Published : 17 Sep 2025, 09:27 PM
ভার্চুয়াল রিয়ালিটিকে গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয় করতে কোটি কোটি ডলার খরচ করেও তেমন সফলতা পায়নি মেটা। এখন মেটাভার্সের ওপর বাজি ধরে স্মার্ট গ্লাস বা চশমার দিকে ঝুঁকছে কোম্পানিটি। বিনিয়োগকারীরাও দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন, মানুষ এই নতুন প্রযুক্তিকে কীভাবে গ্রহণ করবে।
বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার (১৭-১৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির এ বার্ষিক ‘কানেক্ট’ ইভেন্টে এখন পর্যন্ত নিজেদের সবচেয়ে উন্নত স্মার্ট চশমা উন্মোচন করতে যাচ্ছে মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্টটি।
এ চশমার কোডনেইম ‘হাইপারনোভা’। এতে রয়েছে ছোট একটি ডিসপ্লে, যা নিউরাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশেষ এক রিস্টব্যান্ডের মাধ্যমে হাতের ইশারা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
সোমবার মেটার ইউটিউব চ্যানেলে এ ডিভাইসটির এক প্রচারণামূলক ভিডিও আপলোড করলেও পরে তা সরিয়ে ফেলেছে মেটা।
ধারণা করা হচ্ছে, ডিভাইসটির দাম আনুমানিক আটশ ডলার হতে পারে। এটি মেটার ‘এসিলরলুক্সোটিকা’র সঙ্গে পার্টনারশিপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর আগে ২০২৩ সালে মেটার এআই প্রযুক্তি ‘রে ব্যান মেটা’ ও এ বছরের জুনে উন্মোচিত ‘ওকলে মেটা এইচএসটিএন’ নামের স্মার্ট চশমাও তৈরি করেছে ‘এসিলরলুক্সোটিকা’।
এসব স্মার্ট চশমাতে ক্যামেরা, স্পিকার ও মাইক্রোফোন থাকে, যা ব্যবহারকারীদের মেটার এআই ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টকে ছবি তুলতে, ভিডিও করতে বা গান চালাতে নির্দেশ দেয়।
‘রে-ব্যান’ চশমা ও ‘কোয়েস্ট ভিআর’ হেডসেটের হার্ডওয়্যার তৈরি করেছে মেটার ‘রিয়ালিটি ল্যাবস’ বিভাগ। জুলাইয়ে মেটা বলেছে, এ বিভাগের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে অপারেটিং লোকসান হয়েছে চারশ ৫৩ কোটি ডলার এবং ২০২০ সালের শেষ থেকে এ বিভাগ মোট লোকসান করেছে প্রায় সাত হাজার কোটি ডলার।
‘ব্যাংক অফ আমেরিকা সিকিউরিটিজ’-এর ইন্টারনেট রিসার্চ বিশ্লেষক জাস্টিন পোস্ট বলেছেন, বিনিয়োগকারীরা বুঝতেই পারছেন মেটার রিয়ালিটি ল্যাবস বিভাগের খরচের ফল বড় অংকে পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। তবে এক্ষেত্রে তারা ‘অগ্রগতি দেখতে চাইছেন’। এর থেকে ইঙ্গিত মেলে, এতে ‘বিনিয়োগ করে লাভের আশা করছেন’ তারা।
বর্তমানে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি হেডসেটের চেয়ে স্মার্ট চশমায় বিনিয়োগ করা বেশি নিরাপদ বলে মনে হচ্ছে। কারণ বিভিন্ন ভিআর হেডসেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখনও সীমিত এবং এগুলো জনপ্রিয় হতে অনেক বছর লাগতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন পোস্ট।

“আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, কোম্পানির মনোযোগ ভার্চুয়াল রিয়ালিটি হেডসেট থেকে স্মার্ট চশমার দিকে সরে এসেছে। এসব চশমা ব্যবহারকারীদের ওপর অনেক প্রভাব ফেলা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার বিষয়টি এখন কেবল সময়ের দাবি।”
নতুন স্মার্ট চশমার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সিএনবিসির অনুরোধে সাড়া দেয়নি মেটা।
প্রথমবারের মতো ‘হাইপারনোভা’তে ডিসপ্লেওয়ালা স্মার্ট চশমা আনছে মেটা। তবে এ চশমার স্ক্রিন খুব বড় হবে না, ছোট স্ক্রিন থাকায় ব্যবহারকারীদের জন্য খুব বেশি কিছু দেখার থাকবে না।
সিএনবিসি লিখেছে, হাইপারনোভা চশমাটি বাজারে এলে তা হবে ‘রে ব্যান মেটা’ ও গত বছরে ‘কানেক্ট’ ইভেন্টে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ওরিয়ন’ নামের যে অগমেন্টেড রিয়ালিটি চশমা দেখিয়েছিল মেটা তার মধ্যে এক মধ্যম পথ। কারণ, একদিকে রে ব্যান চশমা একটু বেশি সাধারণ। অন্যদিকে ওরিয়ন চশমা বেশি উন্নত। সাধারণ ও উন্নত গ্লাসের মিশেলে তৈরি হতে পারে হাইপারনোভা।
এর আগে, অগাস্টে সিএনবিসি প্রতিবেদনে লিখেছিল, হাইপারনোভা চশমা থেকে খুব বেশি বিক্রির আশা করছে না মেটা। তবে কোম্পানিটি চাইছে, এ চশমার উন্মোচন অন্তত কিছুটা গুঞ্জন তৈরি করুক।
মেটার লক্ষ্য হচ্ছে, স্মার্ট চশমাকে পরবর্তী সময়ে বড় এক ব্যক্তিগত কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা। ঠিক যেমন বর্তমানে আইফোন নির্মাতা কোম্পানি অ্যাপল এবং মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল তাদের আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে শীর্ষে রয়েছে তেমনভাবে।