Published : 12 Nov 2025, 03:58 PM
চীনের দিক থেকে ‘বড় ধ্বংসাত্মক সাইবার হামলার’ ঝুঁকিতে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া– এমনই বলেছেন দেশটির গোয়েন্দা প্রধান।
‘অস্ট্রেলিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন’ বা এএসআইও প্রধান মাইক বার্জেস বলেছেন, চীন সরকার ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে জড়িত হ্যাকাররা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া এখন ‘বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক সাইবার হামলার’ ঝুঁকিতে রয়েছে।
গোয়েন্দা প্রধান আরও বলেছেন, ‘অভূতপূর্ব মাত্রার এই গুপ্তচরবৃত্তি’ আগামী পাঁচ বছরে দেশটিতে ‘সাইবার হামলার মাধ্যমে নাশকতা কর্মকাণ্ডের’ ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, ‘একটি রাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়া ও এর বিভিন্ন মিত্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে প্রবেশ ও নজরদারির একাধিক চেষ্টা চালাচ্ছে’। তাদের লক্ষ্য এসব দেশের ‘পানি, পরিবহন, টেলিযোগাযোগ ও জ্বালানি নেটওয়ার্কের মতো জায়াগায় প্রবেশ করা’, যাতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতি বা নাশকতা ঘটানো যায়।
চীনা দূতাবাসের সঙ্গে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করে সাড়া পায়নি বিবিসি।
বার্জেস বলেছেন, এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘অরাজকতা তৈরি ও নাশকতা’ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা।
‘সল্ট টাইফুন’ ও ‘ভোল্ট টাইফুন’ নামের দুটি চীনা হ্যাকিং গ্রুপের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি। এসব হ্যাকার দল যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ কোম্পানির ওপর সাইবার হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
বুধবার মেলবোর্নে এক ব্যবসায়ী সম্মেলনে বার্জেস বলেছেন, “এসব হ্যাকার দল চীনা সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনীর হয়ে কাজ করে।
“উভয় হ্যাকার দলই অতীতে সংবেদনশীল তথ্য চুরিতে সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে আসল ঝুঁকি হচ্ছে ধ্বংসাত্মক সাইবার হামলার ঝুঁকি, যার মাধ্যমে কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ব্যাঘাত তৈরি করা।”
তিনি বলেছেন, সল্ট টাইফুনের উদ্দেশ্য গুপ্তচরবৃত্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কে অনধিকার প্রবেশ।
“হ্যাকার দলটি আমাদের অস্ট্রেলিয়ার টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ককেও প্রবেশের চেষ্টা করছে।”
অন্যদিকে, ভোল্ট টাইফুনের উদ্দেশ্য নেটওয়ার্কে ব্যাঘাত ঘটানো, যেখানে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য নাশকতার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নেটওয়ার্কে অনধিকার প্রবেশ করেছে এ হ্যাকার দলটি।
“আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও প্রবেশের চেষ্টা করছে চীনা হ্যাকাররা।”
বার্জেস আবারও সতর্ক করে বলেছেন, কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা এখন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ধ্বংসাত্মক হামলা চালাতে আরও আগ্রহী হয়ে উঠেছে, যাতে ‘বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বাধা, অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত, যুদ্ধ সক্ষমতা দুর্বল ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করা’ সম্ভব হয়।
“এসব হ্যাকার দল আগ্রাসীভাবে বেসরকারি প্রকল্প, আলোচনা ও বিনিয়োগকে টার্গেট করছে, যাতে বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানি লাভবান হয়। পাশাপাশি অপরাধীদের মতো গ্রাহকদের ডেটায়ও সাইবার হামলা চালাচ্ছে এরা।”
অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা প্রধান বলছেন, সংরক্ষিত হিসাব অনুসারে ২০২৩-২৪ সালে গুপ্তচরবৃত্তির ফলে অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৮২০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি করেছে। এক বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি থেকে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ব্যবসায়িক গোপন তথ্য ও মেধা সম্পদ চুরি হয়েছে।