Published : 06 Jul 2024, 03:19 PM
সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে চীনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি, যা ছোট আকারের কোনো দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার মতো যথেষ্ট।
উত্তর চীনের ‘ইনার মঙ্গোলিয়া’ অঞ্চলে হতে যাওয়া এই প্রকল্পের পেছনে খরচ পড়বে এক হাজার কোটি ডলারেরও বেশি, যার বিদ্যুৎ পৌঁছাবে বেইজিং, তিয়ানজিন ও হেবেইয়ের সমন্বয়ে গঠিত শহুরে অঞ্চল ‘জিং-জিন-জি’তে।
এই আট গিগাওয়াট কারখানার সক্ষমতা যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকেরও বেশি, যার মাধ্যমে প্রায় ৬০ লাখ বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব হবে।
এই সমন্বিত বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি চার গিগাওয়াটের বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা, চার গিগাওয়াটের কয়লা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা ও দুইশ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাও থাকবে। পাশাপাশি, সাইটে আরও পাঁচ গিগাওয়াট আওয়ার বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থাও থাকবে।
এ বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করবে চীনের ‘থ্রি জর্জেস রিনিউএবলস গ্রুপ’। এর নির্মাণকাজ শুরু হবে এ বছরের সেপ্টেম্বর থেকে, যা পুরোদমে চালু হতে পারে ২০২৭ সালের জুন মাস নাগাদ।
চীনের উত্তর পশ্চিমাংশে অবস্থিত জিনজিয়াং প্রদেশে পাঁচ গিগাওয়াট আওয়ার সক্ষমতাওয়ালা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর কয়েক সপ্তাহ পরই এ নতুন কারখানা নির্মাণের ঘোষণা এল।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এক মরুভূমি অঞ্চলে দুই লাখ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত, যা আয়তনে নিউ ইয়র্ক শহরের সমান।
বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতাওয়ালা দেশ হল চীন, যারা ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত নিজস্ব গ্রিডে ছয়শ গিগাওয়াট আওয়ারের বেশি বিদ্যুৎ সংযোগ করেছে।
এ ছাড়া, নিজেদের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো অব্যাহত রেখেছে দেশটি, যেখানে গত বছর দেশটির সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০২২ সালে বিশ্বের সকল দেশের সমন্বিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার চেয়েও বেশি ছিল বলে উঠে এসেছে ‘ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)’র তথ্যে।
“ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলে নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের সক্ষমতা সর্বকালের সেরা পর্যায়ে থাকলেও চীনের অগ্রগতি অভূতপূর্ব,” নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে আইইএ।
“বৈশ্বিকভাবে নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের সক্ষমতা তিন গুণে নেওয়ার ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ ২০৩০ সাল নাগাদ গোটা বিশ্বের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে যতগুলো নতুন কারখানা দরকার, তার অর্ধেকের বেশি নির্মাণ করার লক্ষ্য নিয়েছে দেশটি।”