প্রথমবার কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে উঠেই বাজিমাত করলেন ২২ বছর বয়সী ইয়ানিক সিনার।
Published : 28 Jan 2024, 05:49 PM
প্রথম দুই সেটে লড়াই-ই করতে পারলেন না ইয়ানিক সিনার। দাপুটে পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মুকুট মাথায় তোলার স্বপ্ন তখন খেলা করতে শুরু করেছে দানিল মেদভেদেভের চোখে-মুখে। তখন কে জানত, ‘অনভিজ্ঞ’ সিনার এভাবে লিখবেন প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য! অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ালেন তিনি। একটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী এবং আগে দুইবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালিস্টকে হারিয়ে পরলেন শ্রেষ্টত্বের মুকুট।
মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় রোববার পুরুষ এককের ফাইনালে প্রথম দুই সেটে সাদামাটা পারফরম্যান্সের পর দাপুটে রূপে হাজির হন সিনার। পরের তিন সেটে প্রতিপক্ষকেই বিবর্ণ করে তোলেন তিনি।
পৌনে চার ঘণ্টার ফাইনাল ২২ বছর বয়সী এই ইতালিয়ান জেতেন ৩-৬, ৩-৬, ৬-৪, ৬-৪, ৬-৩ গেমে।
তৃতীয় সেটের দশম গেমে ৩১ সেটের একটি র্যালিতে সহজ ফোরহ্যান্ড শট নেটে মেরে পয়েন্ট হারান সিনার। পরে অবশ্য ওই গেম জিতে সেটও জিতে নেন তিনি। সেখান থেকেই তার প্রত্যাবর্তনের শুরু।
আর পঞ্চম সেটের ষষ্ঠ গেমে প্রতিপক্ষের সার্ভিস ব্রেক করে চালকের আসনে বসেন সিনার। এরপর নিজের সার্ভিসে আধিপত্য ধরে রাখেন তিনি। সবশেষে দারুণ একটি ফোরহ্যান্ড শটে ম্যাচ পয়েন্ট নিশ্চিত হতেই কোর্টে শুয়ে পড়েন সিনার। নিজেকে কিছুটা শান্ত করে উঠে দাঁড়ান, হাত মেলান প্রতিপক্ষের সঙ্গে।
এরপর, ছুটে যান গ্যালারিতে, শুরু হয় তার ও তার টিমের উদযাযন।
এর আগে মেজর টুর্নামেন্টে সিনারের সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল গতবছর উইম্বলডনের সেমি-ফাইনালে ওঠা। সেই অভিজ্ঞতায় ভর করে, প্রথমবার কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে উঠেই বাজিমাত করলেন তিনি।
এক দশক পর বছরের প্রথম এই গ্র্যান্ড স্ল্যামের পুরুষ এককে ‘বিগ থ্রির’(রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল, নোভাক জোকোভিচ) বাইরে কোনো চ্যাম্পিয়নের দেখা মিলল। আর ২০০৫ সালের পর এবারই এখানে প্রথম এমন কোনো ফাইনাল হলো যেখানে বিগ থ্রির কেউই ছিলেন না।
ফাইনালে প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হওয়ার পরই মেদভেদেভের কণ্ঠে প্রকাশ পায় আত্মবিশ্বাসের ছোঁয়া। কারণটা আর কিছু নয়, মেজরে ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতায় যে তিনি এগিয়ে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই জয়ের আশায় ছিলেন তিনি। কিন্তু, সিনার যে ছেড়ে কথা বললেন না।
এই প্রতিযোগিতায় রেকর্ড ১০ বারের চ্যাম্পিয়ন এবং গ্র্যান্ড স্ল্যামের এককে সর্বোচ্চ ২৪ বারের বিজয়ী নোভাক জোকোভিচকে সেমি-ফাইনালে হারানোয় উজ্জীবিত ছিলেন সিনার। ফাইনালে তারই প্রমাণ মিলল।
শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর সিনারের চোখেমুখে ছিল যেমন শান্ত ভাব, তেমনি মাইক্রোফোন হাতেও বেশ গুছিয়ে মনের কথা বললেন। শুরুই করলেন প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানিয়ে, অনেক কথার মাঝে দর্শকদের ধন্যবাদ দিতেও ভুললেন না তিনি। বিশেষ করে বললেন তার বাবা-মায়ের কথা।
“সবাইকে (ধন্যবাদ), যারা বাড়ি থেকে দেখছে, বিশেষ করে আমার পরিবার। আশা করি, সবাই যেন আমার বাবা-মায়ের মতো বাবা-মা পায়, কারণ তারা সবসময় আমি যা চাই তাই করতে দিয়েছেন, এমনকি যখন আমি ছোট ছিলাম, তখনও।”
“তারা কখনও আমাকে কোনো কিছু নিয়ে জোর করেননি। আমি চাই, এই স্বাধীনতা যেন আরও অনেক বাচ্চারা পায়। আমার বাবা-মাকে ধন্যবাদ।”