বাজেটের মধ্যে মানানসই ‘স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ এফই’
এর আগের মডেলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ফোনটিতে দীর্ঘ সাত বছরের অপারেটিং সিস্টেম ও সিকিউরিটি আপডেটের নিশ্চয়তা দিয়েছে স্যামসাং।
স্মার্টফোনের বাজারে মিডরেঞ্জ ও প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপের মধ্যবর্তী ব্যবধান ঘোচাতে বরাবরই জনপ্রিয় স্যামসাংয়ের ফ্যান এডিশন বা এফই সিরিজ।
এ-সিরিজের চেয়ে উন্নত তবে মূল এস-সিরিজের চেয়ে কম খরচে ফ্ল্যাগশিপ অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাজারে এসেছে নতুন ‘স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ এফই’।
৭০০ ডলারের প্রারম্ভিক দামের ফোনটি আকারে ও গঠনে ‘এস২৬ প্লাস’-এর কাছাকাছি হলেও এর কিছু কারিগরি বৈশিষ্ট্যে মিডরেঞ্জ ‘এ৫৭’ মডেলের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে বলে লিখেছে প্রযুক্তি সাইন এনগ্যাজেট।
গ্যালাক্সি এস২৬ প্লাসের মতোই নতুন এ এস২৬ এফই ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ইঞ্চির ওএলইডি ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে। ফ্ল্যাগশিপ মডেলের ২ হাজার ৬০০ নিটস ব্রাইটনেসের তুলনায় এফই মডেলটিতে সর্বোচ্চ ব্রাইটনেস রাখা হয়েছে ১ হাজার ৯০০ নিটস।
ডিভাইসটির পেছনের ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপে মূল সেন্সর হিসেবে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। পাশাপাশি রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেল সেন্সরওয়ালা আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা ও ৩এক্স অপটিক্যাল জুম সুবিধাসহ টেলিফটো লেন্সওয়ালা ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।
প্রসেসরের ক্ষেত্রে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন চিপের বদলে স্যামসাং ব্যবহার করেছে নিজস্ব ‘এক্সিনোস ২৫০০’ প্রসেসর। এতে ৮ জিবি র্যামের পাশাপাশি ১২৮ জিবি ও ২৫৬ জিবির ইন্টারনাল স্টোরেজ সংস্করণ বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ফোনের ব্যাকআপ নিশ্চিতে এতে রয়েছে ৪ হাজার ৯০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি, যা ৪৫ ওয়াটের তারওয়ালা ও ১৫ ওয়াটের তারবিহীন দ্রুত চার্জিং সমর্থন করে।
এর আগের মডেলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ফোনটিতে দীর্ঘ সাত বছরের অপারেটিং সিস্টেম ও সিকিউরিটি আপডেটের নিশ্চয়তা দিয়েছে দক্ষিণ কোরীয় এ প্রযুক্তি জায়ান্ট।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এস২৬ সিরিজের প্রতিটি মডেলে ১২ জিবি র্যাম দেওয়া হলেও এফই সংস্করণে ৮ জিবি র্যামে আটকে থাকা কিছুটা হতাশাজনক। বিশ্বজুড়ে র্যাম মেমোরি চিপের চলমান সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে আগের ‘এস২৫ এফই’-এর তুলনায় এ ফোনের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ ডলার।
নকশার দিক থেকে এতে আছে অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম ও স্লিম ক্যামেরা বাম্প। তবে ফ্ল্যাগশিপ এস-সিরিজের ব্যাক প্যানেলে গ্লাস ব্যবহৃত হলেও এস২৬ এফই-এর ব্যাক প্যানেলে পলিকার্বোনেট বা উচ্চমানের প্লাস্টিক ব্যবহার করেছে স্যামসাং। তবে খালি চোখে গ্লাস ও পলিকার্বোনেটের এই ফারাক ধরা বেশ কঠিন।
ডিভাইসের দামে ছাড় থাকলেও সফটওয়্যার ফিচারের দিক থেকে বড় ধরনের কোনো আপস করেনি স্যামসাং। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ পাওয়া মূল গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের প্রায় সবকটি সফটওয়্যার সুবিধাই যোগ হয়েছে নতুন ‘এস২৬ এফই’ মডেলে।
এর মধ্যে আনুভূমিক ভারসাম্য ধরে রাখার ‘সুপার স্টেডি ভিডিও উইথ হরাইজন্টাল লক’ ও রেকর্ড করা ভিডিও থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল কনটেন্টকে চিহ্নিত করার ‘মাই ফ্যানক্যাম’ টুল রয়েছে।
এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইচালিত ফটো অ্যাসিস্ট ও ‘নাও নাজ’ ফিচার যোগ করেছে স্যামসাং, যার সাহায্যে থার্ড-পার্টি অ্যাপ ও নোটিফিকেশন থেকে জরুরি তথ্য স্ক্রিনে সরাসরি দেখে নেওয়া সম্ভব।
প্রথম দেখায় এফই মডেলটিকে মূল এস২৬ সিরিজের মতোই মসৃণ ও প্রিমিয়াম মনে হয়েছে। ঘরের মধ্যে ব্যবহারের সময় এর ডিসপ্লের ব্রাইটনেসের পার্থক্য খুব একটা চোখ পড়ে না ও স্পর্শের প্রতিক্রিয়ায়ও বেশ দ্রুত।
স্যামসাংয়ের নিজস্ব ‘এক্সিনোস ২৫০০’ প্রসেসর গেইম খেলার সময় কতটা পারফর্ম করবে, বিশেষ করে অন্য মূল এস২৬ ফোনগুলোতে ব্যবহৃত শক্তিশালী ‘স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ ফর গ্যালাক্সি’র তুলনায় এ ফোন কতটা টিকে থাকবে তা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারেই স্পষ্ট হবে।
ফোনটি কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সামনে কিছু জটিল হিসাব-নিকাশ কাজ করতে পারে। বাজারে নতুন আসা ৯০০ ডলারের ‘এস২৬ প্লাস’-এর তুলনায় ৭০০ ডলারে এফই সংস্করণটিকে সাশ্রয়ী মনে হতে পারে। তবে বর্তমানে প্রায় ৭০০ ডলারের বাজেটেই বাজারে ব্যবহৃত ‘এস২৬ প্লাস’ পাওয়া সম্ভব।
যারা সেকেন্ড-হ্যান্ড বা ব্যবহৃত ফোনের ঝামেলায় যেতে চান না তাদের জন্য নতুন কেনা এস২৬ এফই চমৎকার পছন্দ হতে পারে। তবে কারিগরি সক্ষমতা ও উন্নত ফিচারের দিক থেকে বিবেচনা করলে সাশ্রয়ী বাজেটে ব্যবহৃত ‘এস২৬ প্লাস’ কেনাই হয়ত লাভজনক।
স্যামসাং বলেছে, আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে পিস্তাশিও, ব্লুবেরি ও গ্রাফাইট এ তিন রঙে বিশ্বজুড়ে বাজারে পাওয়া যাবে ‘গ্যালাক্সি এস২৬ এফই’।
