Published : 11 Jul 2026, 01:37 PM
স্পেন দলে তারকার অভাব নেই, একাদশে জায়গার জন্য তাই প্রতিযোগিতাও তীব্র। তবু ড্রেসিংরুমে অসন্তোষ নেই বললেই চলে। বেলজিয়ামকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ওঠার পর পুরো কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের মানসিকতাকেই দিয়েছেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার মতে, স্পেনের শক্তি কেবল সেরা খেলোয়াড়রা নয়, তাদের মধ্যে থাকা পারস্পরিক সম্মান ও ঐক্যও।
কোয়ার্টার-ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়েছে স্পেন। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এই প্রথম সেমি-ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে তারা।
লস অ্যাঞ্জেলসে এদিন ম্যাচের শুরুতেই চমক দেন দে লা ফুয়েন্তে। অভিজ্ঞ পেদ্রিকে বসিয়ে ফাবিয়া রুইসকে শুরুর একাদশে খেলান তিনি। সেই রুইসই ৩০তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন। প্রথমার্ধেই বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরান শার্লে ডে কেটলারে।
যখন মনে হচ্ছিল, অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে ম্যাচ তখনই দে লা ফুয়েন্তের আরেকটি ‘গোল্ডেন টাচ।’ ৭৯তম মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালকে তুলে মিকেল মেরিনোকে নামান তিনি। মাঠে নামার দুই মিনিটের মাথায় ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি করেন আর্সেনালের এই ফুটবলার।
দে লা ফুয়েন্তের ‘সুপার-সাব’ হয়ে ওঠা মেরিনো গত ম্যাচেও পেয়েছিলেন জালের দেখা। শেষ ষোলোয় বদলি নামা এই ফুটবলারের একমাত্র গোলেই পর্তুগালকে হারিয়ে দেয় স্পেন।
শুধু এই দুই ম্যাচেই নয়, ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার-ফাইনালেও বদলি নেমে জালের দেখা পেয়েছিলেন মেরিনো। ওই ম্যাচে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল পরে চ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেন।
একের পর এক ম্যাচে বদলি নেমে ব্যবধান গড়ে দেওয়া মেরিনোর শুরুর একাদশে জায়গা না পাওয়া নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বেলজিয়াম ম্যাচের পর সেই প্রসঙ্গে কথা বলেন দে লা ফুয়েন্তে।
“মিকেলের শুরু থেকে খেলতে না পারাটা অন্যায্য, তবে অন্য আরেকজনকে বাদ দেওয়াটাও তো অন্যায় হতো। কেবল ১১ জনই খেলতে পারে। তারা এটা বোঝে- কোন মুহূর্তে তাদের কী ভূমিকা পালন করতে হবে। তারা যখন মাঠে নামে, তারা জানে তাদের কী করতে হবে; এ কারণেই তাদের কোচ হতে পারাটা আনন্দের।”
১৬ বছর পর স্পেনের সেমি-ফাইনালে ওঠার পেছনে দলের সম্মিলিত অবদানের কথা বলেন ইউরো জয়ী কোচ দে লা ফুয়েন্তে।
“সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দল। ম্যাচ কারা শুরু করল তা কোনো বিষয় নয়। প্রত্যেকেই গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি যারা খেলেনি তারাও।”
দলে জায়গা পাওয়ার জন্য তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা সত্ত্বেও খেলোয়াড়দের কীভাবে সন্তুষ্ট রাখছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে স্পেন কোচ খেলোয়াড়দের পরিপক্বতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন।
“দল হিসেবে আমাদের অন্যতম শক্তি হলো, আমাদের কেবল বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রাই নেই- যা তারা আসলেই- বরং ভালো মনের কিছু মানুষও আছে, যারা একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে থাকাটা সহজ করে তোলে।
“তাই তারা নিজেদের ভূমিকা বুঝতে পারে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ আমি বিশ্বাস করি, যেকোনো ক্ষেত্রেই, যেকোনো পেশায় এটা সম্ভব। পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই আমরা সবকিছু গড়ে তুলেছি, আর এই জাতীয় দলও তার একটি উদাহরণ।”