২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

নয়েজ ক্যানসেলেশন হেডফোন কি জরুরি? এর সুফল ও কুফল কী?

কফি শপের গুঞ্জন বা বাইরের যন্ত্রপাতির কোলাহল থামিয়ে দেওয়ার সুবিধাটি স্পষ্ট হলেও এএনসির কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে, যা হয়ত অনেকের অজানা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 21 Sep 2026, 11:38 AM

Updated : 21 Sep 2026, 11:38 AM

বর্তমানে মানুষের নিত্যসঙ্গী স্মার্টফোনের মতোই হেডফোন বা ইয়ারফোনগুলোও পরিচিত ডিভাইস। কর্মক্ষেত্রে, বাসে, ঘরে বা শরীরচর্চার সময় সবখানেই এর ব্যবহার দেখা যায়।

‘ওভার-ইয়ার’ বা ‘ইন-ইয়ার’ যে কোনো ধরনেই হোক না কেন হেডফোন এখন কেবল গান শোনার স্পিকারের চেয়েও বেশি কিছু হয়ে উঠেছে।

‘এয়ারপডস প্রো ৩’-এর মতো আধুনিক ও উন্নত মডেলগুলোতে রয়েছে ‘অ্যাকটিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন’ বা এএনসি প্রযুক্তি, যা আশপাশের কোলাহল বা বিরক্তিকর শব্দ ঠেকিয়ে কানে আসা শব্দে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে দারুণ কার্যকর বলে প্রতিবেদনে লিখেছৈ প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

অনেক ব্যবহারকারীর কাছেই সেরা হেডফোনের ক্ষেত্রে এএনসি এখন জরুরি ফিচার। কফি শপের গুঞ্জন বা বাইরের যন্ত্রপাতির কোলাহল থামিয়ে দেওয়ার সুবিধাটি স্পষ্ট হলেও এএনসির কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে, যা হয়ত অনেকের অজানা।

নয়েজ ক্যানসেলেশন যেভাবে কাজ করে

এএনসি প্রযুক্তিটিকে জাদুকরী মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে পদার্থবিজ্ঞানের জটিল সমীকরণ। প্রযুক্তিটি কয়েক দশক ধরে থাকলেও ভোক্তা পর্যায়ের হেডফোন ও ইয়ারবাডে এর জনপ্রিয়তা বেশ কিছুদিন ধরে বাড়ছে।

ইয়ারফোনে থাকা একাধিক মাইক্রোফোনের সাহায্যে এটা চালিত হয়। এসব মাইক্রোফোন সবসময় আশপাশের পরিবেশের শব্দ, যেমন গাড়ির আওয়াজ, মানুষের কথা বা শিশুর কান্নার শব্দ পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।

বিজ্ঞানের নিয়ম অনুসারে, প্রতিটি শব্দই কম্পনের মাধ্যমে তৈরি তরঙ্গ ও সেই কম্পনের নির্দিষ্ট মান বা ফ্রিকোয়েন্সি রয়েছে। যখন দুটি বিপরীতমুখী তরঙ্গ একে অপরের মুখোমুখি হয় তখন এরা একে অপরকে বাতিল করে, যাকে বলে ‘ডেস্ট্রাকটিভ ইন্টারফিয়ারেন্স’।

এএনসি প্রযুক্তিটি মাইক্রোফোনের মাধ্যমে আশপাশের অডিও ধারণ করে তা বিশ্লেষণ করে ও এরপর বিপরীতমুখী সিগনাল বা তরঙ্গ তৈরি করে। ফলে মূল শব্দ ও বিপরীত তরঙ্গটি মিলে বাইরের বেশিরভাগ শব্দকে আটকে দেয়।

তবে এ পুরো প্রক্রিয়াটি মিলি সেকেন্ডের মধ্যে হিসাব করার জন্য হেডফোনে শক্তিশালী এক চিপের প্রয়োজন। কারণ সামান্য বিলম্ব বা দেরি পুরো অভিজ্ঞতাই নষ্ট করে দিতে পারে।

এ কারণে এএনসিওয়ালা হেডফোন ও ইয়ারবাডের দাম কিছুটা বেশি এবং ‘প্যাসিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন’ ডিভাইস থেকে এগুলো আলাদা। প্যাসিভ ক্যানসেলেশন কেবল ইয়ারকাপ বা ইয়ারবাডের মাধ্যমে কানের শারীরিক বিচ্ছিন্নতার ওপর নির্ভর করে।

অ্যাকটিভ নয়েজ ক্যানসেলেশনের সুফল ও কুফল

অ্যাকটিভ নয়েজ ক্যানসেলেশন বা এএনসি প্রযুক্তিওয়ালা হেডফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে পুরনো অভ্যাসে ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দৈনন্দিন জীবনে এর যেমন রয়েছে নানাবিধ সুফল তেমনই রয়েছে কিছু কুফলও।

সুফল

●     প্লেনের দীর্ঘ যাত্রায় বা আশপাশের বিরক্তিকর কোলাহল দূর করতে এএনসি প্রযুক্তি কার্যকর।

●     বাইরের শব্দ ভেদ করে শুনতে হয় না বলে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ছাড়াই গানে বা মুভিতে আরও বেশি নিখুঁত সুর ও শব্দ উপভোগ করা যায়।

●     বাইরের শোরগোল এড়াতে কানের ভলিউম বাড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। ফলে উচ্চ শব্দের কারণে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

●     ফোন কলে অপর প্রান্তের ব্যক্তিকে স্পষ্ট শোনা যায়। গান না শুনেও কেবল নীরবতা ধরে রেখে পড়াশোনা বা কাজে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে এটা সহায়ক।

●     অতিরিক্ত বাহ্যিক উদ্দীপনায় বিরক্ত হন এমন ব্যক্তিদের জন্য এএনসি বেশ উপকারী। অনেকে ঘুমানোর সময়ও এএনসি ইয়ারবাড ব্যবহার করেন।

কুফল

●     এএনসি প্রযুক্তি প্লেন বা এয়ারপন্ডিশনারের মতো নিচু ও অবিরাম শব্দের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তবে হর্ন বা মানুষের চিৎকারের মতো হঠাৎ জোরালো শব্দের ক্ষেত্রে এটা ততটা কার্যকর নয়।

●     নির্দিষ্ট কিছু মডেলের ক্ষেত্রে এএনসি চালুর ফলে অডিও কোয়ালিটি কিছুটা কমে যেতে পারে। আবার অনেক ব্যবহারকারী কান ব্যথার অভিযোগও করেন।

●     আশপাশের জগৎ থেকে অতিরিক্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কারণে রাস্তা পার হওয়া বা সাইকেল চালানোর মতো অতিরিক্ত মনোযোগের পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

●     এএনসি চালু রেখে আশপাশের মানুষের সঙ্গে কথা বলা বেশ কঠিন। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটা মস্তিষ্কের ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ ফিল্টার করার সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ সমস্যার সমাধানে অনেক হেডফোনে ট্রান্সপারেন্সি মোডের মতো হাইব্রিড মোড রাখা হয়।

●     এএনসি ফিচারটি চালু রাখলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়। সারাদিন ব্যাকআপ পেতে অনেকে ফিচারটি বন্ধ রাখলেও নীরবতার বিনিময়ে ব্যাটারি খরচ মেনে নেন।