এ চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করে একদিন সিএমএন রোগে আক্রান্ত রোগীদের দেহে থাকা বিশাল তিল এমনকি তুলনামূলক সাধারণ তিলও সরিয়ে ফেলা সম্ভব।
Published : 18 Jun 2024, 05:22 PM
জন্মদাগ বা ‘সিএমএন’ নামের রোগটি একেবারে নির্মূল করা সম্ভব, এমনই দাবি সাম্প্রতিক এক যুগান্তকারী গবেষণার।
সিএমএন-এর পূর্ণরূপ হল ‘কনগেনিশাল মেলানোসাইটিক নাইভাস সিনড্রোম’, যেখানে নবজাতক শিশুদের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত জায়গাজুড়ে বড় ব্যাথাদায়ক বা চুলকানিজাতীয় আঁচিল বা তিল দেখা যায়।
এর পেছনের কারণ মূলত গর্ভে থাকাকালীন জেনেটিক মিউটেশনের ঘটনা। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে এইসব আঁচিল থেকে মেলানোমা (এক ধরনের ত্বকের ক্যান্সার) হওয়ার ঝুঁকিও থাকে উঠে এসেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে।
‘সিএমএনএস’ রোগ নিয়ে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল ইঁদুরের ওপর, যেখানে এই রোগের প্রভাব বিস্তার করা জিন ‘এনআরএএস’কে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন গবেষকরা। ফলে, শরীরে থাকা বিভিন্ন আঁচিল নিজে থেকেই ধ্বংস হতে শুরু করে।
এ চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করে একদিন সিএমএন রোগে আক্রান্ত রোগীদের দেহে থাকা বিশাল তিল এমনকি তুলনামূলক সাধারণ তিলও সরিয়ে ফেলা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে লিখেছে স্কাই নিউজ।
এ গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া ‘ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন জিওএস ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথ’-এর ‘পেডিয়াট্রিক ডার্মাটোলজি’ বিভাগের অধ্যাপক ভেরোনিকা কিনসলার বলেছেন, “সিএমএন রোগটি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের পরিবারের জন্যেই শারীরিক ও মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং বিষয়।”
“এর ফলাফল খুবই রোমাঞ্চকর। কারণ, জেনেটিক থেরাপিটি শুধু পরীক্ষাগারে ইঁদুরের দেহে থাকা তিলের কোষগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধ্বংসই করেনি, বরং আমরা একে ইঁদুরের ত্বকেও প্রবেশ করাতে পেরেছি।”
এদিকে, রোগীদের ওপর এ থেরাপি ব্যবহারের আগে এ বিষয়ে আরও পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে সতর্ক করেছেন তিনি। তবে আশা করা হচ্ছে, এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের ওপর শিগগিরই এর ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হবে।
গবেষণাটি নিয়ে কাজ করেছেন ‘ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউট, ইউসিএল গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট ইনস্টিটিউট ফর চাইল্ড হেলথ’ ও ‘গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হসপিটাল ফর চিলড্রেন’-এর গবেষকরা।
এর পেছনে আংশিক অর্থায়ন ছিল সিএমএন-এ আক্রান্ত রোগীদের সমর্থনে নিবেদিত দাতব্য সংস্থা ‘কেয়ারিং ম্যাটার্স নাও’র। সংস্থাটির সিইও জোডি হোয়াইটহাউস এ গবেষণার বিভিন্ন ফলাফলকে এমন এক যুগান্তকারী অগ্রগতি বলে ব্যাখ্যা করেছেন, যা জীবন বদলে দিতে পারে।
“আমার জন্ম হয়েছিল শরীরে ৭০ শতাংশ সিএমএন বা জন্মদাগ নিয়ে। আর এগুলো সরাতে ছোটবেলায় আমাকে ৩০টিরও বেশি অপারেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তাও কোনো সাফল্য ছাড়া। সে বিষয়টি বিবেচনা নিয়েই বলছি, এই খবর খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক ও রোমাঞ্চকর। সিএমএন নিয়ে বেঁচে থাকা রোগীদের জীবনে সত্যিকারের আশা জাগিয়েছে এটি।”
এ গবেষণায় সিএমএন নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের বিভিন্ন কোষ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দান করেছেন তাদেরই মা-বাবা।
এই শিশুদের একজন হলেন সাত বছর বয়সী হান্না ও আরেকজন তিন বছর বয়সী শিশু অ্যাডা।