‘প্রতিটি ম্যাচ খেলতে ৭০-৮০ লাখ টাকা লাগে’, মেয়েদের ফুটবলে উন্নতিতে তহবিল চান সালাউদ্দিন

তহবিল পেলে ম্যাচের আয়োজন করা যাবে, তহবিল না পেলে নয়, স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন বাফুফে সভাপতি।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Sept 2022, 04:28 PM
Updated : 20 Sept 2022, 04:28 PM

নারী সাফ ফুটবলে বাংলাদেশের সাফল্য বাফুফের পরিকল্পনার ফসল বলে মনে করেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। তবে মেয়েদের ফুটবলকে পরের ধাপে নিয়ে যাওয়ার পথে অনিশ্চয়তা ফুটে উঠল স্বয়ং তার কণ্ঠেই। পরিষ্কার করেই তিনি বলে দিলেন, পর্যাপ্ত তহবিলের জোগান পেলে মেয়েদের জন্য আন্তর্জাতিক ম্যাচের ব্যবস্থা করা যাবে, নইলে থমকে থাকবে প্রক্রিয়া। 

দক্ষিণ এশিয়ার শেষ্ঠত্ব অর্জনের পর এবার বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সামনে চ্যালেঞ্জ নতুন উচ্চতায় ওঠার। নিয়মিত অনুশীলনে এই মেয়েরা বছরজুড়েই থাকে। তবে নিজেদের খেলাকে পরের ধাপে তুলে নিতে এবং র‌্যাঙ্কিংয়ের উন্নতিতে প্রয়োজন নিয়মিত ম্যাচ খেলা, সফরে যাওয়া এবং অনেক অভিজ্ঞতার। 

এখানেই নিজেদের অসহায়ত্ব জানালেন সালাউদ্দিন। বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার তিনি বললেন, অর্থের জন্য তারা কাকিয়ে আছেন সরকারের দিকে। 

“ওদেরকে খেলানোর জন্য অলরেডি পরিকল্পনা নিয়েছি আমরা, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আগে থেকেই। একেকটা ম্যাচ খেলতে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা লাগে। হোটেল ভাড়া, যাওয়া-আসা, খাওয়া সব মিলিয়ে। আমাদের ফান্ডের অবস্থা আপনারা জানেন…” 

“এর মধ্যেই বাংলাদেশের সরকারের কাছে গিয়েছি, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে। আমাদেরকে যেন একটা বাজেট দেওয়া হয় ছেলে ও মেয়েদের জন্য, যেন ওরা ফিফা উইন্ডোতে খেলতে পারে। ফিফা উইন্ডোতে খেলতে না পারলে তো আর র‌্যাঙ্কিং হবে না। বাজেট চেয়েছি, একধরনের নিশ্চয়তা পেয়েছি যে পেতে পারি।” 

নিজের ব্যক্তিগত যোগাযোগ আর ফেডারেশনের উদ্যোগ মিলিয়ে মেয়েদের জন্য আগে ম্যাচের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও মনে করিয়ে দিলেন তিনি। 

“আমি মেয়েদেরকে প্রথমেই পাঠিয়েছি চীনে। এরপর জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ায়… আমার ব্যক্তিগত প্রভাব দিয়ে এই বড় বড় দেশগুলোতে পাঠিয়েছে। আরও দেশে গেছে, এই কটির কথা বললাম, যারা বিশ্বকাপে খেলে। এই পরিকল্পনা আমাদের আছে। আমাদের একটাই দুর্বলতা, তহবিল। আশা করছি, এই বছর তহবিল পেয়ে যাব। না পেলে আপনাদের জানিয়ে দেব যে আমাদের দ্বারা এটা সম্ভব নয়। কারণ কোটি কোটি টাকা আমরা কোত্থেকে পাব? বাস্তবতা ভাবত হবে। আর যদি পেয়ে যাই আমরা আপনাদের সূচি দিয়ে দেব, কোন দেশে কখন খেলব।” 

সাফ ফুটবলে এই সাফল্যের পর সালাউদ্দিন ফিরে গেলেন শুরুর দিনগুলোয়, যখন তারা ছক করেছিলেন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে। 

“আমি, নারী কমিটির চেয়ারম্যান ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলি মিলে গোটা জিনিসটা পরিকল্পনা করেছিলাম। করার পর ছোটকে কোচ হিসেবে নিয়েছে পল স্মলির সঙ্গে কাজ করার জন্য। কারণ স্মলি শুধু টেকনিক্যাল ডিরেক্টরই নয়, সর্বোচ্চ কোচিং লাইসেন্সও আছে তার। এই পরিকল্পনা করে আমরা দিয়েছি।” 

“আমরা ওদের থাকা, খাওয়া, মাসিক বেতন দিয়ে তৈরি করেছি। খাওয়া, চিকিৎসা, যত রকমের খরচ আছে, সব বাফুফে দিয়েছে। এটা করতেও থাকব।” 

বাফুফে সভাপতির অকপট স্বীকারোক্তি, তার ধারণার চেয়ে দুই বছর আগেই সাফের সাফল্যের শিখরে পৌঁছে গেছে মেয়েরা। 

“আমরা সবাই সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাই যে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছে। এটা অস্বাভাবিক ছিল, যখন আমরা শুরু করি। কারণ, এই দলকে চ্যাম্পিয়ন করানোর কাজ যখন করছিলাম, আমার ধারণা যেটা ছিল, এই দলরটা চ্যাম্পিয়ন হবে ২০২৪ সালে। তখন মেয়েগুলোর বয়স ২২-২৩-২৪ হবে। কিন্তু ওরা এত ভালো যে, দুই বছর আগেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং দাপটের সঙ্গে। এটাই বলে দেয় যে, এই মেয়েরা দুর্দান্ত ফুটবলার।” 

তবে এই প্রাপ্তির উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে চান না সালাউদ্দিন। দলকেও তিনি স্রোতে গা ভাসাতে দিতে চান না। দেশে ফেরার পর মেয়েদেরকে সেই বার্তা তিনি সরাসরিই দেবেন বলে জানালেন। 

“আপনারা অনেক কিছু বলবেন, অভিনন্দন জানাবেন। কিন্তু আমি ওদেরকে বলব, ‘ওয়েল ডান, চ্যাম্পিয়ন হয়েছো। কিন্তু এখন তা শেষ। সামনে তাকাও। সামনে এগোতে হলে এখনকার চেয়ে দুই গুণ বেশি কষ্ট করতে হবে। কারণ চ্যাম্পিয়ন দলকে সবাই হারাতে চাইবে। তোমরা উপহার, আর্থিক সাপোর্ট যা পাওয়ার, তা পাবে। ওটার সঙ্গে এটার কিছু না। দুই থেকে তিন দিন বিশ্রাম নিয়ে কাজে লেগে যাও। না হলেও ওয়ান টাইম ওয়ান্ডার হয়েই থাকবে।” 

নেপালে শিরোপাজয়ী দল ঢাকা পা রাখবে বুধবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক