Published : 18 Jul 2025, 03:00 PM
প্যারাগ্লাইডিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন ২০১২ সালে মহাকাশ থেকে লাফ দিয়ে মাটিতে নেমে আসা অস্ট্রিয়ার দুঃসাহসী ক্রীড়াবিদ ফেলিক্স বমগার্টনার।
ওই সময় তার এ কাজের মাধ্যমে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে সারা বিশ্বের নজরে আসেন তিনি। বৃহস্পতিবার ইতালির এক শহরে বমগার্টনার মারা গিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ডয়চে ভেলে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, প্লেনে থাকাকালীন জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পাশাপাশি প্যারাগ্লাইডারের নিয়ন্ত্রণও হারিয়ে ফেলেন ৫৬ বছর বয়সী বমগার্টনার। ফলে এক হোটেলের সুইমিং পুলে গিয়ে পড়েন তিনি এবং সেখানে থাকা এক তরুণী কর্মী সামান্য আহত হন।
এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন বমগার্টনার। যার ক্যাপশনে লেখা ছিল, “বাতাসের বেগ অনেক বেশি।”
পোর্তো সান্ত’এলপিদিওর মেয়র মাসিমিলিয়ানো চিয়ারপেলা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, “ফেলিক্স বমগার্টনারের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আমাদের কমিউনিটি গভীরভাবে শোকাহত। খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব ও সাহসী উড়ানের প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত এক নাম তিনি।”
বমগার্টনারের মৃত্যুর খবর অস্ট্রিয়ার সরকারি সম্প্রচার সংস্থা ‘ওআরিএফ’কে নিশ্চিত করেছে তার অনেক দুঃসাহসিক অভিযানের পৃষ্ঠপোষক এনার্জি ড্রিংক কোম্পানি ‘রেড বুল’।
এ ছাড়া জার্মানির ডিপিএ সংবাদ সংস্থাকে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও।
মহাকাশ থেকে লাফ
বহু বছর ধরে চমকপ্রদ বেইস-জাম্পার হিসেবে শিরোনামে রয়েছেন সালজবার্গে জন্ম নেওয়া বমগার্টনার। কুয়ালালামপুরের ‘পেট্রোনাস টাওয়ার’ ও ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর ‘ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার’ ভাস্কর্যের মতো বিখ্যাত স্থাপনা থেকে লাফ দিয়ে সারা বিশ্বের নজর কাড়েন তিনি।
২০১২ সালের অক্টোবরে পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৯ কিলোমিটার উচ্চতায় মহাকাশের প্রান্তসীমায় থাকা এক হিলিয়াম বেলুন থেকে লাফ দিয়ে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন বমগার্টনার, যা ছিল তখন পর্যন্ত সবচেয়ে উঁচুতে কোনো মানুষের ঝাপ দেওয়ার ঘটনা এবং সবচেয়ে দীর্ঘ সময় বাতাসে ভেসে থেকে নিচে নামার রেকর্ডও।
ওই সময় বমগার্টনার শব্দ বাধা ভেঙে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ এক হাজার তিনশ ৪২.৮ কিমি গতিতে ভূমিতে নেমে আসেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ডয়চে ভেলে।
বামগার্টনারের ডান বাহুতে ‘বর্ন টু ফ্লাই’ বা ‘জন্মই ওড়ার জন্য’ লেখা এক ট্যাটুও রয়েছে। নিয়মিত নিজের প্যারাগ্লাইডিং ফ্লাইটের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করতেন তিনি।
নিজের দুঃসাহসিক প্যারাগ্লাইডিংয়ের প্রতি ভালোবাসাকে বর্ণনা করতে গিয়ে একবার তিনি বলেছিলেন, “আমি বাতাসেই থাকি, আর এ অনুভূতির জন্যই আমি জন্মেছি।”