Published : 12 Dec 2025, 10:33 AM
সাম্প্রতিক গবেষণগুলোতে অটিস্টিক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার তথ্য যেমন আসছে, তেমনি অটিজম কী এবং কেন এটা ঘটে, তা নিয়ে বিভ্রান্তিও রয়েছে বিস্তর।
বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ২ থেকে ৩ শতাংশ মানুষ অটিস্টিক। তবে অনেক ক্ষেত্রে আগের চেয়ে ভালোভাবে অটিজম শনাক্ত করা যাচ্ছে; এ বিষয়টিও সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে।
গত কয়েক দশক ধরে গবেষণার ফলে অটিজম নিয়ে জোরালো তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। পাশাপাশি অটিস্টিক মানুষদের কীভাবে আরো ভালোভাবে সাহায্য করা যায়. তা জানতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা।
‘ইউটাহ রেজিস্ট্রি অফ অটিজম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার্স’-এর পরিচালক, মহামারীবিদ ড. আমান্ডা বাকিয়ান বলছেন, জিনগত কারণ অটিজমে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে, বিজ্ঞানে স্পষ্টভাবে সেই ইঙ্গিত মিলেছে।
“অটিজম এমন এক অবস্থা, যা পরিবারের মধ্যে খুবই বংশগতভাবে চলে আসছে”।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, একটি পরিবারে একসঙ্গে অনেকের মধ্যে অটিজম দেখা দিতে পারে। যদি কোনো পরিবারের একটি সন্তান অটিস্টিক হয়, তাহলে তার একজন ভাই বা বোনের অটিস্টিক হওয়ার ঝুঁকি থাকে প্রায় ২০ শতাংশ।
আর যমজ শিশুদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়, যা প্রায় ৬০ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে হতে পারে।
তবে এর মানে এই নয় যে অটিজমের জন্য কেবল একটি জিন দায়ী, বরং অনেক ধরনের ছোট ছোট জিনগত পরিবর্তন বা ভিন্নতার সঙ্গে অটিজমের সম্পর্ক রয়েছে, যা ছড়িয়ে আছে মানুষের দেহের ডিএনএতে।
জিনে কিছু পরিবর্তন অনেক মানুষেরই থাকে, যেগুলো নিজে থেকে অটিজম ঘটায় না। তবে যখন একসঙ্গে অনেক পরিবর্তন হয়, তখন অটিজমের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
পরিবেশগত কারণও এক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সে প্রভাব তুলনামূলক কম। গর্ভাবস্থায় শরীরে যেসব প্রদাহ হয়, সেগুলোর কিছু বিষয়ের সঙ্গে অটিজমের সম্পর্ক থাকতে পারে। যেমন, কোনো গর্ভবতী নারীর কোভিড সংক্রমণের কারণে উচ্চ মাত্রার জ্বর হলে তার সন্তানের অটিজম হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
গর্ভবতী নারী যদি ভারী ধাতু বা বায়ু দূষণের সংস্পর্শ থাকেন, তখনও এমন ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে বাকিয়ান বলেছেন, এ ধরনের প্রভাব জিনগত কারণের তুলনায় খুবই নগণ্য।
গবেষকরা কেবল অটিজমের কারণ খুঁজছেন না। বাকিয়ান এমন এক প্রকল্প চালাচ্ছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ডেটাবেইস ব্যবহার করে কতজনের অটিজম হয়েছে তা ট্র্যাক করা হচ্ছে।
এসব ডেটাবেইস ব্যক্তি পর্যায়ে কাউকে পর্যবেক্ষণ করছে না, বরং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে অটিজমের প্রবণতা কেমন, সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে। তার গবেষণার এসব ফলাফল উঠে এসেছে, কোথায় অটিজম কম শনাক্ত করা হচ্ছে ও কোথায় অটিজম সংক্রান্ত চিকিৎসাসেবার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
নোরিজ লিখেছে, শুরুতেই সঠিকভাবে অটিজম শনাক্ত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শনাক্ত হলে তবেই একজন অটিস্টিক ব্যক্তি নিজেদের প্রয়োজনীয় সাহায্য, শিক্ষা বা সেবা পেতে পারেন।
বিজ্ঞানীরা অটিজম নিরাময়ের সন্ধান করছেন কি না– এমন প্রশ্নের উত্তরে বাকিয়ান স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা তেমন কোনো চেষ্টা করছেন না এবং তা করতে যাওয়া উচিতও হবে না।
তার ভাষায়, অটিজম কোনো রোগ নয়, যার ‘নিরাময়’ প্রয়োজন। যেটা প্রয়োজন, তা হল বিষয়টি বুঝতে পারা। অনেক অটিস্টিক ব্যক্তি নিজেদের স্বাভাবিক হিসেবে দেখেন, অসুস্থ হিসেবে নয়। তাদের নিরাময়ের যে কোনো চেষ্টা অপ্রয়োজনীয় এবং তা ক্ষতিকরও হতে পারে।
বাকিয়ান বলেন, “অটিস্টিক হওয়া দুর্বলতা নয়, বরং তাদের মধ্যেও শক্তি রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল, অটিস্টিক ব্যক্তিদের সেইসব সাহায্য বা সেবা দেওয়া, যাতে তারা ভালোভাবে বিকশিত এবং সফল হতে পারেন।”