Published : 28 Jul 2026, 03:19 PM
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চটকদার ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে লাইসেন্সবিহীন প্রতারক চক্র কিংবা মধ্যস্বত্বভোগীদের কবলে না পড়ে সরাসরি অনুমোদিত এজেন্সির ব্যাংক হিসাবে আর্থিক লেনদেন করার অনুরোধ জানিয়েছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।
হজ ও উমরাহ মেলা এবং আগামী বছরের হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে মঙ্গলবার রাজধানীর নয়া পল্টনের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার এই অনুরোধ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “বর্তমানে হজ ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোভনীয় ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে লাইসেন্সবিহীন বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা এবং বিভিন্ন সেলিব্রেটি বা সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিগত ইমেজ ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে হজযাত্রী সংগ্রহ করছেন।”
এতে হজযাত্রীরা প্রতারিত হচ্ছেন তুলে ধরে সবাইকে লাইসেন্সের মালিকানা যাচাই করে নিবন্ধিত এজেন্সিগুলোতে হজের নিবন্ধন করার আহ্বান জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে হাবের মহাসচিব বলেন, “গত বছর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে লাইসেন্সবিহীন বিভিন্ন ব্যক্তি, সংস্থা যে বিজ্ঞাপন দিয়ে হজযাত্রী সংগ্রহ করার বিষয়গুলো ছিল, সেগুলো আমরা লিখিত আকারে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দাখিল করেছি।
“তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ”
সৌদি সরকারের নতুন হজ নীতিমালার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “২০২৫ সালের হজের রোডম্যাপ, ক্যাটারিং সার্ভিস বাধ্যতামূলক, ডি ক্যাটাগরি সার্ভিস প্রত্যাহারসহ অনেক নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা কার্যকর হলে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যে হজ পালন করা কঠিন ও কষ্টসাধ্য হবে।
“আমরা বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলেছি এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আপনাদের মাধ্যমে অনুরোধ করছি।”
হজ ব্যবস্থাপনার খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফরিদ আহমেদ বলেন, “সৌদি সরকারের মনোভাব হচ্ছে, যার সামর্থ্য নাই তার হজে আসার দরকার নাই। সেই কারণে তারা এই বছর যে ডি ক্যাটাগরি সার্ভিসটি আমরা নিয়ে থাকতাম, সেটি এবার প্রত্যাহার করেছে। যার কারণে সার্ভিস আপডেট করার কারণে সৌদি পর্বে ৬৬ হাজার টাকা খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।
“বাংলাদেশের আমাদের সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, যে খরচ কমিয়েছেন, সেটি সমন্বয় করার পরও দৃশ্যমানভাবে হজের খরচটি একটু বেশি মনে হচ্ছে, তবে সেটি আগের তুলনা করলে, খরচ অনেক কমেছে।”
হজ এজেন্সির তালিকা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার বলেন, “আমাদের দুটি তালিকা ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। আজকের মধ্যেও আরেকটা তালিকা হবে এবং আরও দুই-তিনটা তালিকা আস্তে আস্তে হবে।
“আমাদের ২০ লাখ টাকা জামানত ছিল, সেখান থেকে অনেকে ১০ লাখ টাকা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। সেই টাকা দিতে দেরি হওয়ার কারণে কিছু কিছু এজেন্সি তালিকাভুক্ত হয় নাই। সেই টাকাগুলো ধর্ম মন্ত্রণালয়কে আমাদের এজেন্সিগুলো আস্তে আস্তে পরিশোধ করছে। আশা করি, আগামী পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে এই তালিকাগুলো চলে আসবে।”