Published : 25 Jun 2026, 01:57 PM
পর্ষদ শূন্য ইসলামী ব্যাংকে নতুন পরিচালক পর্ষদ দেওয়ার দাবিতে ‘গ্রাহক ফোরামের’ নামে চলমান আন্দোলনের মধ্যে বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) তারিখ আড়াই মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে ব্যাংকটি জানিয়েছে, এজিএমের তারিখ পিছিয়ে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ঠিক করা হয়েছে।
আগামী ২৮ জুন রাজধানীর কুর্মিটোলা গল্প ক্লাবে এ এজিএম হওয়ার কথা ছিল। তারিখ পরিবর্তন করা হলেও একই স্থানে সভাটি হবে বলে জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক।
ইসলামী ব্যাংকের পর্যদের সর্বময় দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন বুধবার এমন সিদ্ধান্ত দেন।
২০২৫ সালের জন্য বিনিয়োগাকারিদের কোনো লভ্যাংশ অনুমোদন করেনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদ। গত বছরে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৮৫ পয়সা, শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের প্রবাহ ছিল ২৬ টাকা ১৮ পয়সা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ আয় ছিল ৪৪ টাকা ৫২ পয়সা।
লভ্যাংশ না দিয়ে এজিএম করার তারিখ ঠিক করা হয়েছিল চলতি মাসের ২৫ জুন। পরে ৩ দিন পিছিয়ে ২৮ জুন করা হয়। এবার তা আরো পেছাল।
গত কোরবানি ঈদের আগে ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করেন। সেদিনই নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে বেছে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ঈদের পর এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ব্যাংকটির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল ব্যক্তি। ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে তখন থেকেই তাদের আন্দোলন চলছে।
ওই আন্দোলন শুরুর পর কয়েকদিনের মধ্যে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকরা তিন হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে বলে খবর আসে। বিষয়টি নিয়ে সংসদেও বিতর্ক হয়; পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হয় সরকার ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে।
সংসদে জামায়াতে ইসলামী ব্যাংকটিকে পুনর্দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুললে অর্থমন্ত্রী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংকটিকে ‘অস্থিতিশীল করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা চলছে’।
এই বিতর্কের মধ্যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমসহ সকল স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়োগ বাতিল করে গত ১৪ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে পর্ষদের সর্বময় ক্ষমতা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে আশ্রাফুল আলমকে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।