Published : 25 Aug 2026, 02:19 PM
যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চীনে বেআইনিভাবে উচ্চমানের এআই সার্ভার পাচারের অভিযোগে এনভিডিয়া ও সুপার মাইক্রো’র কর্মীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে তাইওয়ান।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কোম্পানির নিজস্ব কঠোর নীতি চাতুর্যের সঙ্গে এড়িয়ে থার্ড-পার্টি দেশের মাধ্যমে শত কোটি ডলারের প্রযুক্তি পাচারের এ ঘটনায় বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন তোলপাড় তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
চীনে এনভিডিয়ার এআই চিপ সরবরাহের বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্র শিথিল করলেও দেশটিতে অবৈধভাবে চিপ ও সার্ভার পাচার থেমে নেই।
রয়টার্স প্রতিবেদনে লিখেছে, চীনে অবৈধভাবে উন্নতমানের এআই সার্ভার পাচারের অভিযোগে এনভিডিয়া ও সুপার মাইক্রো’র কর্মীসহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন তাইওয়ানের প্রসিকিউটররা।
তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কেলুং-এর প্রসিকিউটর কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মোটা অংকের মুনাফা পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্তরে একে অপরের সঙ্গে যোগসাজশ করেছেন।
“তারা বেআইনিভাবে উচ্চ সক্ষমতার এআই সার্ভার রপ্তানি করেছেন, যা কর্পোরেট কমপ্লায়েন্সের খরচ বাড়িয়েছে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।”
তদন্তকারী দল বলেছে, এনভিডিয়া ও সুপার মাইক্রো’র ‘কঠোর’ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা সম্পর্কে ‘সম্পূর্ণভাবে অবগত’ থাকার পরও অভিযুক্তরা এ অপরাধ করেছেন।
এনভিডিয়া মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি হলেও এদের সিংহভাগ চিপ তৈরি হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিপ নির্মাতা কোম্পানি ‘তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি’ বা টিএসএমসি’র কারখানায়।
টিএসএমসির সবচেয়ে আধুনিক ব্ল্যাকওয়েল এআই চিপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্সে তৈরি হলেও চূড়ান্ত প্রক্রিয়াকরণের জন্য সেগুলো তৈরি শেষে তাইওয়ানেই পাঠাতে হয়।
২০২২ সাল থেকেই এনভিডিয়া’সহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কোম্পানির আধুনিক এআই প্রযুক্তি চীনে বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সম্প্রতি বেশ কয়েক বছরের পুরানো প্রযুক্তি, যেমন ‘এইচ২০০’ চিপের মতো আগের প্রজন্মের পণ্য চীনে বিক্রির অনুমতি মিলেছে।
অন্যদিকে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ট্রাম্প প্রশাসনের রোষানল এড়াতে নতুন প্রযুক্তির রপ্তানির ক্ষেত্রে কঠোর নীতি মেনে চলছে তাইওয়ান।
তাইওয়ানের এ কঠোর পদক্ষেপের পরও অসাধু চক্র কোনো না কোনো উপায়ে চীনে এসব চিপ পাচারের পথ বের করে নিচ্ছে।
এমন এক ঘটনায় মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন ফাঁকি দিতে থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ার মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে আনুমানিক ১০০ কোটি ডলারের সার্ভার র্যাক চীনে পাঠানো হতে পারে।
অন্য আরেক ঘটনায় তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পথ ঘুরিয়ে চীনে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের এআই সার্ভার রপ্তানির অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে মার্কিন প্রশাসন।