Published : 24 Aug 2026, 10:15 AM
ইরানের সরকারঘেঁষা হ্যাকারদের সাইবার হামলার শিকার হয়ে এ বছর চার দিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল যুক্তরাজ্যের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
গেল জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের ছোট আকারের ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এ সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে, যা দেশটির জ্বালানি খাতের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে রোববার এক প্রতিবেদনে লিখেছে টেলিগ্রাফ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি প্রতিবেদনে লিখেছে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত সাতটি অঙ্গরাজ্যের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর ইরানের সাইবার হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সিআইএসএ।
যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র ঘটনার বিষয় নিশ্চিত করলেও নির্দিষ্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নাম প্রকাশ করতে ও সরাসরি হামলাকারীকে অভিযুক্ত করতে রাজি হননি।
সিএনবিসি’কে দেওয়া বিবৃতিতে ওই মুখপাত্র বলেছেন, “ছোট আকারের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর এই আঘাত আনা হয়েছিল। ফলে মূল জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। যুক্তরাজ্যের জ্বালানি খাত যথেষ্ট শক্তিশালী ও নিরাপত্তা রক্ষায় অবকাঠামোগত নিশ্চিতকরণে আমরা কাজ করছি।”
ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড নেট জিরো’ সব জ্বালানি কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের পরিস্থিতি ব্রিফ করেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
পাশাপাশি নিজেদের সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন সংশোধনের কাজ শুরু করেছে তারা।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পরপরই মার্কিন ব্যবসা কোম্পানি ও মূল অবকাঠামোর ওপর ইরানি সাইবার হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
তারই ধারাবাহিকতায় ১৮ অগাস্ট ১৭ জন ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে মার্কিন বিচার বিভাগ।
তাদের বিরুদ্ধে দেশটির ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর’ বা আইআরজিসি ও অন্যান্য ইরানি কোম্পানির পক্ষে ‘বড় আকারের সাইবার চুরির প্রচারণা’ চালানোর অভিযোগ এনেছে মার্কিন সংস্থাটি।
তবে সাইবার হামলার শিকার হতে হচ্ছে ইরানকেও।
জুনে দেশটির সরচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন মাধ্যম ‘নোবিটেক্স’ হ্যাকিংয়ের শিকার হয়ে ৯ কোটি ডলারেরও বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানায় ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী কোম্পানি এলিপটিক।
কোম্পানিটি বলেছে, প্ল্যাটফর্মটির ওয়ালেট থেকে অর্থ সরিয়ে যেসব অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় সেগুলোতে আইআরজিসি-বিরোধী রাজনৈতিক বার্তা লেখা ছিল, যা এ হামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করেছে।
পরবর্তীতে এ হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসরায়েলপন্থি হ্যাকার গোষ্ঠী ‘গোঞ্জেংকে দারান্দে’।