২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

এত দ্রুত গোল পাওয়ার ‘আশা করেননি’ মোরসালিন

মালদ্বীপের বিপক্ষে গোল পেয়েছেন, এখনও যেন বিশ্বাস হচ্ছে না ১৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের।

বেঙ্গালুরু থেকে মোহাম্মদ জুবায়ের

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Jun 2023, 02:18 PM

Updated : 26 Jun 2023, 02:18 PM

শুরুতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রাথমিক দলেও ছিলেন না শেখ মোরসালিন। মতিন মিয়া ও সাদউদ্দিনের চোটে হঠাৎই এসে যায় সুযোগ। পরে জায়গা করে নেন চূড়ান্ত দলে। কম্বোডিয়ার বিপক্ষে লাল-সবুজ জার্সিতে অভিষেকও হয়ে যায় ১৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের। পাদপ্রদীপের আলোয় তিনি উঠে এসেছেন মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৩-১ ব্যবধানের জয়ে গোল করে। এত দ্রুত, এত কিছু ঘটে যাবে ঘুনাক্ষরেও ভাবতে পারেননি মোরসালিন। ঘোর লাগা তাই কাটছে না কোনোভাবেই।

মোরসালিনের সবকিছু অবিশ্বাস্য লাগার কারণ অনেক। কদিন আগেও তিনি ছিলেন ‘অচেনা।’ আলমগীর সমাজ কল্যাণ ক্রীড়া সংঘ থেকে ২০২১ সালে তিনি যোগ দেন বসুন্ধরা কিংসে। অল্প বয়স আর অভিজ্ঞতার কমতির কারণে খেলার সুযোগ পেতেন না তেমন একটা। গত বছর তিনি ধারে খেলতে যান মোহামেডানে। মালদ্বীপের বিপক্ষে বাঁচা-মরার মহারণে গোল করে এই তরুণই এখন আছেন প্রাদপ্রদীপের আলোয়।

বঙ্গবন্ধু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুতে মোরসালিনকে বিবেচনায় রাখেননি বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। সাদউদ্দিন ও মতিনের চোটে সাজ্জাদ হোসেনের মতো মোরসালিনকেও ক্যাম্পে ডাকেন তিনি। সাজ্জাদ ঝরে গেলেও সামর্থ‍্যের ঝলক দেখিয়ে টিকে যান মোরসালিন। এখন তিনিই বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের আগ্রহের কেন্দ্রে।

ক্যাম্পের প্রস্তুতিতে মোরসালিনের নিবেদন, নিজেকে মেলে ধরার আপ্রাণ প্রচেষ্টা মনে ধরে কাবরেরার। তাই গত ১৫ জুন কম্বোডিয়ার বিপক্ষে সুযোগ দেন ১৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডারকে। ১-০ গোলে জেতা প্রীতি ম্যাচে খেলার পর সাফে লেবাননের বিপক্ষে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলেও দেশের হয়ে অভিষেক হয়ে যায় মোরসালিনের।

সেই ‍্যাচের মতো মালদ্বীপের বিপক্ষেও তিনি ছিলেন না শুরুর একাদশে। বদলি হিসেবে নামেন ৬২তম মিনিটে। ৯০তম মিনিটে শতদলে ফুটে জানান দেন নিজের সামর্থ্যের। একই সঙ্গে কাবরেরাকে দেন আস্থা রাখার প্রতিদান।

যদিও এই গোলের নেপথ্যের নায়ক ম্যাচ জুড়ে দুর্দান্ত খেলা বিশ্বনাথ ঘোষ। প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে তিনিই খুঁজে নেন মোরসালিনকে। ঠাণ্ডা মাথায় কোনাকুণি শটে বাকি কাজটুকু সারেন এই মিডফিল্ডার। দলের আকাশে ঘোরাফেরা করা এক চিলতে শঙ্কার মেঘও সরে যায় নিমিষে। বাংলাদেশের জার্সিতে এত দ্রুত গোলের দেখা পাওয়াটা যেন বিশ্বাস হচ্ছে না মোরসালিনের।

বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে রোববার গোল করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেও ব্যক্তিগত প্রাপ্তির চেয়ে দলীয় অর্জনকেই এগিয়ে রাখলেন তিনি।

“এত তাড়াতাড়ি জাতীয় দলে খেলব, আবার গোলও পেয়ে যাব সেটা আশা করিনি। তবে গত এক বছর ধরে আমার চেষ্টার কমতি ছিল না। এখন গোল পেয়েছি, তবে এর চেয়েও জিততে পেরে বেশি খুশি। এই জয় আমাদের খুব দরকার ছিল। সবাই খুব খুশি, আমাদের লক্ষ্যই ছিল আজ যেভাবেই হোক গোল করতে হবে। আমরা পেরেছি।”

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন থেকে উঠে আসা মোরসালিনের দূরপাল্লার শটে দক্ষতা চোখে পড়েছিল কাবরেরার। মালদ্বীপ ম্যাচের ৭০তম মিনিটে দূরপাল্লার জোরাল শটে একটা চেষ্টাও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু গোলরক্ষক হুসাইন শরীফ এক হাতে ফিস্ট করে ব‍্যর্থ করে দেন। দূর থেকে বাজপাখির মতো ছোঁ মারার কৌশল ছেলেবেলা থেকে রপ্ত করার চেষ্টা ছিল মোরসালিনের।

“বক্সের বাইরে থেকে শটের চেষ্টা সব সময়ই করতাম। এখনও অনুশীলনে নিয়মিত দূর থেকে গোল করার চেষ্টা করি। দলের সবাই আমাকে সাহায্য করেছে এই ব্যাপারে। তাই আমি বক্সের বাইরে থেকে চেষ্টা করেছি, দুর্ভাগ্যবশত গোলকিপার বরাবর যাওয়ায় গোল পাইনি। তবে পরে পেলাম গোল।”

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিতে বেড়ে ওঠা এই তরুণের জাতীয় দলে অভিষেক, দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে খেলার স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি প্রথম আন্তর্জাতিক গোল পাওয়ার উচ্ছ্বাস আছে। কিন্তু শেষ চারে খেলার লক্ষ‍্য তো এখনও পূরণ হয়নি। তাই ভূটান ম‍্যাচের জন‍্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় মোরসালিন।

“আমাদের কাজ এখনও অনেকটা বাকি। পরের ম্যাচ আমাদের জিততে হবে। ওই ম্যাচও এভাবে খেলেই জিততে চাই।”

আগামী বুধবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ভূটানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।