১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

জিপিএস প্রযুক্তির মূল গবেষক গ্ল্যাডিস ওয়েস্ট-এর জীবনাবসান

তার প্রধান কাজ ছিল ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথিবীর আকৃতির নির্ভুল মডেল তৈরি করা।

জিপিএস প্রযুক্তির মূল গবেষক গ্ল্যাডিস ওয়েস্ট-এর জীবনাবসান
লোকেশন দেখার জন্য যে জিপিএস আমরা ব্যবহার করি তার গাণিতিক ভিত্তি ড. ওয়েস্টের হাত ধরেই তৈরি হয়েছিল। ছবি: ড. ওয়েস্টের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে।

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Jan 2026, 10:54 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:36 PM

বর্তমান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি জিপিএস-এর অন্যতম উদ্ভাবক ও বিখ্যাত গণিতবিদ ড. গ্ল্যাডিস ওয়েস্ট-এর জীবনাবসান হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

প্রতিদিনের যাতায়াত বা লোকেশন দেখার জন্য যে জিপিএস আমরা এখন ব্যবহার করি তার গাণিতিক ভিত্তি ড. ওয়েস্টের হাত ধরেই তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট।

তার কাজই আজকের ‘গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম’ বা জিপিএস-এর ভিত্তি তৈরি করেছিল। এখন প্লেন চালানো থেকে শুরু করে জরুরি উদ্ধারকাজ সব খাতের অপরিহার্য অংশ জিপিএস। কারো রাতের খাবারের দাওয়াত বা চাকরির ইন্টারভিউয়ে সঠিক সময়ে পৌঁছাতেও জিপিএসের ভূমিকা রয়েছে।

১৯৩০ সালে ভার্জিনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন গ্ল্যাডিস মে ওয়েস্ট। সেই সময়ে আমেরিকার দক্ষিণে ‘জিম ক্রো’ বা বর্ণবৈষম্য আইনের কঠোর শাসন ও নিপীড়ন থাকার পরও  ভার্জিনিয়া স্টেট কলেজ (বর্তমানে ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি) থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন তিনি।

সেখান থেকে গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে ১৯৫৬ সালে ‘নেভাল সারফেস ওয়ারফেয়ার সেন্টারে কাজ শুরু করেছিলেন ওয়েস্ট। প্রতিষ্ঠানটির এখনকার অবস্থান ভার্জিনিয়ার ডাহলগ্রেনে।

তার প্রধান কাজ ছিল ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথিবীর আকৃতির নির্ভুল মডেল তৈরি করা। কাজটি ছিল বেশ জটিল, যেখানে এমন সব গাণিতিক হিসাব-নিকাশ কষতে হত, যা সাধারণ মানুষের মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

ড. ওয়েস্টের তৈরি করা সেসব মডেলই পরবর্তীতে জিপিএসের মূল ভিত্তি বা মেরুদণ্ড হয়ে ওঠে। ডাহলগ্রেন সেন্টারে ৪২ বছর কাজ করার পর ১৯৯৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বড় বড় অর্জনের পেছনে থাকা অনেক নারী, বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল ড ওয়েস্টের বেলাতেও তাই হয়েছে। কয়েক দশক ধরে তার এ অসামান্য কাজ অনেকটা প্রচারের বাইরেই ছিল।

২০১৮ সালে এক নারী সংগঠনের অনুষ্ঠানে নিজের অর্জনের ওপর এক ছোট জীবনী জমা দেন ড. ওয়েস্ট। এরপর তাকে তার প্রাপ্য স্বীকৃতি পাইয়ে দিতে সাহায্য করেন ‘আলফা কাপা আলফা’র সদস্যরা।

সেই বছরই তাকে ‘ইউএস এয়ার ফোর্স স্পেস অ্যান্ড মিসাইল পায়োনিয়ার্স হল অফ ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত করে তাকে বছরের সেরা সাবেক নারী শিক্ষার্থীর সম্মাননাও দেওয়া হয়।

২০২০ সালে ড. ওয়েস্টের এক সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান, যেখানে তার জীবনযাপন পদ্ধতির কিছু দিকের দেখা মেলে। যেমন বাইরে বের হলে নিজের হাতে তৈরি করা প্রযুক্তির চেয়ে কাগজের মানচিত্র ব্যবহার করতেই বেশি পছন্দ করতেন তিনি।