Published : 13 May 2026, 10:57 PM
নগদ লভ্যাংশের কিছু অংশ বিতরণ না করা এবং তিন বছরের লিস্টিং ফি জমা না দেওয়ায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফরচুন সুজ লিমিটেডের বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। যথাসময়ে এ অর্থ পরিশোধ না করায় কোম্পানিটির আট কর্মকর্তাকে সাত কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে এ অর্থ পরিশোধে কোম্পানিটিকে ৩০ দিন সময় বেঁধে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন(বিএসইসি)।
জরিমানার মুখে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা, পরিচালক, বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা মিলিয়ে ৮ জন।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কমিশন কার্যালয়ে চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
নিয়ম ভাঙ্গায় ফরচুন সুজের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানকে ৫ কোটি টাকা, বর্তমান দুই পরিচালক আমানুর রহমান ও রবিউল ইসলাম, সাবেক পরিচালক খোসরুল ইসলাম ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোকসানা রহমানকে ৫০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া প্রধান অর্থ কর্মকর্তা জামিল আহমেদ চৌধুরীকে ১০ লাখ টাকা, বর্তমান কোম্পানি সচিব নাজমুল হোসাইন ও সাবেক কোম্পানি সচিব রিয়াজ উদ্দিন ভুইয়াকে ৫ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিএসইসি।
তাদের সাত দিনের মধ্যে এ জরিমানা পরিশোধের সময় বেঁধে দিয়েছে কমিশন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২২ সালের জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ফরচুন সুজ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এ হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করার কথা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকার নগদ লভ্যাংশ পরিশোধে ব্যর্থ হয়।
এছাড়া ২০২৩ সালের জুলাই পর্যন্ত আগের ৩ বছরের লিস্টিং ফি বাবদ ১৮ লাখ ২৯ লাখ টাকা দেয়নি। এ দুই খাতের ব্যয় মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪ কোটি ১৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। সেই অর্থ পরিশোধের জন্য সময় দেওয়া হয় ৩০ দিন।
ডিভিডেন্ডের অর্থ নিজের কাছে রাখতে পারবে ‘এ’ শ্রেণির ব্যাংক
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক বিনিয়োগকারীদের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশের অর্থ এখন নিজস্ব ব্যাংক হিসাবেই রাখতে পারবে। তবে এই সুযোগ শুধু ‘এ’ শ্রেণির ব্যাংকই পাবে।
এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ব্যাংকগুলোর জন্য একটি নিদের্শনা জারি করে বিএসইসি। সেখানে বলা হয়, তালিকাভুক্ত ব্যাংকের ঘোষিত লভ্যাংশ অন্য কোনো ব্যাংকে জমা রাখতে হবে। এজন্য পৃথক ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়।
বিএসইসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘কিছু ব্যাংক কমিশনের কাছে আবেদন করে জানায়, তারা নিজেরাই ভালো ব্যাংক হিসেবে বাজারে পরিচিত। আর্থিক স্বাস্থ ভালো, সেখানে অন্য ব্যাংকে ডিভিডেন্ডের অর্থ রাখার যৌক্তিকতা নেই। নিজেদের ব্যাংকেই টাকা রাখতে চায়।’’
এজন্য কমিশন সভায় শুধু ‘এ’ শ্রেণির ব্যাংককে সুযোগ দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।