Published : 10 Sep 2026, 05:42 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগের মধ্যেই আগামী এক দশকের মধ্যে এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মার্কিন এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের বর্তমান ও সাবেক কর্মীরা।
ওপেনএআইয়ের সাবেক শীর্ষ কর্মীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের বর্তমান ও সাবেক কর্মীদের এমন আশঙ্কা কোম্পানিটির ভেতরের তথ্য প্রযুক্তি খাতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ অ্যানথ্রপিকের অ্যালাইনমেন্ট-সায়েন্স লিড ইভান হুবিঙ্গার লিখেছেন, “আমরা সত্যিই বিশ্বাস করি, এআই সব মানুষকে হত্যা করতে পারে! আমার ব্যক্তিগত মত, আগামী দশকের মধ্যে এর সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি।
“আমি বিশ্বাস করি অ্যানথ্রপিক যথাসাধ্য চেষ্টা করছে, তবে সুপারইন্টেলিজেন্সের অ্যালাইনমেন্ট সমাধানের জন্য আমাদের কাছে এখনও কোনো পরিকল্পনা নেই এবং আমরা সেই পথে স্পষ্টভাবে এগিয়েও চলছি না।”
সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন অ্যানথ্রপিকের এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন। নিজের ইস্তফা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ পোস্টও করেছেন তিনি। তার সেই মন্তব্যের পরেই বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
পদত্যাগী গবেষক জ্যাকব কক্সন বলেছেন, “যারা এআই তৈরি করছেন তারা বিশ্বাস করেন, এ দশক শেষ হওয়ার আগেই এআই আমাদের সবাইকে মেরে ফেলতে পারে। আর এটা কোনো মার্কেটিং স্টান্ট নয়।
“অনেক নির্বাহী ও সিনিয়র গবেষক সংবাদমাধ্যমে নিজেদের যুক্তি প্রমাণের জন্য শব্দ চয়ন নিয়ে রাখঢাক করেন তবে ব্যক্তিগত আলাপে আমি একই মানুষদের ভয় প্রকাশ করতে শুনেছি। অন্য কোনো কর্মকাণ্ডে মানুষের এই মাত্রার বিপদ নেই।”
যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নিয়মিত অংশ হয়ে উঠছে এআই। ঠিক এমন এক সময়ে প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
এআই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগে ইলন মাস্ক’সহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গবেষক ও শিক্ষাবিদরা বারবার সতর্ক করে বলেছেন, ক্রমাগত শক্তিশালী প্রযুক্তিগুলো মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে, বুধবার রাত ২টার দিকে অ্যানথ্রপিকের স্কেলএবল ওভারসাইট লিড স্যামুয়েল মার্কসও কক্সনের সেই পোস্টে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন।
নিজেকে অ্যানথ্রপিকের প্রতিনিধি নয়, বরং একজন ব্যক্তিগত মন্তব্যকারী হিসেবে দাবি করে তিনি লিখেছেন, “আমি ব্যক্তিগত জায়গা থেকে লিখছি যে, এআই ডেভেলপাররা বিশ্বাস করেন, তাদের প্রযুক্তি মানব বিলুপ্তির সমান মারাত্মক পরিণতি ঘটাতে পারে, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ঘটতে পারে। কর্মীরা যত সিনিয়র তারা তত বেশি শঙ্কিত।”
অ্যানথ্রপিক ও জ্যাকব কক্সনের কাছ থেকে এ বিষয়ে ইন্ডিপেনডেন্টের মন্তব্যের অনুরাধে সাড়া মেলেনি।
পদত্যাগের পোস্টে কক্সন বলেছেন, তিনি ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক উভয় কোম্পানিতেই প্রিটেইনিং নিয়ে তিন বছর ধরে গবেষণা করেছেন এবং তার দাবি, এসব কোম্পানির কেউই দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে না।
“তারা সরাসরি সেলফ-ইম্প্রুভিং বা নিজে নিজেই উন্নত হতে পারে এমন সুপারইন্টেলিজেন্সের দিকে ছুটছে এবং আমাদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে।”
‘সেলফ-ইম্প্রুভিং’ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের সক্ষমতা বৃদ্ধি বলতে এমন ধারণাকে বোঝায়, যেখানে এআই সিস্টেম মানুষের ন্যূনতম হস্তক্ষেপে নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে নিতে পারে। একে ‘রিকার্সিভ সেলফ-ইম্প্রুভিং’ বলে, যা এখনও সম্ভব না হলেও বিভিন্ন এআই ল্যাব সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।
“এ প্রযুক্তির সক্ষমতাকে খাটো করে দেখবেন না। এগুলো শিগরিরই এমন সুপারহিউম্যান সিস্টেমে পরিণত হবে, যা যে কোনো কিছুতে হ্যাকিং করতে, রাতারাতি যে কোনো ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে পারে এবং বাস্তব সক্ষমতা ও সম্পদ পেতে পারে। আমরা প্রত্যেকেই এ প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখেছি। ফলে অগ্রগতির গতি কোনোভাবেই কমছে না।”
জুলাইয়ে ওপেনএআইয়ের এক এআই মডেল হাগিং ফেইস হ্যাকিং কার্যক্রম চালায়, যার মতো সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কারণে এআই নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।