০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

উত্থান-পতন পেরিয়ে বেলিংহ্যাম ও টুখেলের সম্পর্ক এখন ‘ভালো’

দলের বড় তারকার সঙ্গে অতীতে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা স্বীকার করে ইংল্যান্ড কোচ বললেন, এখন তারা সেসব সময় পেছনে ফেলে এসেছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Nov 2026, 02:13 PM

Updated : 07 Nov 2026, 02:13 PM

দুজনের সম্পর্কে টানাপোড়েন ছিল। আন্তরিকতাও ছিল। উষ্ণতার ছোঁয়া পেয়েছে, শীতলতার স্পর্ষও পেয়েছে। সেই উথাল-পাথাল অবস্থা আর অস্থিরতা পেরিয়ে এখন স্বস্তির ঠিকানায় জুড বেলিংহ্যামের সঙ্গে টমাস টুখেলের সম্পর্ক। থিতু হয়ে যাওয়া সম্পর্কটিকে এখন ‘ভালো’ বলতে পারছেন ইংল্যান্ড কোচ।

দলের কোনো ফুটবলারের সঙ্গে কোচের ব্যক্তিত্বের সংঘাত ফুটবলে নতুন কিছু নয়। বেলিংহ্যামের মতো বড় তারকা আর টুখেলের মতো প্রবল ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও কিছুটা খ্যাপাটে কোচের মধ্যে ঝামেলাটা হওয়াটা তাই খুব অস্বাভাবিক নয়।

টুখেল সেটা লুকালেন না। নেশন্স লিগের দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে ইংল্যান্ড কোচ জানালেন রেয়াল মাদ্রিদ তারকার সঙ্গে তার সম্পর্কের বতর্মান হালচালও।

“অবশ্যই আমাদের সম্পর্কটা কিছুটা উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে গেছি। কিন্তু আমরা এখন ভালো অবস্থানে আছি। তার কোচ হতে আমি ভালোবাসি, সে একজন শীর্ষমানের ফুটবলার, খুবই প্রভাববিস্তারী ফুটবলার এবং আমি মনে করি, এটা আমাদের উভয় পক্ষের জন্যই প্রযোজ্য। জুড যদি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করত, তাহলে সে এই পর্যায়ে খেলতে পারত না।

“যেখন দেখবেন যে, সে ক্যাম্পে এসে খুশি, তার ভূমিকা নিয়ে সে সন্তুষ্ট, সে পুরোপুরি নিবেদিত, তাতেই সব ফুটে ওঠে।”

এই দুজনের মধ্যে বিভেদের শঙ্কা সবসময়ই ছিল এবং সেটা বাস্তব হয়ে ফুটে উঠেছে নানা সময়ে। গত বিশ্বকাপে বেলিংহ্যাম দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও কোচের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল না, এমনকি বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জয়ের পথেও এক পর্যায়ে এমনটা মনে হয়েছিল। তবে চিত্র অনেকটা বদলে গেছেই বলে মনে হচ্ছে।

বেলিংহ্যামের সঙ্গে কোচের মানসিক দূরত্ব কমাতে ভূমিকা আছে অদৃশ্য আরেকজনের। তার নাম জোব বেলিংহ্যাম!

হ্যাঁ, ছোট ভাইকে নিয়ে কোচের সঙ্গে অনেকবারই কথা হয়েছে জুড বেলিংহ্যামের, দুই ভাই একসঙ্গে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্নের কথা তিনি বলেছেন কোচ। সেই স্বপ্ন এখন পূরণ হলো বলে! ক্রোয়েশিয়া এবং স্পেনের বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচের স্কোয়াডে নেওয়া হয়েছে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের অধিনায়ক জোব বেলিংহ্যামকে।

২০০৭ সালে গ্যারি এবং ফিল নেভিলের পর প্রথম সহোদর হিসেবে ইংল্যান্ডের হয়ে একসঙ্গে খেলার অপেক্ষায় এখন বেলিংহ্যাম ভাইরা।

টুখেল বললেন জোবকে নিয়ে জুডের সঙ্গে অনেক কথা হয়েছে তার।

“আমরা তার ভাইয়ের ব্যাপারে কথা বলেছিলাম, কারণ আমি জানতাম, আমি অবগত ছিলাম, এটা সবসময়ই তার (জুড) স্বপ্ন ছিল। জুড সবসময় বলত, ‘ওকে দেখো, ওকে দেখো, ও ভালো, ও পারবে!’ আমি বলতাম, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমরা ওকে দেখছি’।”

টুখেল ইংল্যান্ডের দায়িত্ব নেওয়ার পর দুইবার ইংল্যান্ডের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন জুড বেলিংহ্যাম। তবে নানা কারণেই কোচের সঙ্গে তার জমছিল না। এমনকি গতবছর টুখেল ক্ষমাও চেয়েছিলেন, কারণ তিনি বলেছিলেন যে, বেলিংহ্যামের মায়ের কাছে মাঠের কিছু আচরণ ‘জঘন্য’ মনে হয়েছিল।

টুখেল বলেছেন, তিনি আশা করেন যে ক্যাম্পের আগে তারা অতীতের খারাপ সময়গুলো পেছনে ফেলে এসেছেন, এবং সামনের সময়টুকু ইংল্যান্ডের জার্সিতে জুডের সেরা সময় হবে এবং তার ভাইয়ের উদীয়মান ক্যারিয়ারের শিখর হবে।

বড় ভাই জুডের সঙ্গে যে সবসময় তুলনা হবে জোবের, সেই বাস্তবতাও তুলে ধরলেন কোচ।

“তাকে এটা মেনে নিতে হবে যে সবাই তাদের মধ্যে তুলনা করবে। তাদের দেখতে একই রকম লাগে, এমনকি তাদের চলাফেরাতেও। তবে তারা দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের খেলোয়াড়। দেখা যাক, আমার মনে হয় তাদের ধরনও ভিন্ন, অন্তত আমি এমনটাই শুনেছি।

“সে জুডের মতো একই ক্লাবেই (ডর্টমুন্ড) আছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে তুলনা চলতেই থাকবে। এমনটাই সবসময় হবে। কিন্তু তারা দুজনই যে ক্যাম্পে আছে, এটা একটা বিশাল অর্জন এবং সে আমাদের খেলার ধরনের সঙ্গে কত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে, তা দেখার জন্য আমি রোমাঞ্চিত।”