Published : 25 Mar 2026, 02:34 PM
হংকংয়ে ভিন্নমত দমনে আরও কঠোর হল জাতীয় নিরাপত্তা আইন। এ আইনে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত যে কোনো ব্যক্তির ফোন বা কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড পুলিশকে দিতে হবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে দেশটির পুলিশ। ভিন্নমত দমনের লক্ষ্যেই এ নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে হংকং।
আইনের এ সংশোধনীতে শুল্ক কর্মকর্তাদের এমন সব বস্তু জব্দের সক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যেগুলোকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ সংশ্লিষ্ট’ বলে মনে হবে। এক্ষেত্রে ওই বস্তুর কারণে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত বা কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না তা দেখার প্রয়োজন পড়বে না।
পুলিশের এই নির্দেশ মানতে অস্বীকার করলে এক বছরের জেল ও সর্বোচ্চ প্রায় ১২ হাজার ৭৭৩ ডলার জরিমানা হতে পারে। অন্যদিকে, ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে তিন বছর পর্যন্ত জেল এবং ৫ লাখ হংকং ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
সোমবার শহরটির সরকার ২০২০ সালে বেইজিং কর্তৃক আরোপিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের নতুন বিভিন্ন সংশোধনী প্রকাশ করেছে। হংকংয়ের আইনসভাকে এড়িয়ে বিশেষ সক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
দেশটির সরকারি এক বিবৃতি বলছে, কর্মকর্তারা মঙ্গলবার এ বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের বিস্তারিত জানাবেন।
এ কঠোর আইনে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশের মতো অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ আইনের তীব্র সমালোচনা করলেও বেইজিং ও হংকংয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৯ সালে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের ফলে তৈরি বিশৃঙ্খলা কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এ আইনের প্রয়োজন।
নতুন এ সংশোধনীর ফলে পুলিশ জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সন্দেহে তদন্তাধীন যে কোনো ব্যক্তিকে তাদের ইলেকট্রনিক ডিভাইসের পাসওয়ার্ড বা ডিক্রিপশন বা লক খোলার পদ্ধতি দিতে বাধ্য করতে পারবে।
এ ছাড়া পুলিশকে ‘যে কোনো যুক্তিসঙ্গত ও প্রয়োজনীয় তথ্য বা সহায়তা’ দেওয়ার সক্ষমতাও এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
হংকং নিয়ে গবেষণা করছেন যুক্তরাজ্যের আইন বিশেষজ্ঞ ইউরেনিয়া চিউ। তিনি বলেছেন, হংকংয়ের এসব নতুন নিয়ম মানুষের মৌলিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে। ফলে ব্যক্তিগত প্রাইভেসি ও ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার বাধাগ্রস্ত হবে।
“আদালতের অনুমতি ছাড়াই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যে বড় ধরনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তা কোনো যুক্তিসঙ্গত প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ও ভারসাম্যহীন।”
তবে হংকং সরকারের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, এসব সংশোধিত নিয়ম শহরের সংবিধান ও মানবাধিকার রক্ষা করেই করা হয়েছে।
“এ আইন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলবে না।”
হংকংয়ের নিরাপত্তা ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, এখন পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মোট ৩৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা, যার মধ্যে ১৭৬ জন ব্যক্তি ও চারটি প্রতিষ্ঠান দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে হংকংয়ের মিডিয়া টাইকুন জিমি লাইকে বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে হংকং, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।