Published : 19 Jul 2026, 07:08 PM
নিউ ইয়র্কের ফাইনাল ঘিরে কারো বাজি স্পেনের পক্ষে। কেউ কেউ এগিয়ে রাখছেন আর্জেন্টিনাকে। অন্যরকম আবেগের টানাপোড়েন অনুভব করছেন মারিও আলবের্তো কেম্পেস। আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের নায়কদের একজন তিনি। অন্য দিকে, ক্লাব ক্যারিয়ারে তিনি সোনালি সময় কাটিয়েছেন ভালেন্সিয়ায়; স্প্যানিশ সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন বছরের পর বছর।
কিন্তু প্রশ্ন যখন একটি দলকে বেছে নেওয়ার, ১৯৭৮ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছয় গোল করা কেম্পেস বেছে নিয়েছেন নিজের দেশ আর্জেন্টিনাকে। ফাইনালে মেসি-মার্তিনেসদের ফেভারিট মানছেন তিনি। এএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, এই আর্জেন্টাইন গ্রেট বলেছেন, ঘুরে দাঁড়ানোর পথটা জানা থাকা লিওনেল স্কালোনির দলই এগিয়ে।
গ্রুপ পর্বে দাপুটে পথচলায় পর নকআউট পর্বে এসে ধুঁকতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। সবশেষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে তারা পিছিয়ে পড়ে জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। দুই গোলে অ্যাসিস্ট করা লিওনেল মেসিকেও প্রশংসায় ভাসালেন কেম্পেস।
“ফাইনাল এমন যে, প্রথমেই আপনাকে বুঝতে হবে, এ পর্যন্ত আপনি কাজগুলো ঠিকঠাক করেছেন, কিন্তু আবারও আপনাকে সেই কাজগুলো করতে হবে এবং খুব ভালোভাবে করতে হবে। কেননা, এটা শেষ ম্যাচ, নির্ণায়ক ম্যাচ। এই ম্যাচটি আপনাকে চূড়ায় তুলে দিতে পারে, দ্বিতীয় স্থানেও নামিয়ে দিতে পারে।
“বিশ্বকাপ জেতা সহজ নয়। জয়ের পুনরাবৃত্তি করা আরও কঠিন। আর্জেন্টিনার সামনে সেই সুযোগটা আছে। আমার দৃষ্টিতে আর্জেন্টিনা ফেভারিট। যদি, মেসি শিরোপাটা আবার উঁচিয়ে ধরতে পারে, সেটা আকাশ ছোঁয়ার মতো বিষয় হবে। এর চেয়ে দুর্দান্ত আর কিছু হতে পারে না।”
আর্জেন্টিনাকে ফেভারিট মানার কারণও খোলাসা করলেন কেম্পেস। ৭২ বছর বয়সী এই সাবেক স্ট্রাইকার মূলত তুলে ধরলেন, নকআউট পর্বে মেসি-মার্তিনেসদের লেখা প্রত্যাবর্তনের দারুণসব গল্পগুলো।
“আর্জেন্টিনা অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। তিন ম্যাচে পিছিয়ে থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতেছে। যেটা দেখাচ্ছে, তাদের কষ্ট সহ্য করার এবং ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা। স্পেন তাদের ম্যাচগুলো ৯০ মিনিটের মধ্যে শেষ করতে পেরেছে, যদিও দুই ম্যাচে তারা জিতেছে একেবারে শেষ মুহূর্তে। বোঝা যাচ্ছে, হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ হবে। আমার বিশ্বাস, আর্জেন্টিনা একটু এগিয়ে। কেননা, কীভাবে প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে হয়, তারা সেটা জানে।”
একই ঘরানার ফুটবল খেলা দুই দলের মাঠের লড়াই শুরু হলে, আবেগের দোলুনিও পেয়ে বসবে কেম্পেসকে। তবে, শেষ পর্যন্ত এক দল জয়ী হবে বলে ম্যাচটি কেবল তার জন্য নয়, সব দর্শকদের জন্যই হবে কষ্টেরই।
“আমি আর্জেন্টাইন; বেড়ে উঠেছি স্প্যানিশ সমর্থকে পরিবেষ্টিত হয়ে এবং অবশ্যই ভালেন্সিয়ার সমর্থকদের ভালোবাসায়। কিন্তু আমি একজন আর্জেন্টাইন এবং সবসময় আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করি। আমার মনে হয়, খুবই চমৎকার একটা ম্যাচ হবে, যেখানে বল ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা দুটি দল খেলবে।
“দুই পক্ষের উপরই ভীষণ চাপ থাকবে। তারা বলকে খেলার বাইরে থাকতে দিবে না; উপরে উঠে চাপ দিবে যাতে প্রতিপক্ষ খেলার জায়গা না পায়। শেষ পর্যন্ত, এটা পরিষ্কার, যারা খেলা দেখতে বসবে, কষ্ট পেতে হবে তাদের; আর্জেন্টাইন, স্প্যানিশ সবার। তবে, দুর্দান্ত একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে।”
অনেকের মতো কেম্পেসও ভেবেছিলেন, ৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ রাঙাতে পারবেন না মেসি। কিন্তু উত্তরসূরির চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্সে অন্যদের মতো মুগ্ধ তিনিও। অনেকের ধারনা মেসি ভুল প্রমাণ করে দেওয়ার কারণ খুঁজে পেয়েছেন কেম্পেস।
“আমরা সবাই ভেবেছিলাম সে পারবে না। আমিও তাই ভেবেছিলাম। ভেবেছিলাম, সে কত মিনিট খেলার সুযোগ পাবে, তা জানতে আমাকে কোচের সাথে কথা বলতে হবে। কিন্তু সে যেন নতুন করে নিজেকে ফিরে পেয়েছে। এটা তার জন্য দারুণ ব্যাপার।
“সে এমন এক লিগে খেলছে (যুক্তরাষ্ট্রের মেজর সকার লিগ), যেটি ইউরোপীয় লিগগুলোর মতো নয়; যেখানে কঠোর নিয়ম, সারাক্ষণ চাপ এবং শুধু জেতার দাবি থাকে। মায়ামিতে আপনি জীবন উপভোগ করতে পারবেন। যেকোনো জায়গায় পরিবারের সাথে ঘুরতে যেতে পারবেন আর এ কারণেই সে সতেজ, উদ্দীপ্ত এবং খুবই অনুপ্রাণিত হয়ে খেলতে আসতে পেরেছে।”
আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করলেও, স্পেনের সম্ভাবনাও দেখছেন কেম্পেস। বিশেষ করে, মাঝমাঠের দৃঢ়তা লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলকে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে গড়ে তুলেছে, মনে করেন এই আর্জেন্টাইন গ্রেট।
“স্পেনের যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। প্রথমত, তাদের ভালো মানের খেলোয়াড় আছে, যারা বল ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এবং তাদের একটি বিপদজনক মাঝমাঠ আছে। তারা খুব বেশি গোল করেনি, তবে, খুব বেশি হজমও করেনি। আমার মনে হয়, আর্জেন্টিনার জন্য তারা ভীষণ কঠিন প্রতিপক্ষ হবে।”