Published : 19 Jul 2026, 10:46 AM
ইংল্যান্ড যখন তৃতীয় গোলটি করল, টিভি ক্যামেরা তাক করা হলো কিলিয়ান এমবাপের দিকে। হতাশা আর বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে ঠায় দাঁড়িয়ে তিনি। পরে চতুর্থ গোলটিও যখন করলেন ইংলিশরা, এমবাপের ঠোঁটের কোণে দেখা গেল হাসির রেখা। হয়তো অসহায়ত্বের হাসি! কোচ দিদিয়ো দেশোঁ তখন ডাগআউটে বসে এক দৃষ্টিতে মাঠে তাকিয়ে স্তম্ভিত চেহারায়।
প্রথমার্ধ শেষে বিব্রতকর পরাজয়ের খড়গ অপেক্ষা করছিল ফ্রান্সের সামনে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তারা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ম্যাচটি জিততে পারেনি তারা। ফ্রান্সের মতো দলের জন্য ফাইনালে উঠতে না পারা মানেই বড় ব্যর্থতা। সেখানে তারা হেরে গেল শেষটাতেও। কোচের বিদায়টা রাঙাতে না পারায় আক্ষেপে পুড়ছেন এমবাপে।
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটিতে ৪-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার প্রথমার্ধে দুই গোলের বেশি হজম করে ফ্রান্স।
দ্বিতীয়ার্ধে দ্রুত তিনটি গোল করে ম্যাচ তুমুল জমিয়ে তোলে ফরাসিরা। তবে সেই ধাক্কা সামলে ইংলিশরা আবার গুছিয়ে নেয়। শেষ পর্যন্ত টমাস টুখেলের দল মাঠ ছাড়ে ৬-৪ গোলের জয় নিয়ে।
যথারীতি ফ্রান্সের ঘুরে দাঁড়ানোয় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন এমবাপে। দুটি গোল করে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের গোলের তালিকায় শীর্ষে উঠে যান তিনি ২২ গোল নিয়ে। এবারের আসরের গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও নিজের অবস্থান পোক্ত করেন ১০ গোলে। তবু তার মনে হতাশার ছাপ কোচের কারণে।
এই ম্যাচ দিয়েই শেষ হলো ফ্রান্সের কোচের দায়িত্বে দেশোঁর ১৪ বছরের পথচলা। ২০১৮ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ও ২০২২ আসরে রানার্স আপ হওয়া কোচের শেষটা জয় দিয়ে রাঙাতে না পারার আফসোস এমবাপের কণ্ঠে।
“এটা কোচের জন্য আরও বেশি হতাশাজনক। আমরা তার জন্য কিছু করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত প্রথমার্ধের খেলা দেখে মনে হয়েছে যে আমরা তাকে হতাশ করেছি।
কোচ যা কিছু করেছেন, সেজন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। এই ম্যাচ অবশ্যই দিদিয়ের দেশোঁর ঔজ্জ্বল্যকে ম্লান করবে না।”
এমবাপের মতে, প্রথমার্ধে মানসিকভাবেই পিছিয়ে ছিল তার দল। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি খেলা এমনিতেই কঠিন এক মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। অধিনায়ক বললেন, মানসিকভাবে বিধ্বস্ত থাকাতেই মাঠে এমন দুর্দশা হয়েছিল দলের।
“যারা বলছেন, প্রথমার্ধে আমরা তামাশা করছিলাম, জার্সিটাকে সম্মান করিনি, তাদের ভাবনা আমি বুঝতে পারি। তবে আমি বরং বলব, ওই সময়টায় ফুটে উঠেছে, আমরা রক্ত-মাংসের মানুষ। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা তখন আসলে পুরোপুরি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। ওরা আমাদের উচিত শিক্ষা দিয়েছে।
দ্বিতীয়ার্ধে আমরা আবার শীর্ষ পর্যায়ের হয়ে উঠি, আবেগ-অনুভূতিগুলো পাশে সরিয়ে আবার মানসিক যন্ত্রে পরিণত হই।”
এই ম্যাচের আগেই অবশ্য সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় দেশোঁর প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এমবাপে।
"আজ আপনার অধ্যায়ের সমাপ্তি। আপনি আমাদের এত কিছু দিয়েছেন, আপনাকে একটি ভালো সমাপ্তি দেওয়া উচিত ছিল আমাদের, কিন্তু আমরা ব্যর্থ হয়েছি। ১৪ বছর ধরে আপনি যা বয়ে এসেছেন, ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এই দলের পুনর্জাগরণে আপনি এত অসাধারণ কিছু করেছেন! লোকে সবসময় আপনার গ্রেটনেসকে মূল্যায়ন করতে পারেননি, তবে সময় এবং ইতিহাস সেটি তুলে ধরবে।
আমাকে এত বছর ধরে আমার দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ এবং সম্মান জানানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় কিংবদন্তিদের একজনের সঙ্গে এত বছর থাকতে পারা আমার জন্য বড় প্রাপ্তি এবং একসঙ্গে আমরা যা কিছু অনুভব ও অর্জন করেছি, সবকিছুর জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা। আপনার নতুন যাত্রার জন্য রইল শুভকামনা এবং আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান এই জার্সিটিতে আপনি যা কিছু অবদান রেখেছেন, সেজন্য আবারও ধন্যবাদ।"