Published : 14 Mar 2026, 12:00 PM
উইন্ডোজ ১১ ব্যবহারকারীদের গেইমিং অভিজ্ঞতায় আসছে বড় পরিবর্তন। আগামী এপ্রিলেই পিসির জন্য আসছে মাইক্রোসফটের নতুন ফুলস্ক্রিন এক্সবক্স মোড, যা ব্যবহারকারীর ল্যাপটপ বা ডেস্কটপকে কনসোলের মতো অভিজ্ঞতা দেবে।
প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, মাইক্রোসফট তাদের প্রথম ফুলস্ক্রিন এক্সবক্স অভিজ্ঞতা চালু করেছিল ‘আরওজি অ্যালাই’ হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইসে। স্টিমের প্রায় ১৫ বছরের পুরানো ‘বিগ পিকচার মোড’-এর সঙ্গে পাল্লা দিতেই তারা এটি তৈরি করেছিল।
গেল বছর এক্সবক্স ইন্টারফেইসটি উইন্ডোজ ১১ চালিত অন্যান্য পোর্টেবল গেইমিং ডিভাইসেও যোগ করেছে মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্টটি।
বৃহস্পতিবার ‘গেইমিং ডেভেলপার কনফারেন্স’ বা জিডিসি সম্মেলনে মাইক্রোসফট বলেছে, তাদের এই বড় পর্দার ‘এক্সবক্স ইউআই’ এ বছরের এপ্রিল থেকে ল্যাপটপ ও ডেস্কটপসহ সকল উইন্ডোজ ১১ ডিভাইসে পাওয়া যাবে, যা ‘এক্সবক্স মোড’ হিসেবে পরিচিতি পাবে।
‘এক্সবক্স মোড’ শুরুতে কেবল নির্দিষ্ট কিছু দেশের বাজারে পাওয়া যাবে।
মাইক্রোসফট বলেছে, উইন্ডোজ ১১ ডিভাইসে ‘কন্ট্রোলার অপ্টিমাইজড অভিজ্ঞতা’ নিয়ে আসবে এই ফিচার। ফলে গেইমাররা সহজেই তাদের গেইম লাইব্রেরি ব্রাউজ, গেইম চালু, গেইম বার ব্যবহার করতে ও খুব সহজে এক অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে সুইচ করতে পারবেন, যেমনটি স্টিমের ‘বিগ পিকচার মোড’-এ করা যায়।
এ মোডটি আরও কতটা উন্নত হয়েছে সে বিষয়ে খুব বেশি তথ্য দেয়নি মাইক্রোসফট। তবে গেল বছর তারা ‘উইন্ডোজ ১১ ইনসাইডার’দের জন্য ফিচারটি প্রথম আনার সময় একটি বিশেষ ফিচারের কথা উল্লেখ করেছিল।
ফিচারটি হচ্ছে, এর ‘টাস্ক সুইচার’, যা ব্যবহারকারীকে খুব দ্রুত একটি গেইম থেকে অন্য গেইমে বা বিভিন্ন অ্যাপের মধ্যে চলাচলে সাহায্য করবে।
জিডিসি সম্মেলনে মাইক্রোসফট বলেছে, আগামী বছর থেকে তারা ডেভেলপারদের কাছে ‘প্রজেক্ট হেলিক্স’ সিস্টেম (সম্ভবত এর ডেভ কিট বা পরীক্ষামূলক সংস্করণ) পাঠানো শুরু করবে।
গত সপ্তাহে এক্সবক্সের সিইও আশা শর্মা এই ‘প্রজেক্ট হেলিক্স’ কোডনেইমটি ঘোষণা করে বলেছিলেন, এই সিস্টেমে পিসি ও কনসোল উভয় ধরনের গেইমেই খেলা যাবে।
পরবর্তী প্রজন্মের এক্সবক্স ‘ভিপি’ সম্পর্কে মাইক্রোসফটের এক্সবক্স বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা জেসন রোনাল্ড বলেছেন, এ নতুন সিস্টেমটি এএমডি’র পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। বিষয়টি অনেকটা সেই প্রযুক্তির মতোই, যা সনির ‘প্লেস্টেশন ৬’-এর জন্য নিয়ে আসছে এএমডি।
এ কনফারেন্সে ডেভেলপারদের জন্য আরও কিছু কারিগরি তথ্য প্রকাশ করেছে মাইক্রোসফট। যেমন, ‘অ্যাডভান্সড শেডার ডেলিভারি’ বা এএসডি, যা প্রথম ‘এক্সবক্স আরওজি অ্যালাই’তে দেখা গিয়েছিল এখন এক্সবক্স স্টোরের সকল ডেভেলপারের জন্য খুলে দেবে কোম্পানিটি।
এ এএসডি প্রযুক্তিটি ডেভেলপারদের বিভিন্ন ‘শেডার’ আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখার সুযোগ দেয়। ফলে গেইমারদের আর ডিভাইসে শেডার প্রসেস হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।
সাধারণত নতুন কোনো গেইম খেলার সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে শেডার প্রসেস হওয়ার কারণে গেইমটি মাঝেমধ্যে আটকে যায় বা ‘স্টাটারিং’ হয়। নতুন এ প্রযুক্তির ফলে সে সমস্যা এড়ানো সম্ভব হবে।
‘এনভিএমই এসএসডি’তে এই গেইমটি লোডিংয়ের গতি বাড়ানোর প্রযুক্তি ‘ডাইরেক্ট স্টোরেজ’-এ এখন যোগ হচ্ছে ‘জেড স্ট্যান্ডার্ড’ কমপ্রেশন সমর্থন। একইসঙ্গে মাইক্রোসফট এতে ‘গেইম অ্যাসেট কন্ডিশনাল লাইব্রেরি’ নামের একটি টুলও যোগ করছে।
কোম্পানিটি বলেছে, এ টুলটি গেইম তৈরির সময় ডেটা কমপ্রেশনের সক্ষমতা বাড়াবে এবং একইসঙ্গে গেইমের বিভিন্ন উপাদান প্রসেসিংয়ের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে।
এ ছাড়া মাইক্রোসফট তাদের ‘ডিরেক্টএক্স’ গেইমিং এপিআই’তে পরবর্তী প্রজন্মের মেশিন লার্নিং কীভাবে প্রয়োগ হবে সে বিষয়েও ডেভেলপারদের প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।