Published : 12 Sep 2026, 03:10 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলের অপব্যবহার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সম্ভাব্য জৈবিক অস্ত্র গবেষণার সঙ্গে জড়িত একাধিক বিজ্ঞানীর তৎপরতা সফলভাবে ঠেকিয়েছে অ্যানথ্রপিক।
মার্কিন এআই কোম্পানিটি বলেছে, তাদের এআই মডেল ব্যবহার করে সম্ভাব্য জৈবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার সঙ্গে জড়িত একাধিক গবেষককে শনাক্ত করে তা ঠেকিয়ে দিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার প্রকাশ পাওয়া নতুন এক প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিক বলেছে, এআই অপব্যবহারের বিভিন্ন রূপের মধ্যে ‘জৈবিক অপব্যবহার’ প্রধান উদ্বেগের বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ে ‘ফেইবল ফাইভ’-এর মতো নতুন ও উন্নত মডেল বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পারদর্শী হয়ে ওঠায় এ ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
কোম্পানিটির প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিকের বিভিন্ন এআই মডেলকে জৈবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারের পাঁচটি ঘটনা, যেসব নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে বিষয়টি ধরা পড়েছিল, সেগুলো ও গৃহীত পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
অ্যানথ্রপিক বলেছে, এ ধরনের সম্ভাব্য অপব্যবহার শনাক্ত করা কঠিন। কারণ, নতুন টিকার ওপর গবেষণা ও কোনো জৈবিক অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়ার ধরন অনেকটা একই রকম মনে হতে পারে।
তবে, সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতির কথা মাথায় রেখে কোম্পানিটি প্রতিটি ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
অ্যানথ্রপিকের ‘থ্রেট ইন্টেলিজেন্স’ প্রধান জ্যাকব ক্লেইন বলেছেন, “এমন পরিস্থিতিতে কমিক বইয়ের খলনায়কদের মতো কেউ বলেন না যে, ‘আমি সবাইকে মেরে ফেলার জন্য একটা জৈবিক অস্ত্র বানাতে চাই।’ এসব পরিস্থিতি সূক্ষ্ম ও জটিল।”
অ্যানথ্রপিকের একটি ঘটনায় দেখা গেছে, মে মাসে তাদের ‘বায়োলজিক্যাল সেইফটি ক্লাসিফায়ার’ চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের ওপর ‘গেইন-অফ-ফাংশন’ গবেষণার জন্য একটি অনুদান বা গ্রান্টের আবেদন লেখার অনুরোধ চিহ্নিত করেছে।
কোম্পানিটি বলেছে, এ ভাইরাসের কোনো অনুমোদিত চিকিৎসা নেই এবং তা সপ্তাহ বা মাসব্যাপী মারাত্মক উপসর্গ তৈরি করতে পারে।
গেইন-অফ-ফাংশন গবেষণায় কোনো জীবের জিনগত পরিবর্তনের বিভিন্ন পদ্ধতি খতিয়ে দেখা হয় এবং এ নির্দিষ্ট ভাইরাসের ক্ষেত্রে, প্রস্তাবিত গবেষণায় এর সংক্রমণ সক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল।
এ ধরনের সংমিশ্রণ ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় অ্যানথ্রপিক বলেছে, প্রস্তাবিত গবেষণাটি সামরিক এক গবেষণা কোম্পানির সঙ্গে যোগ থাকায় বিষয়টি আরও সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।
অ্যানথ্রপিক বলেছে, বার্ড ফ্লু বা ‘এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার’-এর ওপর গেইন-অফ-ফাংশন গবেষণা এবং বিষাক্ত পেপটাইডের অ্যাটলাস ও ‘বিষের বৈশিষ্ট্য অপ্টিমাইজের জন্য জেনারেটিভ পাইপলাইন’ তৈরি করতে একজন গবেষকের ক্লড ব্যবহারের ঘটনায় আপত্তি জানায়।
পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে অ্যানথ্রপিকের বিভিন্ন মডেলকে নজরদারি টুল হিসেবে ব্যবহার করা এবং সফটওয়্যার এক্সপ্লয়েট, প্রপাগান্ডা ও অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরির অন্যান্য ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অ্যানথ্রপিকের ভাষ্য, ক্লড বা অ্যানথ্রপিক মডেলের অপব্যবহারকারী ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং মডেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে ও ভবিষ্যতে এ ধরনের অপব্যবহার ঠেকাতে এসব তদন্তের ফলাফল কাজে লাগানো হচ্ছে।
জৈবিক অপব্যবহারের জটিল প্রকৃতির কথা মাথায় রেখে সম্ভাব্য জৈবিক অস্ত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তি বা কোম্পানির নাম প্রকাশ করেনি অ্যানথ্রপিক।
“এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পেশাদার বিজ্ঞানী। আমরা দাবি করছি না যে, তাদের কোনো ক্ষতিকর উদ্দেশ্য ছিল, বরং তাদের বা তাদের গবেষণাগারের পরিচয় প্রকাশ করলে তারা নিজেরাই ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।”