Published : 16 Jul 2026, 11:50 AM
লিওনেল স্কালোনি কথাটি না বললেও চলত। গোটা ফুটবল বিশ্ব তো দেখছেই! একের পর এক ম্যাচে প্রবল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েও দারুণভাবে জয় আদায় করে নিয়েছে তার দল। তবু সেমি-ফাইনালে জয়ের পর কোচের কণ্ঠে সেই তৃপ্তি তো থাকতেই পারে। আরও একটি নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প রচনা করে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর আর্জেন্টিনার কোচ বললেন, প্রতিকূলতার মাঝেই সেরাটা উজাড় করে দেয় তার দল।
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের স্মরণীয় জয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেছে আর্জেন্টিনা।
নকআউট পর্বের শুরু থেকেই এটি তাদের নিয়মিত চিত্র। কেইপ ভার্ড, মিশর, সুইজারল্যান্ড- একের পর এক ম্যাচে কখনও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে, কখনও পেছন থেকে প্রবলভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেই ধারায় সেমি-ফাইনালে তারা শেষ সময়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ডের স্বপ্ন।
নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে পর্যন্ত পিছিয়ে থাকাটা যদিও আদর্শ কিছু নয়। তবে স্কালোনি ম্যাচ শেষে বললেন, তার দল এরকম মুহূর্তেই জ্বলে ওঠে সবচেয়ে বেশি।
“আমি সত্যি মনে করি, এই দল চাপের মধ্যে থাকলেই তাদের সেরা ফুটবলটা খেলে। যখন আমরা চাপে থাকি এবং প্রতিপক্ষ সামান্য দ্বিধা করে, তখন আমরা সুযোগটা কাজে লাগাই এবং আমাদের সর্বস্ব দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ি। এই দলটা আমাকে ঠিক এই অনুভূতিটাই দেয়।
আমি খুশি, কারণ দল একেবারে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে, আর এটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি যদি আমরা বাদ পড়ে বাড়ি ফিরতাম, তবুও আমরা এটা জেনেই ফিরতাম যে. আমরা মাঠে আমাদের সর্বস্ব দিয়ে এসেছি।”
আটলান্টায় ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্টিনা যেভাবে খেলেছে, সেটিকেই দলের মূল পরিচয় মনে করেন কোচ।
“তাদের গোলের পর, আমরা ফুটবলকে যা হিসেবে দেখতে চাই, তার সবকিছুই দেখিয়েছি। ফুটবল শুধু কৌশল বা রণনীতি কিংবা আকর্ষণীয় ফুটবল খেলা নয়। আমরা যা কিছুতে বিশ্বাস করি, তার সবকিছুই ওই শেষ ৪০ মিনিটে প্রতিফলিত হয়েছে।”
স্কালোনি তার ফুটবলারদের ‘একগুঁয়ে’ বলেও অভিহিত করেন, তবে “শব্দটি আমি সেরা অর্থেই ব্যবহার করছি।”
কোচ বললেন, তার দলের ছেলেদের এমন হার না মানা মানসিকতা ও ভয়ডরহীন চরিত্র গড়ে উঠেছে বেড়ে ওঠার সময়টাতেই।
“ওরা যোদ্ধা। ওরা এমন পরিবেশে বড় হয়েছে, যেখানে ওরা কোনো কিছুকেই ভয় পেত না। ওরা সবসময় প্রতিযোগিতা করত, সবসময় সেরা হওয়ার প্রত্যাশা করত। দায়িত্ব ওদের ওপর কোনো ভার চাপায় না।
যখন ম্যাচ শেষ ১৫, ২০ বা ২৫ মিনিটে পৌঁছায়, তখনও ওরা বল নিজেদের কাছে রাখতে চায়। কেউই এমন কিছু ভাবছিল না যে, ‘যদি আমি কোনো ভুল করি আর আমরা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল হেরে যাই?’ বরং ওরা কেবল ফুটবল খেলার কথাই ভাবছিল, যেমনটা সারাজীবন করে এসেছে। ওরা একটা পরিবারের মতো। একটা বলও ওরা কখনও ছেড়ে দেয় না। একেবারে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে।”
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয় করা থেকে এখন মাত্র একটি জয় দূরে আর্জেন্টিনা। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালও জয়ের আশা তার পুরোপুরি আছে। তবে এটিও জানিয়ে রাখলেন, এই দলের কাছে তার আর কিছুই চাওয়ার নেই।
“সত্যি বলতে, আমরা ফাইনালটা জেতার চেষ্টা করব — আমরা আমাদের সাধ্যমতো সবকিছু করব — কিন্তু এই দলটাকে আর কী করতে হবে?