Published : 19 Jul 2025, 04:12 PM
খরচ কমাতে প্রথমবারের মতো এআই ইফেক্ট ব্যবহার করেছে মার্কিন স্ট্রিমিং জায়ান্ট নেটফ্লিক্স।
প্লাটফর্মটি বলেছে, প্রথমবারের মতো নিজেদের একটি মূল টিভি শো’তে জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ব্যবহার করেছে তারা।
স্ট্রিমিং জায়ান্টটির সহ-প্রধান নির্বাহী টেড সারানডোস বলেছেন, প্রম্পটের ভিত্তিতে ভিডিও ও ছবি তৈরি করতে পারে এমন এআই ব্যবহার করে আর্জেন্টিনার বিজ্ঞান কল্পকাহিনিনির্ভর শো ‘দ্য ইটারনটস’-এর এক ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য তৈরি করেছে তারা।
তিনি বলেছেন, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রোডাকশন টিম দ্রুত ও কম খরচে এসব দৃশ্য শেষ করতে পেরেছে।
বিবিসি লিখেছে, জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার বিনোদন শিল্পে বিতর্কিত একটি বিষয়। কারণ অনেকেই মনে করেন, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্যদের কাজ তাদের অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে নতুন কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন। ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তির কারণে মানুষ চাকরি হারাতে পারেন বলেও উদ্বেগ রয়েছে।
এর আগে এক ঘোষণায় নেটফ্লিক্স বলেছে, এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত তিন মাসে তাদের আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে এক হাজার একশ কোটি ডলারে। একই সময়ে লাভ দুইশো ১০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনশ ১০ কোটি ডলার। প্লাটফর্মটির আয় বেড়ে যাওয়ার ঘোষণার পরই সারানডোসের এমন মন্তব্য এল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
নেটফ্লিক্স বলেছে, তাদের এই প্রত্যাশার চেয়ে ভালো পারফরম্যান্সের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়ান থ্রিলারনির্ভর ‘স্কুইড গেইম’-এর তৃতীয় ও শেষ সিজনের সাফল্য, যা এখন পর্যন্ত ১২ কোটি ২০ লাখ বার দেখেছেন দর্শকরা।
নেটফ্লিক্স এআই ব্যবহার করছে কি না জানতে চাইলে সারানডোস বলেছেন, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ছোট বাজেটের প্রোডাকশনেও উন্নতমানের ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে।
তিনি বলেছেন, ‘দ্য ইটারনটস’ শোতে যে জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার হয়েছে তা ‘বুয়েনস আইরেস’-এ এক ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য ১০ গুণ দ্রুত শেষ করতে সাহায্য করেছে প্রোডাকশন টিমকে। তারা যদি ওই দৃশ্যটি তৈরি করতে প্রচলিত স্পেশাল ইফেক্টস টুল ব্যবহার করত তাহলে তা এত দ্রুত শেষ হত না।
“এ খরচ ওই বাজেটের শোয়ের জন্য সম্ভব ছিল না। এ দৃশ্যটিতে আসলে নেটফ্লিক্সের কোনো মূল সিরিজ বা ছবিতে প্রথমবারের মতো জেনারেটিভ এআই দিয়ে তৈরি চূড়ান্ত ভিডিও দেখানো হয়েছে, যেখানে এর ফলাফল দেখে খুশি ছিলেন নির্মাতারা।”
বিবিসি লিখেছে, ২০২৩ সালের হলিউড ধর্মঘটের সময় অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছিল এআই।
তিন মাসের ধর্মঘটের সময় এআই ব্যবহারের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছিল ‘স্ক্রিন অ্যাক্টর্স গিল্ড-আমেরিকান ফেডারেশন অফ টেলিভিশন অ্যান্ড রেডিও আর্টিস্টস’ ইউনিয়ন।
ওই সময় এ শিল্পের কিছু মানুষ চলচ্চিত্রে এআই ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন ও এটি তাদের কাজের প্রতি অবমাননাকর বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।
সেই সময় চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ের তৈরি সোরা’র মতো বিভিন্ন এআই টুল চালু হচ্ছিল, যা সাধারণ টেক্সট প্রম্পট থেকে অসাধারণ মানের ভিডিও তৈরি করতে পারে। ফলে এআইয়ের এমন কাজ দেখে মুগ্ধ হচ্ছিলেন সবাই। তবে একদিকে এ প্রযুক্তি মানুষের চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
এদিকে, সিঙ্গাপুরের অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘ক্রেভএফএক্স’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডেভিয়ার ইউন বলেছেন, নেটফ্লিক্সের জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের বিষয়টি আশ্চর্যের কিছু নয়। কারণ আরও অনেক বড় স্টুডিও এ প্রযুক্তিকে স্বাগত জানাচ্ছে।
তিনি বলেছেন, জেনারেটিভ এআই হচ্ছে সেইসব ডিজিটাল বিভিন্ন টুলের তালিকায় আরেকটি নতুন যোগ, যেগুলো ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট আর্টিস্টরা তাদের বিভিন্ন ধারণা জীবন্ত করতে ব্যবহার করেন।
“এ যেন কেবল সময়ের ব্যাপার, যেখানে এআই অবশ্যই ছোট আকারের বিভিন্ন স্টুডিওকে বড় বাজেটের মতো চমৎকার ভিজ্যুয়াল তৈরির সুযোগ করে দেবে।
“তবে শেষ পর্যন্ত শিল্পীই সিদ্ধান্ত নেবেন চূড়ান্ত ছবিটিতে কী থাকবে, এআই নয়।”