Published : 29 Jun 2026, 11:56 AM
অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপে উত্তর আমেরিকা আসরে আসা জাপান শেষ বত্রিশে মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। এ যেন শিষ্য ও গুরুর লড়াই! অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে জাপানের ফুটবলে বেশি প্রভাব রেখেছে ব্রাজিল।
হিউস্টনে বাংলাদেশ সময় সোমবার শুরু হবে ম্যাচ।
গত চার বছরে জার্মানি, স্পেন, ইংল্যান্ডের মতো সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়েছে জাপান। চারবারের এশিয়ান কাপ জয়ী দেশটি বিশ্বকাপে খেলছে প্রথমবারের মতো ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে।
১৯৯৩ সালে জে-লিগ প্রচলন করে জাপান। ব্রাজিলের অনেক খেলোয়াড় এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন সময় অংশ নেয়। অনেকে কোচিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত হন।
এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেন জিকো। ব্রাজিলের বিখ্যাত ১৯৮২ বিশ্বকাপ দলের এই সদস্যকে ভালোবেসে ভক্তরা ডাকতেন ‘সাদা পেলে’ নামে। অবসর ভেঙে তিনি যোগ দেন কাশিমা অ্যান্টলার্স দলে। তার পথ ধরে বিসমার্কি, এলিভেলন্তসহ ব্রাজিলের আন্তর্জাতিক ফুটবলাররা জাপানের ফুটবলে যোগ দেন।
১৯৯০ এর দশকে দুঙ্গাসহ ব্রাজিলের ১৯৯৪ আসরের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সাত সদস্য জে-লিগে খেলেন। ইয়োকোহামা ফ্লুগালসের হয়ে খেলার সময় ব্রাজিলের ১৯৯৮ বিশ্বকাপ দলে ডাক পান সেজার সাম্পাইয়ো। সাবেক এই মিডফিল্ডার বললেন, সেই সময় থেকে কতটা এগিয়ে গেছে জাপানের ফুটবল।
“জাপানের ফুটবল নিয়ে যারা মনোযোগী না, তারা অবাক হবে। আমি নই। এখানে আসার সময় থেকে দেখছি, জাপানের ফুটবল প্রতি বছর, ধাপে ধাপে উন্নতি করছে। তাদের শৃঙ্খলাকে সবসময়ই অসাধারণ মনে করা হয়।”
“আর এখন ওদের (দাইজেন) মায়েদা ও (আয়াসে) উয়েদার মতো অসাধারণ খেলোয়াড় আছে। ওদের লাইনআপ দারুণ। তিন ম্যাচেই তারা ভালো খেলেছে এবং ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা হবে তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষা।”
ব্রাজিলের বিপক্ষে সাফল্য আছে জাপানের, তবে সেটা বিশ্বকাপে নয়। ১৯৯৬ সালে অলিম্পিকে ১-০ গোলে জিতেছিল তারা। যেটা ‘মিরাকল ইন মায়ামি’ নামে পরিচিতি পায়। আর গত অক্টোবরে হাজিমে মরিয়াসুর দল কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকে প্রীতি ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে হারায়।
বিশ্বকাপে একবারই মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও জাপান, ২০০৬ সালে। তখন এশিয়ার দেশটির ডাগআউটে ছিলেন জিকো। ডর্টমুন্ডের ওই ম্যাচে ৪-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় জাপান।
ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া তিন ফুটবলার ওই আসরে ছিলেন জাপান দলে। তাদের একজন আলেক্স সান্তোস সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে খেলেন আট ম্যাচ।
ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া ফুটবলারদের মধ্যে সবশেষ জাপানের হয়ে খেলেন মার্কোস তুলিও তানাকা, ২০১০ আসরে। সেবার শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেন তারা। তার কাছে ব্রাজিলের বিপক্ষে এই লড়াই সাধারণ কোনো ম্যাচ নয়।
“জাপান ও ব্রাজিলের ম্যাচ গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। জে-লিগের শুরুর সময় ও খেলোয়াড়দের সেখানে যাওয়ার মধ্য দিয়ে অনেক বছর ধরে জাপানের ফুটবলকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে ব্রাজিল।”
“এই টুর্নামেন্ট, খেলোয়াড়দের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য, অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে কম।”