এআইকে ঠেকানো যাবে না, তবে মানুষের বিকল্প নেই: ক্রুজ
“প্রযুক্তি যত উন্নত চেহারা নিয়েই আসুক না কেন, সৃষ্টিশীল মানুষদের কাজ থামবে না।”
চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে এআইয়ের সাহায্যে তৈরি হয়ে যাচ্ছে পুরো সিনেমা। বিভিন্ন সিনেমা উৎসবে এআইয়ের প্রভাবে চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনায় সরব থাকেন আলোচকরা। এই পরিস্থিতিতে মানুষের সৃষ্টিশীলতার ওপরেই আস্থা রাখছেন হলিউড অভিনেতা টম ক্রুজ।
তার কথায়, মানুষ সব সময় সৃজনশীলতারই কদর করে। সিনেমায় এআইয়ের ব্যবহার থাকলেও মানুষের কোনো বিকল্প নেই।
লন্ডনে বাফটা আয়োজিত ‘লাইফ ইন পিকচার্স’ শীর্ষক আলোচনায় উপস্থিত হয়ে এইআইয়ের প্রভাব নিয়ে নিজের বক্তব্য টম ক্রুজ তুলে ধরেন বলে জানিয়েছে ভ্যারাইটি।
অনুষ্ঠানে চার দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে স্মৃতিচারণাও করেন ৬৪ বছর বয়সি ক্রুজ। এর পাশাপাশি মুক্তির অপেক্ষায় থাকা নতুন সিনেমা ‘ডিগার’ নিয়েও কথা বলেন।
ক্রুজের ‘মিশন: ইম্পসিবল’ সিরিজের সিনেমাগুলোয় প্রযুক্তরি সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়েছে।
গেল বছর মুক্তি পাওয়া ‘দ্য ফাইনাল রেকনিং’ সিনেমায় এআইকে ভিলেন হিসেবে পর্দা আনা হয়। ওই সিনেমার কথা তুলে ক্রুজের কাছে জানতে চাওয়া হয়, প্রযুক্তি ও এআই চলচ্চিত্রশিল্পে আগামীতে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
ক্রুজ বলেন, “মানুষের বিকল্প কখনোই অন্য কিছু হতে পারে না। দর্শক সব সময় বাস্তব জিনিস দেখতে চায়। তবে এআই আসবে এবং এটি থামানো যাবে না।”
ক্রুজের ভাষ্য, ব্যবসায়িক দিক থেকে এ বছর হলিউডের জন্য দারুণ সফল। বক্স অফিসের রেকর্ড আয়ের উদাহরণ টানেন অভিনেতা।
তিনি বলেন, “মানবীয় গল্পের প্রতি মানুষের চাহিদা আগ্রহ আগেও ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। তাই প্রযুক্তি যত উন্নত চেহারা নিয়েই আসুক না কেন, সৃষ্টিশীল মানুষদের কাজ থামবে না।”
‘লাইফ ইন পিকচার্স’ অনুষ্ঠানে নতুন সিনেমা ডিগার নিয়েও কথা বলেন ক্রুজ। অস্কারজয়ী মেক্সিকান পরিচালক আলেহান্দ্রো গনসালেস ইনারিতু পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে টম অভিনয় করেছেন একজন ধনী তেল ব্যবসায়ীর চরিত্রে।
প্রস্থেটিক মেকআপ দিয়ে চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে বদলে ফেলা হয়েছে ক্রুজের লুক, তাতে অভিনেতাকে চেনা দায়।
প্রতিদিন ছয় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিশেষ প্রস্থেটিক মেকআপ ও ফ্যাট বডি স্যুট নিতে ক্রুজকে। আগামী ২ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘ডিগার’।
এছাড়া ক্রুজ প্রায় চার দশক পর রেসকারচালক কোল ট্রিকল হয়ে ফিরছেন পর্দায়। ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া আলোচিত রেসিং ছবি ‘ডেজ অব থান্ডার’-এর নতুন কিস্তিতে অভিনয় করছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে ‘মিশন: ইমপসিবল’ ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ঘিরে ব্যস্ত থাকার পর এবার ধীরে ধীরে অন্য বড় প্রকল্পে মনোযোগ দিচ্ছেন ক্রুজ। এরই মধ্যে আরেকটি ‘টপ গান’-এর নতুন কিস্তিও নিশ্চিত হয়েছে।
