আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপারের বীরত্বে ৪২ বছর পর কোনো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার সেমিতে উঠেছে অ্যাস্টন ভিলা।
Published : 19 Apr 2024, 11:20 AM
ম্যাচজুড়েই গ্যালারি থেকে এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে দুয়ো দিয়ে গেলেন লিলের দর্শকরা। কিন্তু তার মনোবল ভেঙে দেওয়া তো আর সহজ কাজ নয়! উল্টো যেন আরও উজ্জীবিত হলেন তিনি। শরীরী ভাষা আর পারফরম্যান্সে নিজেও জবাব কম দিলেন না। দুটি হলুদ কার্ড দেখেও লাল কার্ড এড়ালেন নিয়মের ফাঁক দিয়ে। টাইব্রেকারে দারুণভাবে ঠেকিয়ে দিলেন দুটি শট। আর্জেন্টাইন গোলকিপারের বীরোচিত পারফরম্যান্সে বহু বছরের এক খরা কাটাল অ্যাস্টন ভিলা।
টাইব্রেকারে লিলকে হারিয়ে উয়েফা কনফারেন্স লিগের সেমি-ফাইনালে পৌঁছে গেল অ্যাস্টন ভিলা। সেই ১৯৮২ সালের পর প্রথমবার কোনো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার শেষ চারে পা রাখতে পারল ইংলিশ ক্লাবটি।
কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে অ্যাস্টন ভিলা জিতেছিল ২-১ গোলে। দ্বিতীয় লিগে বৃহস্পতিবার নিজেদের মাঠে দুই অর্ধের দুটি গোলে সেমি-ফাইনালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল লিল। কিন্তু ৮৭তম মিনিটে অ্যাস্টন ভিলার ম্যাটি ক্যাশ গোল করে নাটকীয়ভাবে জমিয়ে তোলেন ম্যাচ।
শেষ পর্যন্ত আর গোল হয়নি। ম্যাচে লিল ২-১ গোলে জিতলেও দুই লেগ মিলিয়ে লড়াইয়ে ছিল ৩-৩ সমতা। টাইব্রেকারে মার্তিনেসের নৈপুণ্যে ৪-৩ গোলে জিতে সেমি-ফাইনালে ওঠে ভিলা।
মূল ম্যাচে সময়ক্ষেপণের দায়ে এক দফা হলুদ কার্ড দেখেন মার্তিনেস। পরে টাইব্রেকারে শট ঠেকিয়ে লিলের দর্শকদের দিকে নানারকম ভঙ্গি করতে দেখা যায় তাকে। প্রতিপক্ষের শট নিতে আসা ফুটবলারদের মনোযোগে চিড় ধরাতেও বিচিত্র সব কাণ্ড করতে থাকেন তিনি। রেফারি তাকে প্রথমে সতর্ক করে দেন। তাতেও না থামায় পরে হলুদ কার্ড দেখানো হয় তাকে।
তবে নিয়ম অনুযায়ী মূল ম্যাচের হলুদ কার্ড বিবেচনায় নেওয়া হয় না টাইব্রেকারের ক্ষেত্রে। দুটি হলুদ কার্ডেও তাই লাল কার্ড দেখতে হয়নি মার্তিনেসকে। পরে আরও একটি শট ঠেকিয়ে ভিলাকে জিতিয়ে উদযাপনে মেতে ওঠেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপার।
গত বিশ্বকাপ ফাইনালেও মূল ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর টাইব্রেকারেও মার্তিনেসের বীরত্বে ফ্রান্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। সেবারও টাইব্রেকারে প্রতিপক্ষের মনোযোগ নাড়িয়ে দিতে নানা কিছু করে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছিলেন নিজের কাজে। এবার সেটির পুনরাবৃত্তি করলেন ৩১ বছর বয়সী গোলকিপার।
তার এসব কাণ্ডে বিতর্ক ছড়িয়েছে নানা সময়ই। তবে অ্যাস্টন ভিলার কোচ উনাই এমেরি জানিয়ে দিলেন, তাদের জন্য মার্তিনেসের মতো একজনের মূল্য কতটা।
“আমাদের জন্য সে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন। তার ধরন তার মতোই এবং ড্রেসিং রুমে তার উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তার সব অভিজ্ঞতা নিয়ে সে দলের নেতাদের একজন।”
“তার মানসিকতা দারুণ। মাঠেও নিজেকে আলাদাভাবে সে মেলে ধরে এবং আজকেও দুর্দান্ত খেলেছে। দুটি পেনাল্টি ঠেকিয়েছে, অবশ্যই তাকে নিয়ে আমি গর্বিত। দলের সবাইকে নিয়েই আমি গর্বিত।”
সেমি-ফাইনালে অ্যাস্টন ভিলার প্রতিপক্ষ অলিম্পিয়াকোস।