টালমাটাল পুঁজিবাজারে এবার লেনদেন তলানিতে
দিনভর ৩১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। গত ৮ অগাস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এত কম লেনদেন আর দেখেনি বিনিয়োগকারীরা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নানা পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভের দিন সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স কিছুটা বাড়লেও লেনদেন তলানিতে নেমেছে।
সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার দিনভর হাতবদল হয়েছে ৩১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার, যা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দুই মাসে সর্বনিম্ন।
গত ৮ অগাস্ট অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এর আগে সর্বনিম্ন লেনদেন ছিল গত ১ অক্টোবর ৩৮৯ কোটি ৪৭ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।
টানা দরপতনের মধ্যে এদিন বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগ দাবিতে বিএসইসি ঘেরাও করে বিনিয়োগকারীরা। এ কারণে পুঁজিবাজারে তাদের অংশগ্রহণ ছিল আরও কম।
সার্বিক সূচক এদিন ৮ পয়েন্ট বাড়ার পর বাজার মূলধন বেড়েছে ৬৬ কোটি টাকা। আগেরদিন আট হাজার কোটি টাকার বেশি মূলধন কমেছিল।
বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন এবং খাদ্য খাতের অধিকাংশ শেয়ার ইতিবাচক ধারার কারণে সূচক ছিল কিছুটা ইতিবাচক।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে-ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ৮ পয়েন্ট, শরিয়াভিত্তিক কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত শরিয়া সূচক এক দশমিক ৫৬ পয়েন্ট এবং ‘ব্লু’ চিপ খ্যাত কোম্পানিগুলোকে নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক বেড়েছে দুই দশমিক ৮ পয়েন্ট।
প্রকৌশল খাতে প্রায় ৭৪ শতাংশ, খাদ্য খাতে প্রায় ৭২ শতাংশ, বস্ত্র খাতে প্রায় ৭০ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন খাতে প্রায় ৫৯ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে।
আইসিবি, ওয়ালটন, মিডল্যান্ড ব্যাংক, তিতাস গ্যাস, রেনাটা, বেক্সিমকো ফার্মা, রেকিট বেনকিনজার, এনবিএল, ব্যাংক ব্যাংক ও ওরিয়ন ফার্মার শেয়ারের দর বৃদ্ধি সূচকে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে।
সব মিলিয়ে দর বেড়েছে ২০৯টি কোম্পানির, কমেছে ১৩৮টির। আগের দিনের দরে হাতবদল হয়েছে ৫০টি কোম্পানির শেয়ার।
খাতওয়ারী লেনদেনে যথারীতি সবাইকে ছাড়িয়ে ব্যাংক। এই খাতের ৮২ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল করেছেন বিনিয়োগকারীরা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনে ২৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ১৪টির দর বেড়ে, ১৫টির হারিয়ে এবং ৭টি কোম্পানি আগের দিনের দরে হাতবদল হয়েছে।
এরপরই ১৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ অবদান রাখে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানিগুলো। এই খাতের ২০টির দর বেড়ে, ১০টির কমে এবং ৪টি আগের দিনের দরে লেনদেন হয়েছে।
লেনদেনের দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতে হাতবদল হয়েছে ২২ কোটি টাকার শেয়ার। এই খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ৪০টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১টি, ৭টি আগের দিনের দরে হাতবদল হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, একক কোম্পানি হিসেবে শেয়ার দর বৃদ্ধিতে শীর্ষে উঠে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস। শেয়ারটির দর একদিনে বেড়েছে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ।
এদিক ডিএসইর পরিদর্শক দল কোম্পানিটির কারখানা ঘুরে এসে সেটি বন্ধ দেখার তথ্য বিনিয়োগকারীদেরকে জানিয়েছে।
সার্কিট ব্রেকার ছুঁয়ে লেনদেন হয়েছে লোকসানি শ্যামপুর সুগারেরও। দুর্বল মৌলভিত্তির দেশ গার্মেন্টস, লোকসানি দুলামিয়া কটন, লোকসানি জিএসপি ফাইন্যান্স, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, লোকসানি জাহিন টেক্স, লোকসানি নর্দার্ন জুট ও ওরিয়ন ফার্মা ছিল দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে।
এসব কোম্পানির দর ৭ থেকে ৯ শতাংশ বেড়েছে।
দরপতনের শীর্ষ দশে ছিল সরকারি কোম্পানি ন্যাশনাল টি। কোম্পানিটির দর কমেছে ৮.৭৩ শতাংশ, যা এক দিনে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ছিল।
লোকসানি হামি ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা সিমেন্ট, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, এফবিএফআইএফ মিউচুয়াল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড, ইবনে সিনা ফার্মা, ইনডেক্স অ্যাগ্রো, এসইএমএলএফবিএসএল গ্রোথ ফান্ড ও ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ছিল দরপতনের শীর্ষ দশে। এসব কোম্পানির দর ৪ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কমেছে।
