Published : 25 Jan 2026, 04:50 PM
চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই তাদের জিপিটি-৫.২ মডেলটিকে পেশাদার কাজের জন্য ‘সবচেয়ে উন্নত ও আধুনিক মডেল’ হিসেবে দাবি করলেও এর তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ানের করা কিছু পরীক্ষায় উঠে এসেছে, ইরান বা হলকাস্টের মতো সুনির্দিষ্ট এবং বিতর্কিত কিছু বিষয়ে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে জিপিটি-৫.২ মডেলটি অনলাইন এনসাইক্লোপিডিয়া বা বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার আদলে তৈরি ‘গ্রকিপিডিয়া’কে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। গ্রকিপিডিয়া তৈরি করেছে ইলন মাস্কেরই এআই স্টার্টআপ এক্সএআই।
গার্ডিয়ান প্রতিবেদনে লিখেছে, ইরান সরকার ও টেলিযোগাযোগ কোম্পানি ‘এমটিএন-ইরানসেল’-এর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে তথ্য দিতে গিয়ে সূত্র হিসেবে গ্রকিপিডিয়া ব্যবহার করেছে চ্যাটজিপিটি।
ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ রিচার্ড এভান্সকে নিয়ে করা প্রশ্নের ক্ষেত্রেও একই কাজ করেছে ওপেনএআইয়ের অ্যাপটি। হলকাস্ট অস্বীকারকারী ডেভিড আরভিংয়ের মানহানি মামলায় একজন বিশেষজ্ঞ সাক্ষী ছিলেন এভান্স।
তবে গার্ডিয়ান বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব বা এ ধরনের অন্য কোনো বিতর্কিত বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তখন আর গ্রকিপিডিয়া ব্যবহার করেনি চ্যাটজিপিটি।
গেল ডিসেম্বরে ‘জিপিটি-৫.২’ মডেলটি চালু করে ওপেনএআই। এ মডেলে ‘স্প্রেডশিট’ তৈরি বা জটিল সব পেশাদার কাজ আরও দক্ষভাবে করা যায়। চ্যাটজিপিটির নতুন মডেলটি বাজারে আসার আগেই গ্রকিপিডিয়া চালু হয়েছিল।
তবে শুরু থেকেই বিতর্কের মুখে পড়েছে মাস্কের এই অনলাইন বিশ্বকোষ, যেখানে তথ্যসূত্র হিসেবে বিভিন্ন নব্য-নাৎসি ফোরামের নাম ব্যবহার করছে গ্রকিপিডিয়া।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, অনেক ক্ষেত্রে ‘সন্দেহজনক’ ও ‘আপত্তিকর’ উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে এআইচালিত এ বিশ্বকোষটি।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ওপেনএআই বলেছে, তাদের জিপিটি-৫.২ মডেলটি ইন্টারনেটে থাকা ‘বড় পরিসরের উন্মুক্ত উৎস ও বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি’ যাচাই করে তথ্য খোঁজে।
“ক্ষতিকর বা ঝুঁকিপূর্ণ কোনো ওয়েবসাইটের লিংক যাতে সামনে না আসে সেজন্য বিশেষ সেইফটি ফিল্টার বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাও ব্যবহার করি আমরা।”