১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নাসা ‘চাঁদে আপনার নাম পাঠাতে’ চায়–এ কথার মানে আসলে কী?

এ মিশনের মাধ্যমে আরও গভীর মহাকাশ অভিযানের দুয়ার খুলবে। সে কারণে ‘আর্টেমিস ২ বোর্ডিং পাস’ সিস্টেমের মাধ্যমে সবাইকে এ অভিযানের অংশ হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে নাসা।

নাসা ‘চাঁদে আপনার নাম পাঠাতে’ চায়–এ কথার মানে আসলে কী?
নাম পাঠানো যাবে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত। ছবি: নাসা

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Sep 2025, 10:50 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:21 PM

আপনি চাঁদে যেতে চান?

প্রশ্ন শুনে হয়ত অনেকে হাসছেন। কেউ কেউ সত্যিই ভাবছেন–কেমন হত চাঁদে যেতে পারলে! 

সে সুযোগ হয়ত হবে না। তবে আপনার প্রিয় নামটি চাঁদের কাছাকাছি পাঠানোর সুযোগ করে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ‘আর্টেমিস ২ মিশন।

সেই গুহাবাসী জীবন থেকেই চাঁদ রয়েছে মানুষের কল্পনা ও কৌতূহলের কেন্দ্রে। চন্দ্রকলা হয়ে উঠেছে মানুষের পঞ্জিকা; চাঁদ নিয়ে মানুষের বিস্ময় কখনোই ফুরোয় না।

যদিও আকাশে খালি চোখে চাঁদ দেখা যায়, কিন্তু পৃথিবী থেকে দূরত্ব একেবারে কম নয়; প্রায় দুই লাখ ৩৯ হাজার মাইল। 

ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কেবল ১২ জন চাঁদের মাটিতে পা রাখার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রথম মানুষ নিল আর্মস্ট্রং। 

১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর থেকে আর কেউ চাঁদে পা রাখেননি। সেই সময় মহাকাশ দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্র জিতে যায়। তারপর বাজেট সংকটের কারণে নাসার অরেক মিশন বাতিল হয়।

এরপর পেরিয়ে গেছে অর্ধশতক। তবু সেই চন্দ্রজয়ী নভোচারীদের সাহসিকতা কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। অনেকেই এখনো চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ‘আর্টেমিস ২ মিশনে আপনার নাম পাঠান’ কর্মসূচি হওয়ার কথা রয়েছে আগামী বছর। প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট স্ল্যাশগিয়ার লিখেছে, চাঁদে যাওয়ার সুযোগ আমাদের কোনো দিন নাও হতে পারে, তবে এ উদ্যোগ আমাদের নাম পৌঁছে দিতে পারে চাঁদের কাছাকাছি। 

নাসা জানিয়েছে, আসন্ন ‘আর্টেমিস ২’ মিশনে থাকবেন চারজন নভোচারী। তারা হলেন–কানাডার স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন, নাসার ক্রিস্টিনা কক, রেইড উইসম্যান ও ভিক্টর গ্লোভার।

না, এবার তারা চাঁদের মাটিতে নামবেন না। তবে চাঁদের আশপাশে উড়ান দেবেন। আমাদের নাম তারাই নিয়ে যাব্নে সেখানে। 

আগ্রহীরা ২০২৬ সালের জানুয়ারির আগেই আবেদন করতে পারবেন। তাদের নাম এক বিশেষ এসডি কার্ডে যুক্ত করে ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানে রাখা হবে।

এ অভিযানের গুরুত্ব কী, আর্টেমিস প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য কী, কীভাবে আপনি এ ইতিহাসের অংশ হতে পারেন–সেসব নিয়ে বিস্তারিত লিখেছে স্ল্যাশগিয়ার।

আর্টেমিস ২-এর গুরুত্ব

অর্ধশতক আগে শেষবার যখন মানুষ চাঁদের মাটিতে পা রেখেছিল, সেই সময় থেকে মহাকাশ নিয়ে মানুষের স্বপ্ন আরও বড় হয়েছে। চাঁদ অনেক দূরে হলেও মঙ্গল গ্রহের তুলনায় তা পৃথিবীর নিকট প্রতিবেশী। নাসার হিসাবে, মঙ্গল গ্রহে যেতে প্রায় তিন বছর লাগবে, সে তুলনায় চাঁদে পৌঁছাতে লাগে মাত্র তিন দিন।

‘আর্টেমিস ২’ মিশনের মূল উদ্দেশ্য চাঁদের পথে মানুষের মহাকাশযাত্রার অভিজ্ঞতা নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়া এবং তা কাজে লাগানো, যাতে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহের মত অনেক বেশি কঠিন ও দূরের উদ্দেশ্যে যাত্রা সম্ভব হয়। বলা যায়, ভবিষ্যতে বিশাল মহাকাশ জয়ের অভিযাত্রায় আর্টেমিশন ২ মিশন হবে নতুন করে প্রথম পদক্ষেপ। 

শেষ পর্যন্ত মঙ্গলে বসতি গড়তে চাইলে চাঁদ হতে পারে এর প্রথম ধাপ। আর্টেমিস প্রোগ্রামের জন্য চার ধাপের একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে নাসা, যা শুরু হয়েছিল মহাকাশে ‘ওরিয়ন’ রকেট পাঠানোর মাধ্যমে। 

রকেটটি ২০২২ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে চাঁদের আশপাশ ঘুরে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। ওই যাত্রায় কোনো মানুষ না থাকলেও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মহাকাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছে নাসা।

এর পরবর্তী ধাপ হল আর্টেমিস ২, যেখানে নভোচারীরা থাকবেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের রওনা হওয়ার কথা। এটি এমন এক মিশন, যা কেবল বিজ্ঞান নয়, মানুষের কল্পনা ও স্বপ্নকেও ডানা মেলে উড়তে দিচ্ছে।

চাঁদে যেভাবে নাম পাঠানো যাবে

আর্টেমিস প্রকল্প নাসার অসাধারণ এক উদ্যোগ, যার শেষ ধাপ ‘আর্টেমিস ৪’। শেষ ধাপে চাঁদে একটি মহাকাশ স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে নাসার। 

এ মিশনের মাধ্যমে আরও গভীর মহাকাশ অভিযানের দুয়ার খুলবে। এ কারণে ‘আর্টেমিস ২ বোর্ডিং পাস’ সিস্টেমের মাধ্যমে সবাইকে এ অভিযানের অংশ হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে নাসা। 

কেউ চাইলে নিজের নাম একটি এসডি কার্ডে যোগ করতে পারেন, যেটি আর্টেমিস ২ মিশনের ওরিয়ন রকেটে করে চাঁদের পথে যাবে। 

মানুষের নামে ভরা এ এসডি কার্ড মহাকাশযানে থাকবে, যা হবে এ অভিযানে আপনার প্রতীকী অংশগ্রহণ। নাম যোগ করার পর আপনি একটি ‘বোর্ডিং পাস’ পাবেন, যেটা হবে আর্টেমিস ২ মিশনে আপনার প্রতীকী অংশগ্রহণের ডিজিটাল স্মারক বা মেমেন্টো।

এখন পর্যন্ত চার লাখ ৯০ হাজার ৪৫০টি বোর্ডিং পাস দেওয়া হয়েছে, যেগুলো ডাউনলোড করা যায় ও স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রাখা যায়। এরকম একটি পাসের মালিক হওয়ার মানে হল, আপনার নামটি ওরিয়ন রকেটের এসডি কার্ডে থাকবে। এভাবে মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠতে পারবেন আপনিও। 

নাম পাঠানো যাবে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত। সেজন্য তিনটি সহজ কাজ করতে হবে। 

প্রথমে নাসার নির্দিষ্ট লিংকে (https://www3.nasa.gov/send-your-name-with-artemis/) গিয়ে নিজের নাম লিখে পছন্দের একটি পিন কোড দিতে হবে। 

পিনটি ভুলে গেলে চলবে না, বেহাতও হওয়া যাবে না। নাসা সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে লগইন করতে বা বোর্ডিং পাস দেখতে কাজে লাগবে এই পিন। সেটি হারিয়ে গেলে পুনরুদ্ধারের কোনো উপায় নেই। 

এ মিশনে মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে রয়েছেন ক্রিস্টিনা কচ ও জেরেমি হ্যানসেন। ভিক্টর গ্লোভার পাইলট; আর রিড ওয়াইজম্যান মিশন কমান্ডার।

মোট ছয় লাখ ৮৫ হাজার মাইল দূরত্ব অতিক্রম করবেন তারা, আর আপনার নামটিও তাদের সঙ্গী হতে পারে।