Published : 24 Sep 2025, 01:40 PM
অ্যাপল তাদের সর্বশেষ আইফোন অপারেটিং সিস্টেম আপডেট প্রকাশ করেছে। অনেকেই ভেবেছিলেন নাম হবে আইওএস ১৯ কিন্তু কোম্পানিটি এবার সরাসরি নিয়ে এলো আইওএস ২৬। শুধু তাই নয় আইপ্যাড, অ্যাপল ওয়াচ, ম্যাক এবং অন্যান্য ডিভাইসের নতুন অপারেটিং সিস্টেমেও একই নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।
যারা এতদিন বেটা সংস্করণ ব্যবহার করেননি এখন চাইলে আইওএস ১৮ থেকে স্টেবল ভার্সন আইওএস ২৬-এ আপগ্রেড করতে পারবেন। তবে প্রযুক্তি সাইট নিওউইন লিখেছে, আপডেট ইনস্টল করার আগে ব্যবহারকারীদের কিছু প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
সমর্থিত আইফোন মডেল দেখে নিন
সবার আগে নিশ্চিত হতে হবে ব্যবহারকারীর ডিভাইসটি এই আপডেট সমর্থন করে কি না। নইলে সফটওয়্যার আপডেট পেইজ ফাঁকা হয়ে যাবে। তাই আইওএস ২৬ সমর্থন করে এমন আইফোন মডেলের তালিকা একবার দেখে নেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অ্যাপল বাজারে এনেছে আইফোন এয়ার এবং আইফোন ১৭ সিরিজ যার সর্বোচ্চ সংস্করণের দাম দুই হাজার ডলার।
ব্যাকআপ নেওয়া ‘অতি জরুরি’
আইফোন আপডেট এখন আগের চেয়ে অনেক স্থিতিশীল হলেও প্রযুক্তিগত সমস্যার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই আইওএস ২৬ ইনস্টল করার আগে একবার ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ব্যাকআপ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
ব্যবহারকারীরা সেটিংস > আইক্লাউড > আইক্লাউড ব্যাকআপে গিয়ে ‘ব্যাকআপ নাও’ অপশন ব্যবহার করতে পারেন। তবে পর্যাপ্ত আইক্লাউড স্টোরেজ থাকতে হবে। বিকল্পভাবে, ম্যাকে লোকাল ব্যাকআপও রাখা যায়।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি ‘ফটোস’ অ্যাপের ছবি ও ভিডিও ডিভাইস ব্যাকআপে যুক্ত হয় না যদি ‘আইক্লাউড ফটোস’ অপশন অন থাকে। এটি করতে সেটিংস > নেইম > আইক্লাউড > ফটোস-এ গিয়ে ‘সিংক দিস আইফোন’ টগল অন করতে হয়। এরপর ‘ফটোস’ অ্যাপে গিয়ে প্রোফাইল আইকনে ট্যাপ করে সিংক স্ট্যাটাস দেখা যাবে। চাইলে ‘অপ্টিমাইজ আইফোন স্টোরেজ’ চালু করে আসল ফাইল ক্লাউডে রেখে ডিভাইসের জায়গা খালি করা যায়।
থার্ড-পার্টি অ্যাপও ব্যাকআপ করুন
ওয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামের মতো অ্যাপের চ্যাটিং আইফোন ব্যাকআপে যুক্ত হয় না। উদাহরণ হিসেবে, হোয়াটসঅ্যাপ আলাদাভাবে আইক্লাউডে ব্যাকআপ রাখে। তাই নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে সর্বশেষ তারিখ পর্যন্ত ব্যাকআপ সম্পন্ন হয়েছে কি না।
ব্যাকআপ ফ্রিকোয়েন্সি যদি সপ্তাহে একবার সেট করা থাকে তবে আপডেট দেওয়ার আগে সেটি না হলে কিছু চ্যাট হারানোর ঝুঁকি থাকবে। শুধু হোয়াটসঅ্যাপ নয়, যেসব অ্যাপের ডেটা আইক্লাউডে সিংক হয় না তাদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।
অ্যাপ আপডেট করা দরকার
যাদের অ্যাপে স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু নেই, তাদের অ্যাপ স্টোরে গিয়ে ম্যানুয়ালি আপডেট করতে হবে। এতে সামঞ্জস্যজনিত সমস্যা কমে যাবে, কারণ ডেভেলপাররা অনেক সময় নতুন আইওএস সংস্করণের জন্য শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন প্রকাশ করে থাকেন।
লগইন তথ্য সুরক্ষিত রাখুন
এখন প্রায় প্রত্যেক ব্যবহারকারীর ডজনখানেক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। প্রতিটির ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড মনে রাখা সম্ভব নয়। তাই ‘পাসওয়ার্ডস’ অ্যাপে বা পছন্দের পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে সব তথ্য সেইভ করে রাখা উচিত। এতে করে আপডেট চলাকালীন কোনো অঘটন ঘটলেও লগইন তথ্য সুরক্ষিত থাকবে।
যথেষ্ট ফ্রি স্টোরেজ নিশ্চিত করুন
আইওএস ২৬ আপডেট প্যাকেজের আকার প্রায় ৭.৮ জিবি। তবে নির্বিঘ্নে ইনস্টলেশনের জন্য ডিভাইসে অন্তত ২০-২৫ জিবি ফাঁকা স্টোরেজ রাখার সুপারিশ করা হচ্ছে। জায়গা না থাকলে আইক্লাউডে ছবি সিংক করে বাড়তি ভিডিও ডিলিট করে দেওয়া যেতে পারে।
ব্যাটারিতে পর্যপ্ত চার্জ থাকা দরকার
আপডেট চলাকালীন যদি ডিভাইস হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় তবে সেটি ব্রিক হয়ে যেতে পারে বা ডেটা হারাতে পারে। তাই অন্তত ৫০ শতংশ ব্যাটারি রেখে আপডেট শুরু করা উচিত।
স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ অপরিহার্য
দুর্বল নেটওয়ার্কে ডাউনলোড ব্যর্থ হতে পারে বা মাঝপথে থেমে যেতে পারে। তাই ওয়াইফাই ব্যবহার করে আপডেট ডাউনলোড করাই ভালো। মোবাইল ডেটায় করলে বড় অংকের পয়সা খরচ হতে পারে। দ্রুত ডাউনলোড পেতে নেটওয়ার্কে অন্য ডিভাইস দিয়ে বড় কাজ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই
নতুন সফটওয়্যার আপডেট এলে কিছুটা সময় অপেক্ষা করাই নিরাপদ। উদাহরণ হিসেবে, সম্প্রতি পিক্সেল ১০ সিরিজের শুরুর দিকের ব্যবহারকারীরা ওয়্যারলেস চার্জারে সমস্যা লক্ষ্য করেছিলেন। আবার গত বছর আইওএস ১৮ উন্মোচনের দুই দিনের মধ্যে আইমেসেজে বাগের খবর এসেছিল।
তবে এসব সতর্কবার্তা হলেও নতুন আপডেট ব্যবহার থেকে নিরুৎসাহিত হওয়ার কিছু নেই। কেউ চাইলে স্থিতিশীলতা যাচাইয়ের জন্য এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে পারেন।
সব মিলিয়ে, আইওএস ২৬ শুধু একটি সাধারণ আপডেট নয় বরং আইফোনে এ বছরে আসা সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। তবে ইনস্টলেশনের আগে ব্যবহারকারীদের উপরের ধাপগুলো মেনে নিলে অভিজ্ঞতা হবে আরও নির্বিঘ্ন ও ঝামেলাহীন।