দ্বিতীয়ার্ধে গোল না পেলেও অখুশি নন ব্রাজিল কোচ
প্রথমার্ধে তিন গোল দিলেও পরের ভাগে গোল পায়নি ব্রাজিল, কোচ তিতে আঙুল তুললেন ঘানার রক্ষণাত্মক কৌশলের দিকে।
ম্যাচের দুই অর্ধে ভিন্ন দুই চেহারা। ঘানার বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলের পারফরম্যান্সে ছিল এমন উত্থান-পতন। প্রথমার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজানো দল দ্বিতীয় ভাগে যেন হারিয়ে ফেলে ছন্দ। ব্রাজিল কোচ তিতে অবশ্য দলের দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্সে অখুশি নন। তিনি উল্টো আঙুল তুললেন প্রতিপক্ষের অতিরক্ষণাত্মক কৌশলের দিকে।
আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্সের লু আভহাতে শুক্রবার রাতে ঘানাকে ৩-০ গোলে হারায় ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা তিনটি গোলই করে প্রথমার্ধে।
একের পর এক আক্রমণে ম্যাচের শুরু থেকে ঘানাকে চাপে রাখে ব্রাজিল। যার সুফল তার পেয়ে যায় দ্রুতই। নবম মিনিটে রাফিনিয়ার কর্নারে অনেকটা লাফিয়ে উঠে হেডে দলকে এগিয়ে নেন পিএসজির ডিফেন্ডার মার্কিনিয়োস।
এর পর আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সফল হয়নি তিতের দল। ২৮তম মিনিটে রিশার্লিসনের দারুণ গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। নেইমারের পাস ডি-বক্সে পেয়ে প্রথম স্পর্শে ডান পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন টটেনহ্যাম হটস্পারের ফরোয়ার্ড।
তৃতীয় গোলটি আসে ৪০তম মিনিটে। এবারও সফল সেই নেইমার ও রিশার্লিসন জুটি। বাঁ দিক থেকে নেইমারের ফ্রি-কিকে হেডে গোলটি করেন ২৫ বছর বয়সী রিশার্লিসন।
দ্বিতীয়ার্ধে যেন কিছুটা ক্লান্তি পেয়ে বসে ব্রাজিল দলে। এই সুযোগে বেশ কয়েকবার তাদের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় ঘানা। জর্ডান আইয়ুর হেড ক্রসবারে না লাগলে ৫৬ মিনিটে গোলও পেয়ে যেতে পারত আফ্রিকার দলটি।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিল কোচ তিতে বললেন, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিছুটা খেই হারালেও পরে ঠিকই নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন তারা।
“প্রথমার্ধে দলের খেলায় গতি ও পারফরম্যান্স ভালো ছিল। ছেলেরা আধিপত্য দেখায় ও খেলা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে। দ্বিতীয়ার্ধে ঘানা ১৫ মিনিট নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে বটে। তবে ওদের রক্ষণভাগে ছিল ৫ জনের দেয়াল, আমরা তাই কাজ শেষ করতে পারিনি।”
“পাশাপাশি, আমরা আঁটসাঁটই ছিলাম। নিজেরা সুযোগ তৈরি করতে পারিনি বটে, তবে প্রতিপক্ষকেও সুযোগ তৈরি করতে দেইনি। বদলি খেলোয়াড় নামার পর আবার আমরা আধিপত্য ফিরে পাই।”
দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতাছাড়া করার আক্ষেপ অবশ্য ঝরল তিতের কণ্ঠে। তবে সব মিলিয়ে দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট তিনি।
“ব্যবধান বাড়ানোর নিশ্চিত কিছু সুযোগ পেয়েছিলাম আমরা। মাথেউস কুনইয়া দুটি পরিষ্কার সুযোগ পেয়েছিল। নেইমার, রদ্রিগো ও পাকেতার সামনেও সুযোগ ছিল (গোল করার)।”
“ম্যাচের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে দল ভালো করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু প্রথমার্ধে আমরা যেমন খেলেছি, সেটা সবসময় করা সম্ভব নয়।”
