Published : 16 Oct 2025, 12:34 PM
‘মানসিক সুস্থতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই’ নিয়ে এক বিশেষজ্ঞ দল তৈরি করেছে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই।
এ দলের বিশেষজ্ঞরা দেখবেন এআই প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এবং কীভাবে এআইকে আরও নিরাপদ ও সহায়কভাবে ব্যবহার করা যায় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট।
বুধবার এক ঘোষণায় ওপেনএআই বলেছে, ব্যবহারকারীদের মানসিক ও আবেগ সংশ্লিষ্ট সুস্থতা নিয়ে কাজের জন্য এক পরামর্শক পরিষদ বা বিশেষজ্ঞ দল গঠন করছে তারা।
‘এক্সপার্ট কাউন্সিল অন ওয়েলবিয়িং অ্যান্ড এআই’ নামের এই পরিষদে মোট আটজন গবেষক ও বিশেষজ্ঞ থাকবেন। প্রযুক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের সংযোগ নিয়ে কাজ করছেন তারা। এর আগে এসব সদস্যের মধ্যে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ওপেনএআইয়ের অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ ফিচার তৈরিতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এআই কোম্পানির জন্য নিরাপত্তা ও তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য সুরক্ষা বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কিছু মামলায় অভিযোগ উঠেছে, এআই চ্যাটবটের সঙ্গে নিজেদের পরিকল্পনা শেয়ার করার পর আত্মহত্যা করেছে টিনএজাররা এবং এসব ঘটনায় বিভিন্ন এআই কোম্পানির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ের এ নতুন পরিষদ মূলত কোম্পানিটির বিভিন্ন প্রযুক্তি যেন মানসিকভাবে নিরাপদ ও সহায়ক হয়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করবে।
এমন পদক্ষেপ কোম্পানিটির জন্য বুদ্ধিমান সংযোজন বলে মত প্রকাশ করেছেন অনেকে। তবে কোনো পরামর্শক পরিষদ তখনই কার্যকর হয় যখন কোম্পানিটি সত্যিই তাদের পরামর্শ শোনেন।
এনগগ্যাজেট লিখেছে, অতীতে আমরা দেখেছি অনেক প্রযুক্তি কোম্পানি পরামর্শক পরিষদ গঠন করলেও পরে তাদের মতামত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যার অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটা।
বুধবারের ঘোষণায় ওপেনএআই নিজেও বলেছে, এ নতুন পরিষদের হাতে প্রকৃত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই।
কোম্পানিটির বক্তব্য অনুসারে, “আমাদের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের জন্য আমরাই দায়ী থাকব। তবে নতুন এই পরিষদ, গ্লোবাল ফিজিশিয়ান নেটওয়ার্ক, নীতিনির্ধারক ও অন্যান্য উৎস থেকে শিখতে থাকব আমরা, যেন আমাদের উন্নত বিভিন্ন এআই সিস্টেম মানুষের কল্যাণে কাজ করে।”
ওপেনএআইয়ের এমন বক্তব্যের মানে, পরিষদটি কেবল পরামর্শ দেবে, সিদ্ধান্ত নেবে না। ফলে কোম্পানিটি নিজেদের এ প্রচেষ্টাকে কতটা গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে, তা বোঝা যাবে তখনই যখন কোনো বিষয়ে তাদের পরিষদের সঙ্গে মতভেদ তৈরি হবে।
এমন পরিস্থিতিই বলে দেবে ওপেনএআই কি সত্যিই এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে আন্তরিক, নাকি এই পরিষদ কেবল লোক দেখানোর এক প্রচেষ্টা।