Published : 01 Nov 2025, 04:20 PM
চিপ নির্মাতা কোম্পানি এনভিডিয়া এবং স্যামসাং ইলেকট্রনিকস যৌথভাবে সেমিকন্ডাক্টর এআই ফ্যাক্টরি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই ফ্যাক্টরি ৫০ হাজারেরও বেশি এনভিডিয়া জিপিইউ ব্যবহার করবে।
কোম্পানি দুটি বলছে, এ ফ্যাক্টরি তৈরির লক্ষ্য স্যামসাংয়ের উন্নত সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি ও এনভিডিয়ার এআই প্ল্যাটফর্ম একত্র করে এআই-নির্ভর উৎপাদন অবকাঠামো গড়ে তোলা।
এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নতমানের চিপ নির্মাণ, মোবাইল ডিভাইস ও রোবোটিকসের জন্য ‘এজেন্টিক ও ফিজিক্যাল এআই’ অ্যাপ্লিকেশন দ্রুততর গতিতে চালানো সম্ভব হবে।
দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট বলছে, তাদের মধ্যে অংশীদারিত্বের সম্পর্ক ২৫ বছরেরও বেশি পুরোনো। এই সহযোগিতা শুরু হয়েছিল এনভিডিয়ার প্রথম গ্রাফিক্স কার্ডের জন্য স্যামসাংয়ের ‘ডির্যাম’ সরবরাহের মধ্য দিয়ে।
পরে এই অংশীদারিত্ব ‘এইচবিএম৩ই’ ও ‘এইচবিএম৪’ সরবরাহ পর্যন্ত গড়ায়। নতুন এআই ফ্যাক্টরি তৈরির উদ্যোগের মাধ্যমে এই জোট এখন মেমরি ও কাস্টম সলিউশন থেকে ফাউন্ড্রি সার্ভিস, এআই ও রোবোটিকসের দিকে হাঁটছে।
এনভিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেনসেন হুয়াং বলেন, “আমরা এখন এআই শিল্পবিপ্লবের শুরুতে দাঁড়িয়ে আছি। এটি এক নতুন যুগের সূচনা যা বিশ্বজুড়ে ডিজাইন, নির্মাণ ও উৎপাদন পদ্ধতিকে বদলে দেবে।
“কোরিয়ার অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং এনভিডিয়ার সঙ্গে মিলে বুদ্ধিমান ও স্বয়ংক্রিয় উৎপাদনের নতুন ভিত্তি গড়ে তুলছে।”
স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের নির্বাহী চেয়ারম্যান জে ওয়াই লি বলেন, “নতুন এআই যুগে এনভিডিয়া পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে।
“১৯৯৫ সালে এনভিডিয়ার প্রথম গ্রাফিক্স কার্ডের জন্য আমাদের ‘ডির্যাম’ সরবরাহ থেকে শুরু করে আজকের এআই ফ্যাক্টরি পর্যন্ত এই দীর্ঘ সহযোগিতা আমাদের জন্য গর্বের। আমরা একসঙ্গে ভবিষ্যতের নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে চাই।”
প্রযুক্তি সাইট নিওউইন লিখেছে, এই নতুন এআই ফ্যাক্টরিতে এনভিডিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্যামসাং কয়েকটি বড় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আনতে যাচ্ছে।
প্রথমেই বলা যায়, কম্পিউটেশনাল লিথোগ্রাফি বা চিপে সার্কিটের নকশা তৈরি করার প্রক্রিয়ায় স্যামসাং এক বড় পরিবর্তন আনছে। তারা তাদের নিজস্ব ‘ওপিসি’ প্ল্যাটফর্মে এনভিডিয়ার কু-লিথো লাইব্রেরি যুক্ত করছে। এই প্রযুক্তি চিপ ডিজাইনের জটিল গাণিতিক হিসাবকে দ্রুততর করবে। এর ফলে স্যামসাংয়ের পারফরম্যান্সে আগের তুলনায় ২০ গুণ বেশি গতি আসবে।
এ ছাড়া, স্যামসাং ‘এনভিডিয়া ওমনিভার্স’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাদের বিশ্বজুড়ে থাকা চিপ কারখানার ‘ডিজিটাল টুইন’ তৈরি করছে। ‘ডিজিটাল টুইন’ বলতে বোঝায় বাস্তব কোনো কারখানা বা মেশিনের একদম হুবহু ভার্চুয়াল প্রতিরূপ। সেখানে সব কাজ ও যন্ত্রপাতি অনলাইনে দেখা ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
‘ডিজিটাল টুইন’-এর ফলে কোনো সমস্যা বা ত্রুটি আগে থেকেই বোঝা যাবে, ডিজাইন থেকে উৎপাদন পর্যন্ত সময় অনেক কমবে এবং এআই-চালিত পূর্বাভাসমূলক রক্ষণাবেক্ষণ ও রিয়াল-টাইম সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে। চিপ উৎপাদনের কাজ আরও দ্রুত, নির্ভুল ও স্বয়ংক্রিয় হবে।
চিপ ডিজাইন ও যাচাইয়ের কাজেও স্যামসাং এনভিডিয়া জিপিইউ ব্যবহার করছে। তারা সিইউডিএ-এক্স নামের এনভিডিয়ার একটি বিশেষ সফটওয়্যার লাইব্রেরিকে সিনপসিস, কেইডেন্স ও সিমেন্স টুলের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করছে। এতে সার্কিট সিমুলেশন, যাচাই ও উৎপাদন বিশ্লেষণ আগের চেয়ে অনেক দ্রুত করা যাচ্ছে।
এর পাশাপাশি, স্যামসাং এনভিডিয়া আরটিএক্স প্রো সার্ভার, এনভিডিয়া আইজ্যাক সিম এবং এনভিডিয়া জেটসন থর প্রযুক্তি ব্যবহার করে বুদ্ধিমান রোবোটিক্স উন্নয়ন করছে।
এই রোবোটিক প্রযুক্তি মূলত উৎপাদন প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করার পাশাপাশি হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিতেও ব্যবহার করা হবে।
সবশেষে, এই এআই ফ্যাক্টরি বুদ্ধিমান লজিস্টিকস এবং অপারেশন পরিকল্পনা আরও দ্রুত ও কার্যকর করবে।
স্যামসাং ও এনভিডিয়া আশা করছে, এই প্রকল্প সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে এক নতুন যুগের সূচনা করবে যেখানে চিপ তৈরি থেকে শুরু করে রোবোটিকস পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।