২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

জিটিএ ৬ গেইমের ট্রেইলারে যা জানা গেল, যা রইল অজানা

১৯৯৭ সালে অভিষেকের পর থেকে ৫০ কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হওয়া এ সিরিজের ভক্তদের জন্য এ তথ্য এক আনন্দসংবাদ।

জিটিএ ৬ গেইমের ট্রেইলারে যা জানা গেল, যা রইল অজানা
ইউটিউবে প্রকাশের প্রায় ছয় ঘণ্টা আগে গেইমটি নেটফ্লিক্সে প্রকাশ করে রকস্টার। ছবি: রকস্টার গেইম

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Aug 2026, 04:45 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:25 PM

দীর্ঘ ১৮ মাসের নীরবতা ভেঙে অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ভিডিও গেইম গ্র্যান্ড থেফট অটো ৬ বা জিটিএ ৬-এর ২৬ মিনিটের ট্রেইলার উন্মোচন করেছে নির্মাতা কোম্পানি রকস্টার।

ইউটিউবে প্রকাশের প্রায় ছয় ঘণ্টা আগে গেইমটি নেটফ্লিক্সে আত্মপ্রকাশ করে। প্রথমবারের মতো গেইমাররা গেইমটির অ্যাকশন ও বিস্তারিত দৃশ্য সরাসরি দেখার সুযোগ পেলেন।

তবে, চমৎকার গ্রাফিক্স, ফ্লোরিডার আদলে তৈরি ভিজুয়াল ও দুই মূল চরিত্রের রোমাঞ্চকর সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রেইলারটি ইতিবাচক সাড়া ফেললেও এর অনলাইন মোড নিয়ে এখনোও ধোঁয়াশা রয়েই গেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।

কোনো ধরনের ধারাভাষ্য বা ব্যাখ্যামূলক ক্যাপশন ছাড়াই প্রকাশ করা এ ফুটেজে গেইমের উন্নত গ্রাফিক্স, সূক্ষ্ম পরিবেশ ও চোখধাঁধানো কার-চেজ ও গোলাগুলির দৃশ্য তুলে ধরা হয়।

সম্প্রতি অনলাইনে অননুমোদিতভাবে কিছু ফুটেজ ফাঁস হয়ে যায়, যেটিকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে বর্ণনা করেছিল রকস্টার। এরপর অবশেষে বিশ্ববাসীকে নিজেদের অনুমোদিত সংস্করণ দেখিয়েছে কোম্পানিটি।

ট্রেইলার প্রকাশের পর গেইমটির যেসব বৈশিষ্ট্য উঠে এসেছে তা হল–

দুই মূল চরিত্রের বন্ধন

দীর্ঘ এ প্রিভিউতে গেইমের দুই মূল চরিত্র জেসন ডুভাল ও লুসিয়া কামিনোর সম্পর্কের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে রকস্টার, যাদের গল্পটি বিখ্যাত ‘বনি অ্যান্ড ক্লাইড’ জুটির আদলে তৈরি।

গেইমিং সাইট আইজিএন-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে নির্মাতারা বলেছেন, প্লেয়ারের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে এ দুই চরিত্রের সম্পর্কের মোড় পরিবর্তিত হতে পারে। তবে কেউ চাইলে এ বন্ধন জোরদার না করে এড়িয়েও যেতে পারেন।

নেটফ্লিক্সের প্রিভিউতে বিস্তারিত না দেখালেও গেইম চলাকালীন দুই চরিত্রের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ অদলবদলের সুবিধা দেখানো হয়েছে।

যেমন একটি দৃশ্যে, অ্যাপার্টমেন্টে মাদকবিরোধী অভিযান থেকে পালানোর সময় জেসনকে জানালা দিয়ে লুসিয়াকে নিচে নামিয়ে দিতে দেখা যায়। এর আগে জিটিএ ৫-এও তিন মূল চরিত্রের মধ্যে এভাবে সুইচ করার ব্যবস্থা ছিল।

চোখজুড়ানো ভিজুয়াল ও বিস্ময়কর গ্রাফিক্স

জিটিএ ৬-এর গ্রাফিক্সের প্রশংসা মিলেছে সর্বমহল থেকেই। গেইমের বিভিন্ন চরিত্রের মুখাবয়ব ও হাঁটাচলার শারীরিক অঙ্গভঙ্গি ছিল প্রায় জ্যান্ত।

পাশাপাশি অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরের অংশ, রুফটপ বার ও শহরের বিভিন্ন নাইটক্লাবের নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত বিবরণ সমর্থকদের মুগ্ধ করেছে। ট্রেইলারটিতে গেইমের কাল্পনিক অঙ্গরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার আদলে তৈরি ‘লিওনিডা’র বৈচিত্র্যময় পরিবেশ তুলে ধরা হয়।

অন্যান্য গেইমে সচরাচর দেখা না গেলেও এতে পটভূমির মানুষের বিভিন্ন দৈহিক গড়ন ও রূপের বৈচিত্র্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

গেইমিং সাংবাদিক রায়ান ম্যাকক্যাফ্রি বলেছেন, “জিটিএ ৬ হয়ত আমার দেখা সেরা গ্রাফিক্সের গেইম হতে যাচ্ছে।”

গেইমটি তৈরিতে রকস্টারের দীর্ঘ সময় ব্যয় ও বড় বাজেটকেই এ বিস্ময়কর ভিজুয়ালের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভিডিও গেইমের ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চিরাচরিত সেই পুরানো স্বাদ

ভিজুয়াল ও পরিসরের দিক থেকে জিটিএ ৬ নতুন উদাহরণ তৈরি করলেও মনস্তাত্ত্বিকভাবে সেই চেনা ফ্র্যাঞ্চাইজির ঐতিহ্যকেই বহন করছে। ট্রেইলারটিতে ডাকাতি, রোমাঞ্চকর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও অপরাধ জগতের অন্ধকার পরিবেশ স্পষ্ট ছিল, যা বহুকাল ধরেই এ সিরিজের মূল আকর্ষণ।

আমেরিকান সংস্কৃতির ওপর তীক্ষ্ণ সামাজিক কটাক্ষ, চরিত্রগুলোর মধ্যকার ডার্ক হিউমার বা রসাত্মক সংলাপ ও অগণিত সাইড-অ্যাক্টিভিটির সমাহার আবারও ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৮ সালের সফল গেইম ‘রেড ডেড রিডেম্পশন ২’-এর মতো এবারও যোগ হয়েছে ‘অনার সিস্টেম’, যেখানে প্লেয়ারের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করে গেইমের অন্য চরিত্রদের কাছে তার সম্মান বা ভাবমূর্তি পরিবর্তিত হবে।

১৯৯৭ সালে অভিষেকের পর থেকে ৫০ কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হওয়া এ সিরিজের ভক্তদের জন্য এটি ছিল নিশ্চিত এক আনন্দসংবাদ।

জিটিএ ৬ অনলাইন নিয়ে মেলেনি নতুন তথ্য

রকস্টার আগেই বলেছিল, গেইমটি শুরুতে কেবল ‘সিঙ্গেল-প্লেয়ার এক্সপেরিয়েন্স’ হিসেবে খেলা যাবে। ফলে মাল্টিপ্লেয়ার বা অনলাইন মোড যে পরবর্তীতে আসবে তা ভক্তদের জানাই ছিল।

নেটফ্লিক্সের এ প্রিভিউটি পুরোপুরি মূল কাহিনি ও গেইমপ্লের ওপর জোর দেওয়ায় এখানে নতুন কোনো অনলাইন ফিচারের দেখা মেলেনি।

আগামী ১৯ নভেম্বর গেইমটি মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইতিহাস গড়ার অপেক্ষা করলেও জিটিএ ৬-এর দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য নির্ভর করবে অনলাইন মোডকে কোম্পানিটি কতটা আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে তার ওপর।

জিটিএ ৫-এর পর চালু হওয়া ‘জিটিএ অনলাইন’ আজও বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় গেইম ও এখান থেকেই রকস্টারের আয় হয়েছে শত শত কোটি ডলার। ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া জিটিএ ৫ এ পর্যন্ত ২০ কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে।

সিরিজটির ষষ্ঠ পর্বের দুটি অফিসিয়াল ট্রেইলার ইউটিউবে এরইমধ্যে প্রায় ৫০ কোটি বার দেখা হয়েছে।

এদিকে, আগামী মাসে স্কটল্যান্ডের এক এমপ্লয়মেন্ট ট্রাইব্যুনালে রকস্টারকে নিজেদের সাবেক কর্মীদের আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়তে হবে, যেখানে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ইউনিয়ন গঠন চেষ্টার কারণে অন্যায়ভাবে ছাঁটাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।

তবে, রকস্টার এ দাবি অস্বীকার করে বলেছে, গুরুতর অপরাধমূলক আচরণের জন্যই তাদের বরখাস্ত করা হয়েছিল।