পৃথিবীর কেন্দ্রে রয়েছে তরল লোহা ও নিকেল। এই দুই ধাতুর কারণেই তৈরি হয়েছে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র, যা এর ওপরের অংশের গতিবিধি থেকে তৈরি হয়।
Published : 29 May 2024, 06:45 PM
পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সরে যাওয়ার ঘটনা মেরু অঞ্চলের গতিবিধিতেও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
পৃথিবীর কেন্দ্রে রয়েছে তরল লোহা ও নিকেল। এই দুই ধাতুর কারণেই তৈরি হয়েছে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র। যা এর ওপরের অংশের গতিবিধি থেকে তৈরি হয়, তা মানুষকে ক্ষতিকারক সৌর বিকিরণ থেকে রক্ষা করে থাকে।
এ চৌম্বক ক্ষেত্র উত্তর থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে, এটি কোনো একক জায়গায় স্থির নয়। সৌর বায়ুর দৈনিক পরিবর্তন ও আকস্মিক সৌর ঝড়ের কারণে এর অবস্থানও বদলায়।
চৌম্বক ক্ষেত্রের এই অস্থিরতা বিভিন্ন স্যাটেলাইট, প্লেন, জাহাজ এমনকি গাড়ির ন্যাভিগেশন সিস্টেমেও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যেগুলো সাধারণত নির্ভর করে থাকে ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের বিভিন্ন মডেলের ওপর।
ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের বিভিন্ন মডেলে ভিন্নতা দেখা যায় মূলত এর ডেটা কোথা থেকে সংগৃহীত হয়েছে তার ভিত্তিতে। উদাহরণ হিসেবে, ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি বা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ডেটা। তবে আগের ধারণা ছিল, এইসব মডেলে এমন ভিন্নতার মূল কারণ মহাকাশের আবহাওয়া।
তবে, ‘জার্নাল অফ জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: স্পেস ফিজিক্স’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, কেবল ভূ-পদার্থগত ঘটনাই নয়, এ ধরনের অসঙ্গতির কারণ হতে পারে খোদ মডেলের ত্রুটিও।
‘ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান’-এর ওই গবেষণা দলটি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পরিচালিত ‘সোয়ার্ম’ মিশনের বিভিন্ন স্যাটেলাইটের ডেটার সঙ্গে ‘ইন্টারন্যাশনাল জিওম্যাগনেটিক রেফারেন্স ফিল্ড (আইজিআরএফ-১৩)’ মডেলের তুলনা করেছে, যা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের অনুমান করে থাকে।
এজন্য গবেষকরা চৌম্বক ক্ষেত্রের নিম্ন থেকে মাঝারি ভূ-চৌম্বকীয় অবস্থার দিকে মনযোগ দেন, যার ৯৮.১ শতাংশই ঘটেছে ২০১৪ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে। এতে তারা স্যাটেলাইটের পর্যবেক্ষণ ও আইজিআরএফ-১৩ মডেলে বড় পার্থক্য খুঁজে পেয়েছেন।
চৌম্বক ক্ষেত্রের এমন ওঠানামার সময় স্যাটেলাইটের ডেটা অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এর কারণ, আইজিআরএফ-১৩ মডেলটি প্রাথমিকভাবে ভূপৃষ্ঠের তথ্য পর্যবেক্ষণ করলেও সৌর ঝড়ের প্রভাব পুরোপুরি বিশ্লেষণ করে না। মডেলটি মূলত পৃথিবীর চৌম্বক মেরুর গতিবিধি পরিবর্তনের বিষয়টি শনাক্ত করে থাকে। যেমন– প্রতি বছর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে চলে যায় উত্তর মেরু।
পৃথিবীর চৌম্বকমণ্ডল, আয়নোস্ফিয়ার ও থার্মোস্ফিয়ারের ওপর স্যাটেলাইট অভিযান ও গবেষণা করার ক্ষেত্রে এইসব পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, মডেলের এইসব অসঙ্গতি মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর মূল কারণ, উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর মধ্যে অসমতা।
“আমরা অনেক সময় ধরে নেই, উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের চৌম্বক ক্ষেত্র প্রায় সমান, কিন্তু তারা আসলে ভিন্ন,” বলেছেন ‘ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান’-এর সহকারী গবেষণা বিজ্ঞানী ও এ গবেষণার প্রধান লেখক ইয়িং শি।