিনে পুরো পরিবারের পাশে থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি।
উৎক্ষেপণের আগের দিন নাসার ম্যানেজার ডানা ওয়েইগেল বলেছেন, “ছয় মাসের এ দীর্ঘ সময়ে জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে।”
এ সময় তিনি বলেছেন, কুট্রিক যেন নিজের পরিবারের প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন সেজন্য নাসা সাধ্যমতো সব ব্যবস্থা করবে।
এর আগে, ২০০৪ সালে মহাকাশ স্টেশনের নভোচারী মাইক ফিঙ্কে ও তার স্ত্রীর প্রসব কক্ষের মধ্যে রেডিও লিংকের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল নাসা।
এর পাঁচ বছর পর, পরবর্তী বছরের আর্টেমিস থ্রি মিশনের কমান্ডার র্যান্ডি ব্রেসনিকও মহাকাশ থেকেই সরাসরি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন।
তবে ১৯৯১ সালে অস্ট্রিয়ান নভোচারী ফ্রাঞ্জ ভিয়েলবকের ক্ষেত্রে এই সুখবর পৌঁছাতে বেশ কিছুটা দেরি হয়েছিল।
সোভিয়েত ইউনিয়নের মির মহাকাশ স্টেশনে রওনা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই তার কন্যার জন্ম হয়, আর সে খবর তিনি জানতে পারেন তার পরদিন।
