Published : 28 Aug 2025, 09:38 PM
সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদনে লিখেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সব ধরনের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে স্মার্টফোন ও অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইস নিষিদ্ধ করেছেন দেশটির আইন প্রণেতারা। আইনটি ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হচ্ছে।
আইনটি কেবল ক্লাস চলাকালীন শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ও স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। আইনের আওতায় কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তির বিধান নেই। তবে এ আইনে স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের ফোন বহন বা ব্যবহার বন্ধের ক্ষমতা পেয়েছেন শিক্ষকরা।
আইন অনুসারে জরুরি পরিস্থিতিতে ও শিক্ষামূলক কাজে শিক্ষার্থীদের জন্য স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ থাকছে বলেও প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট।
দক্ষিণ কোরিয়ার বেশিরভাগ স্কুলই ২০২৩ সালে নেওয়া বিভিন্ন নির্দেশিকার মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে স্মার্টফোন ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল। তবে নতুন আইনটি দেশটির পার্লামেন্টে পাস হয়েছে। ফলে এখন কেবল কিছু স্কুলের জন্য নয়, বরং পুরো দক্ষিণ কোরিয়ার সব স্কুলের জন্যই তা বাধ্যতামূলক হয়ে গেল।
সরকারের ২০২৪ সালের এক জরিপে উঠে এসেছে, নিজেদের স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না দেশের প্রায় এক চতুর্থাংশ মানুষ। তবে তারা বোঝেন যে, বিষয়টি তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক জীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আর শিশু ও টিনএজারদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ শতাংশে।
তবে এ আইনের বিরোধী পক্ষও রয়েছেন। এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, এ আইন “শিক্ষার্থীদের মৌলিক সংবিধানিক অধিকার যেমন যোগাযোগের স্বাধীনতা, প্রাইভেসি রক্ষা ও সুখী হওয়ার অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।”
দক্ষিণ কোরিয়াই একমাত্র দেশ নয়, যারা এমন সিদ্ধান্ত নিল। ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, চীনসহ আরও অনেক দেশ স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহারের ওপর বিভিন্ন স্তরের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রও একই পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে সেটি পুরো দেশের জন্য নয়, বরং আলাদা আলাদা অঙ্গরাজ্যের স্তরে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মোট ১৪টি অঙ্গরাজ্যে স্কুলে ক্লাস চলাকালীন স্মার্টফোন ব্যবহারে কঠোর নিয়ম রয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যের মধ্যে রয়েছে নিউ ইয়র্ক, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া ও সাউথ ক্যারোলাইনা।