১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মার্কিন মিত্রদের কাছে যথেষ্ট এআই সম্পদ নেই: পেন্টাগন কর্মকর্তা

পেন্টাগনের পুরানো অভ্যাসগুলোই এখন তাদের সবচেয়ে বড় দায় বা দুর্বলতা বলেও মন্তব্য করেছেন মার্কিন সংস্থাটির ওই কর্মকর্তা।

মার্কিন মিত্রদের কাছে যথেষ্ট এআই সম্পদ নেই: পেন্টাগন কর্মকর্তা
ওয়াশিংটন তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মিত্রদের বিভিন্ন ভুল এড়াতে সহায়তা করছে বলেও মনে করেন তিনি। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 11 Sep 2026, 04:06 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:58 AM

সামরিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিস্তার ও এ ক্ষেত্রে মিত্র দেশগুলোর সীমাবদ্ধতা নিয়ে সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন পেন্টাগনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যেভাবে এআইয়ের ব্যবহার বাড়িয়ে চলেছে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর সেই গতি ধরে রাখার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ নেই বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, ওয়াশিংটন তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মিত্রদের বিভিন্ন ভুল এড়াতে সহায়তা করছে বলেও মনে করেন তিনি।

‘বিলিংটন সাইবার সিকিউরিটি সামিট’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স’-এর চিফ ডিজিটাল অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অফিসার ক্যামেরন স্ট্যানলি বলেছেন, “আমাদের যে সম্পদ রয়েছে, তাদের তা নেই; আমাদের যে অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের তা নেই; আমাদের যে স্কেল রয়েছে, তাদের তা নেই।”

নেটো ও ‘ফাইভ আইজ’ বা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানকারী অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গে স্ট্যানলি বলেছেন, মিত্ররা যেন ‘আমাদের মতো একই ভুল না করে’ সেজন্য ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে ‘সক্রিয়ভাবে কাজ করছে’।

ক্যামেরন স্ট্যানলির কার্যকালের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই এ মন্তব্য এল। এ সময়ে পেন্টাগনের এআই অফিস বেশ কিছু নতুন টুল চালু করেছে। তবে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই সময়ে দায়িত্বও ছেড়ে গেছেন।

জানুয়ারি মাস থেকে স্ট্যানলি ‘GenAI.mil’ নামের এক অভ্যন্তরীণ চ্যাটবট প্ল্যাটফর্মের সূচনা তদারকি করেছেন, যা তার দাবি অনুসারে ১৭ লাখ ব্যবহারকারী স্পর্শ করেছে।

এ ছাড়া, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও কমান্ডারের সিদ্ধান্তের মধ্যকার সময় কমিয়ে আনতে ‘এজেন্ট নেটওয়ার্ক’ নামের এক সিস্টেমও চালু করেছে পেন্টাগন।

সামরিক কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়ানোর বড় প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে স্ট্যানলির অফিসকে প্রতি মাসের মেট্রিক হিসেবে এআই মোতায়েনের গতি রিপোর্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

সামরিক কার্যক্রমে এআইয়ের গতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন স্ট্যানলি।

‘বিলিংটন সাইবার সিকিউরিটি সামিট’-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এমন এক মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন, যেখানে একজন কমান্ডার নির্ধারিত ব্রিফিং থামিয়ে ৩০ সেকেন্ডের একটি ফোন কলে কথা বলেছেন ও কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তমূলক ব্রিফ বা রুমের সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স লেভেল যাচাই না করে ঘটনাস্থলেই নির্দেশ জারি করেছেন।

মুহূর্তটিকে ‘বৈপ্লবিক’ হিসেবে বর্ণনা করে স্ট্যানলি বলেছেন, “এমনটা শুনতে সরল মনে হতে পারে তবে এটা কেবল এজন্যই সরল যে আমরা এখন এতে দক্ষ হয়ে উঠেছি।”

২০১৭ সালে পেন্টাগনের মূল এআই টার্গেটিং প্রোগ্রাম হিসেবে চালু করা ‘প্রজেক্ট ম্যাভেন’ পরবর্তীতে প্যালান্টির-নির্মিত ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেমে রূপান্তরিত হয়েছে।

২০২৬ সালে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন বিমান অভিযানে সিস্টেমটি ব্যবহৃত হয়েছিল। স্ট্যানলির মে মাসের তথ্য অনুসারে, সিস্টেমটি অভিযানের প্রথম ৩৮ দিনে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সহায়তা করেছে।

মার্চ মাসে প্যালান্টিরের ‘এআইপিসিঅন৯’ কনফারেন্সে বক্তব্য রাখার সময়ও স্ট্যানলি ম্যাভেনকে ‘বৈপ্লবিক’ বলে বর্ণনা করে বলেছেন, এটা কমান্ডারদের একটিমাত্র প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই লক্ষ্য শনাক্ত করা থেকে শুরু করে হামলা চালানোর পর্যায়ে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।

তবে এ সামরিক অভিযানটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘটিত হামলার জেরে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনা ও এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে পেন্টাগনের কাছে জবাব চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে ১২০ জনেরও বেশি সদস্য একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।

ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই হামলায় অন্তত ১৬৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই শিশু।

বক্তব্যের শেষে স্ট্যানলি বলেছেন, পেন্টাগনের পুরানো অভ্যাসগুলোই এখন তাদের সবচেয়ে বড় দায় বা দুর্বলতা।

“আমরা যেভাবে কাজ করে এসেছি, সেটাই হল কর্মপন্থা হিসেবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।”

যুদ্ধক্ষেত্রের সেনাসদস্যদের হাতে আরও দ্রুত এআই টুল পৌঁছে দিতে হলে বিভাগকে সম্পূর্ণ ‘ভিন্নভাবে চিন্তা’ করতে হবে বলেও মনে করেন স্ট্যানলি।