Published : 01 Dec 2025, 01:06 PM
বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন স্টার্টআপ নিজেদের পণ্য বিক্রির সময় প্রচলিত নানা নিয়ম বা কৌশল অনুসরণ করে এসেছে। তবে অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রের মতো এখন বিভিন্ন কোম্পানির বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতির ধরনে পরিবর্তন এনেছে এআই।
গত মাসে ‘জিটিএমফান্ড’-এর জেনারেল পার্টনার ম্যাক্স আল্টসচুলার বলেছেন, “এখন এআই বা নতুন প্রযুক্তির কারণে কম সম্পদ দিয়েও বেশি কিছু করতে পারেন আপনি।”
তবে প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে সঠিক সমাধান বের করা। কিছু স্টার্টআপ এমন ডেভেলপার নিয়োগের কথা ভাবছে, যারা এআইতে দক্ষ ও সাধারণ বিপণন চ্যালেঞ্জ বা জিটিএম সমস্যাগুলোয় তাদের কাজে লাগানো যায় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট টেকক্রাঞ্চ।
আল্টসচুলার বলেছেন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলেও এখন আরও বিশেষ জ্ঞান বা দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে।
“এআই ও নতুন প্রযুক্তি থাকলেও প্রমাণিত বিভিন্ন মার্কেটিংয়ের মূল ভিত্তি ও কৌশল বোঝা এখনও জরুরি। আশপাশে ভালো পরামর্শদাতা থাকলেও আপনি এসব কৌশল শিখতে পারেন। আমি মনে করি, মার্কেটিংয়ে নির্দিষ্ট কিছু জিনিস কীভাবে ও কেন কাজ করে সে সম্পর্কে আপনার সাধারণ ধারণা থাকা জরুরি।”
‘গুগল ক্লাউড’-এর মার্কেটিং বিভাগের প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালিসন ওয়াগনফেল্ড বলেছেন, মার্কেটিংয়ের দক্ষতা এখনও খুবই প্রয়োজন।
“আপনাকে অবশ্যই এআইয়ের জ্ঞান ও এআই নিয়ে কৌতূহলী হতে হবে, যা প্রযুক্তিবিদদের জন্য প্রয়োজন। তবে এর সঙ্গে সঙ্গে মার্কেটিংয়ের উদ্দেশ্য কী তা বোঝাও জরুরি, বিশেষ করে গ্রাহকের ধারণা বোঝা, গবেষণা করা ও চমৎকার সৃজনশীলতা কেমন হয় তা দেখার জন্য এসব দরকার।”
ওপেনএআইয়ের স্টার্টআপ বিভাগের প্রধান মার্ক মানারা বলেছেন, অনেক স্টার্টআপ নিজেদের জিটিএম কৌশলে এআই গ্রহণ করেছে। তবে এতে শুধু কত রিসোর্স ব্যয় হবে তা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে তা করছে না তারা।
“কম বা বেশি সম্পদ দিয়ে কাজের প্রবণতা বর্তমানে দেখা গেলেও আপনি কীভাবে তা করবেন তাতেও খুব মনোযোগী হতে হবে। এআই দিয়ে যে পার্সোনালাইজেশন ও সিগন্যাল অনুসরণের সক্ষমতা মেলে তা এখন ভিন্নরকম। ফলে এআই ব্যবহার করে গ্রাহকের আচরণ অনুসারে আরও নিখুঁত ও নির্দিষ্ট কাজ করা সম্ভব, যা আগে এত সহজ ছিল না।”
মানারা বিশেষভাবে বলেছেন, এখন এমন টুল আছে যা লিড তৈরিতে সাহায্য করে এবং যা আগের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। কেবল ডেটাবেইসে সাধারণ সার্চিংয়ের বদলে এআই প্রম্পট ব্যবহার করে এখন খুব নির্দিষ্ট শর্ত অনুসারে সম্ভাব্য গ্রাহক খুঁজে পেতে পারে বিভিন্ন স্টার্টআপ।
তিনি আরও বলেছেন, ‘ইনবাউন্ড মার্কেটিং’ও পরিবর্তিত হয়েছে। এখন সেই এআই প্রম্পটের ফলাফল ব্যবহার করে ইনবাউন্ড লিডকে যাচাই ও স্কোর করা যায়, যা ‘আগের তুলনায় অনেক নিখুঁতভাবে করা সম্ভব’।
‘ইনবাউন্ড মার্কেটিং’ এমন এক মার্কেটিং পদ্ধতি, যেখানে গ্রাহককে জোর করে বিজ্ঞাপন দেখানো নয়, বরং তাদেরকে মূল্যবান তথ্য, কনটেন্ট, বা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আকর্ষিত করে তারা।
ওয়াগনফেল্ড বলেছেন, একটি স্টার্টআপ যখন নিজের জিটিএম কৌশল তৈরি বা বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা করে শুরু করে তখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তাদের জিটিএম দলে কী ধরনের গুণাবলী থাকা উচিত তা নিয়ে ভাবা।
“বিষয়টি নিয়োগের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। আগে মূলত বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়া হত যারা নির্দিষ্ট বিষয়ে জানেন, বিশেষ করে মার্কেটিং বা বিক্রির ক্ষেত্রে পারদর্শী। তবে এখন দলে এমন মানুষ রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ যাদের কৌতূহল রয়েছে ও তারা বোঝার চেষ্টা করেন।
“নিয়োগের ক্ষেত্রে এখন এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।”