২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বায়ার্নের বিপক্ষে হেরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিদায়

এরিক টেন হাগের দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে গেছে তো বটেই, তাদের জায়গা হয়নি ইউরোপা লিগেও।

বায়ার্নের বিপক্ষে হেরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিদায়

মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে বিদায়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে এতটা খারাপ অবস্থা কখনও হয়নি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Dec 2023, 04:02 AM

Updated : 13 Dec 2023, 04:48 AM

ব্যর্থতার চাদর যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মুহূর্তেও গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে পারল না তারা। ম্যাচের পুরোটা সময় দ্বিতীয় সেরা হয়ে থাকা দলটিকে হারিয়ে অপরাজিত থেকেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্ব শেষ করল বায়ার্ন মিউনিখ।

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে কেবল জিতলেই হতো না স্বাগতিকদের, পক্ষে আসতে হতো অন্য ম্যাচের ফলও। সেসবের কিছুই হয়নি। ঘরের মাঠে ১-০ গোলে হেরে ইউরোপ সেরার মঞ্চ থেকে ছিটকে গেছে এরিক টেন হাগের দল।

বায়ার্নের জয়ের নায়ক কিংসলে কোমান। দ্বিতীয়ার্ধে একমাত্র গোলটি করেন তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দুই ম্যাচ পর জয়ে ফিরল জার্মান ক্লাবটি।

ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বে পা রাখল বায়ার্ন।

আরেক ম্যাচে গালাতাসারাইকে ১-০ গোলে হারিয়ে পরের ধাপে উঠেছে কোপেনহেগেন। ডেনমার্কের দলটির পয়েন্ট ৮। ৫ পয়েন্ট নিয়ে ইউরোপা লিগে জায়গা করে নিয়েছে তুরস্কের দল গালাতাসারাই।

৪ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থেকে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকেই ছিটকে গেল ইউনাইটেড।

‘যেকোনা দলকে হারানোর সামর্থ্য আছে’, ম্যাচের আগে ইউনাইটেড কোচ এমন হুঙ্কার দিলেও মাঠে তার প্রমাণ মিলল না। তাদের টিকে থাকার প্রথম শর্তই ছিল ‘জিততে হবে’, সেখানে বলতে গেলে কোনো আশাই জাগাতে পারেনি টেন হাগের দল।

Image

ব্যবধান গড়ে দিয়ে কিংসলে কোমানের উল্লাস।

আগেই গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করা বায়ার্নও অবশ্য খুব একটা ভালো ফুটবল খেলতে পারেনি। তবে, শুরু থেকে পজেশন ধরে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করতে থাকে তারা।

২৬তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত দলটি। সতীর্থের ছোট পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেয়ে যান মুসিয়ালা। শটও নেন তিনি, তবে ডিফেন্ডার দিয়োগো দালোত পা বাড়িয়ে রুখে দেন। চার মিনিট পর আবারও সহজ সুযোগ নষ্ট হয় বায়ার্নের, এই দফায় কাছ থেকে কোমানের ক্রস গোলমুখে ফাঁকায় পেয়েও ঠিকঠাক বলে পা লাগাতে পারেননি লেরয় সানে।

বিরতির পর ইউনাইটেডের আক্রমণের ধার কিছুটা বাড়ে। ৪৯তম মিনিটে ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে উড়িয়ে মারেন ব্রুনো ফের্নান্দেস। চার মিনিট পর আবারও সুযোগ আসে তার সামনে, এবারও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।

৭০তম মিনিটে ইউনাইটেডের আশা আরও ফিকে হয়ে যায় কোমানের গোলে। পাসিং ফুটবলে শাণানো আক্রমণে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ওয়ান-টাচ পাসে ভেতরে বল বাড়ান হ্যারি কেইন। আর অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে বক্সে ঢুকে নিচু শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কোমান।

অন্য ম্যাচের এই সময়ের স্কোরলাইনও ইউনাইটেডের পক্ষে ছিল না। ঘরের মাঠে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল কোপেনহেগেন। শেষ পর্যন্তও তাতে পরিবর্তন আসেনি।

আর এদিকে, পিছিয়ে পড়ার পর ইউনাইটেডের বাকি থাকা আত্মবিশ্বাসেও যেন ঘুণ ধরে। মরিয়া হয়ে তেড়েফুঁড়ে আক্রমণে উঠবে কী, উল্টো তাদের খেলার গতি কমে যায় আরও। ফলাফল, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে তারা ছিটকে গেল তো বটেই, জায়গা করে নিতে পারল না ইউরোপের দ্বিতীয় সেরা টুর্নামেন্টেও।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে এতটা খারাপ অবস্থা কখনও হয়নি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। এর আগে তাদের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স ছিল ২০০৫-০৬ মৌসুমে; সেবার ৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করেছিল তারা, গোল করেছিল মাত্র দুই ম্যাচে।

এবার অবশ্য পাঁচ ম্যাচে জালের দেখা পেয়েছে দলটি। কিন্তু তার চেয়ে গোল হজমও করেছে বেশি। ৬ ম্যাচে তারা ১২ গোল দেওয়ার বিপরীতে খেয়েছে ১৫টি।

ইউনাইটেডের অবস্থা শুধু ইউরোপের মঞ্চেই খারাপ নয়। প্রিমিয়ার লিগেও ধুঁকছে দলটি; ১৬ ম্যাচে জিততে পেরেছে মাত্র ৯টিতে, ২৭ পয়েন্ট নিয়ে আছে ষষ্ঠ স্থানে।

আর লিগ কাপ থেকে তো ছিটকে গেছে তারা অনেক আগেই।

‘বি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান আগেই নিশ্চিত হওয়ায় শেষ ম্যাচে দলে অনেক পরিবর্তন আনেন আর্সেনাল কোচ। আগের ম্যাচের দলে আটটি পরিবর্তন আনার প্রভাব পড়ে তাদের পারফরম্যান্সে।

পিএসভি আইন্দহোভেনের বিপক্ষে তারপরও প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল আর্সেনাল। কিন্তু পরে গোল হজম করে ১-১ ড্র করেছে তারা।

গ্রুপের আরেক ম্যাচে সেভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ফরাসি ক্লাব লঁস।

ছয় ম্যাচে চার জয় ও এক ড্রয়ে আর্সেনালের পয়েন্ট ১৩। ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে আইন্দহোভেন।

আর ৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয়েছে লঁস। ইউরোপা লিগে খেলবে তারা।

তলানিতে নাপোলির পয়েন্ট ২।

পুরানো খবর:

নাটকীয় জয়ে রেয়াল মাদ্রিদের ছয়ে ছয়