Published : 06 Sep 2026, 04:58 PM
যুক্তরাষ্ট্রের দুই সংবাদ প্রকাশনা যৌথভাবে ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সংবাদমাধ্যম দুটির অভিযোগ, তাদের সাংবাদিকতার লেখা ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পেওয়াল এড়িয়ে নিবন্ধ সংগ্রহ করেছে কোম্পানি দুটি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় সিয়াটল টাইমস ও নিউজডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এমন একটি ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা মূল সংবাদ প্রতিবেদনের বিকল্প তৈরি করে পাঠককে সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটে আসা থেকে বিরত রাখছে। তাদের ভাষায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো “নিজের লেজ নিজেই খাওয়া একটি সাপ”।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পেওয়াল এড়িয়ে সংবাদ নিবন্ধগুলো পদ্ধতিগতভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগটি শুধু সংগৃহীত তথ্য দিয়ে কী করা হয়েছে তা নিয়ে নয়, তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, সেটিও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সংবাদমাধ্যম দুটির দাবি, এর ফলে পাঠকদের সামনে মূল প্রতিবেদনের বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বিকল্প হাজির হচ্ছে। এতে তাদের ওয়েবসাইটে পাঠকের যাতায়াত এবং ডিজিটাল বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমছে।
এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলো ভুল তথ্য তৈরি করে সিয়াটল টাইমস ও নিউজডের নামে তা প্রকাশ করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। নিবন্ধ থেকে কপিরাইট ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত তথ্য সরিয়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।
এই দুই সংবাদমাধ্যমের মামলা কপিরাইট নিয়ে ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে চলমান মামলার তালিকায় নতুন সংযোজন। এর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমস দুই কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। আরও প্রায় চারশ স্থানীয় সংবাদপত্রও একই ধরনের আইনি লড়াইয়ে রয়েছে। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ভক্স মিডিয়ার মতো কিছু কোম্পানি ওপেনএআইয়ের কাছে নিজেদের আর্কাইভের লাইসেন্স দিয়েছে।
মামলা দায়েরের সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। একই দিনে মাইক্রোসফট একই আদালতের কাছে অভিযোগগুলোর ভিত্তি হিসেবে থাকা দুটি তত্ত্ব খারিজের আবেদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে লাইসেন্স বাবদ আয় হারানো এবং বাজারে পণ্যের মূল্য কমে যাওয়ার অভিযোগ।
চারটি অভিযোগের মধ্যে পেওয়াল এড়িয়ে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগটির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক নীতিমালায় কার্যকর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এড়িয়ে প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধতা ভাঙা থেকে বিরত থাকার বিষয়টি রয়েছে। সেখানে সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থা ও পেওয়ালের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নীতিমালার কপিরাইট বিষয়ে স্বাক্ষরকারীদের এমন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এড়িয়ে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়, যেগুলো অনলাইন কনটেন্টে প্রবেশাধিকার সীমিত করে। এ ক্ষেত্রে ২০০১ সালের কপিরাইট নির্দেশিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
একই অধ্যায়ে ওয়েব থেকে তথ্য সংগ্রহকারী সফটওয়্যারকে রোবটস.টিএক্সটি ফাইল পড়া ও তা অনুসরণ করার নির্দেশ রয়েছে। আদালত বা সরকারি কর্তৃপক্ষ বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে ধারাবাহিকভাবে কপিরাইট লঙ্ঘন করেছে বলে যে ওয়েবসাইটগুলোকে চিহ্নিত করেছে, সেগুলোও বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ওপেনএআই এই নীতিমালায় স্বাক্ষরকারী। নীতিমালাটি দুই হাজার পঁচিশ সালের অগাস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে এর আগে ঘটে থাকতে পারে এমন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া পেওয়ালকে কপিরাইট সংরক্ষণের বৈধ ঘোষণা হিসেবে গণ্য করা যাবে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।
ইউরোপীয় কপিরাইট নির্দেশিকায় অনলাইন কনটেন্টের জন্য যন্ত্রের মাধ্যমে পড়া যায় এমন পদ্ধতিতে অধিকার সংরক্ষণের ঘোষণা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে পেওয়াল এমন ঘোষণা হিসেবে বিবেচিত হবে কি না, এ বিষয়ে কোনো আদালত এখনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায্য ব্যবহারের ধারণার সরাসরি কোনো ইউরোপীয় সমতুল্য নেই।
জার্মানির একটি আদালত জুলাই মাসে এক মামলায় রায় দিয়েছে, মডেলের প্যারামিটারে কোনো কাজ সংরক্ষিত হয়ে গেলে সেখানেই কপিরাইট লঙ্ঘন ঘটতে পারে। জেমার করা ওই মামলায় এই সিদ্ধান্ত এসেছে। একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে ইউরোপীয় প্রকাশকেরা মামলা করলে তাদের আইনি অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের মামলাগুলোর তুলনায় ভিন্ন জায়গা থেকে শুরু হবে।