হলান্ডের রেকর্ড ছাপিয়ে সিটির মাঠে পিএসজির জয়োল্লাস
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর, ঘরের মাঠে প্রথমবার খেলতে নেমে হেরে গেল ম্যানচেস্টার সিটি।
প্রথমার্ধে একচেটিয়া দাপট দেখিয়ে তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিল পিএসজি। কোণঠাসা অবস্থায় বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল ম্যানচেস্টার সিটি। জোড়া গোলের পথে দুটি রেকর্ড নিজের করে নিলেন আর্লিং হলান্ড, কিন্তু তার দলের শেষ রক্ষা হলো না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জয়ের ধারা ধরে রাখল শিরোপাধারীরা।
প্রতিপক্ষের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৪-২ গোলে জিতেছে লুইস এনরিকের দল।
প্রথমার্ধে পিএসজির তিন গোল করেন দেজিরে দুয়ে, উসমান দেম্বেলে ও ভিতিনিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে আর্লিং হলান্ড ব্যবধান কমানোর পর, আবার পিএসজিকে তিন গোলে এগিয়ে নেন মাহনেস আকিউস। পরে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হলান্ড। শেষ দিকে পেনাল্টি মিস করে হতাশ করেন পিএসজির ফেররান তরেস।
প্রথম গোলটির সুবাদে সের্হিও আগুয়েরোকে (৬৪ ম্যাচে ৩৬ গোল) ছাড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এককভাবে ম্যানচেস্টার সিটির সর্বোচ্চ গোলদাতা (৪১ ম্যাচে ৩৭ গোল) হন হলান্ড।
একই সঙ্গে আরেক আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায় দ্রুততম ৬০ গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। এজন্য মেসির লেগেছিল ৮০ ম্যাচ, তার চেয়ে ২০ ম্যাচ কম লাগল হলান্ডের।
দুই ম্যাচে শতভাগ সাফল্যে আরও অনেক দলের সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে পিএসজি। দুইয়ে বার্সেলোনা।
একটি জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ১৭ নম্বরে আছে ম্যানচেস্টার সিটি।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর, ঘরের মাঠে এটিই ছিল সিটির প্রথম ম্যাচ।
ম্যাচ শুরুর আগে পিএসজি সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি ও ম্যানচেস্টার সিটি চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারাকসহ আরও অনেকের সঙ্গে স্ট্যান্ডে দেখা যায় ক্লাবটির সাবেক কোচ পেপ গুয়ার্দিওলাকে।
দ্বাদশ মিনিটে বিপদে পড়তে বসেছিল পিএসজি। এন্সো ফের্নান্দেসের কর্নার পাঞ্চ করতে লাফিয়ে ওঠা গোলরক্ষক মাতভেই সাফানভের হাতে লেগে ক্রসবারে বাধা পায় বল। ফিরতি বল কাছ থেকে উড়িয়ে মারেন অ্যান্টোয়ান সেমেনিও।
এরপরই দ্রুত দুই গোল খেয়ে বসে সিটি। ত্রয়োদশ মিনিটে ফাবিয়া রুইসের পাস বক্সের বাইরে পান দেজিরে দুয়ে। তার সামনে দুই পাশে ছিল প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়। তাদের মাঝ দিয়েই জোরাল নিচু শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ফরাসি উইঙ্গার।
সেই রেশ থাকতেই পঞ্চদশ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেম্বেলে। বক্সে ঢুকে অন্য পাশে দুয়েকে ক্রস দেন তিনি, এরপর সতীর্থের ফিরতি ক্রসে হেডে গোলটি করেন ২০২৫ সালের ব্যালন দ’র জয়ী।
ওই দুই গোলের মাঝে ব্যবধান কেবল ৯৯ সেকেন্ডের।
২৫তম মিনিটে সুযোগ পান সিটির সবচেয়ে বড় তারকা হলান্ড, কিন্তু কাছ থেকে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি নরওয়ের স্ট্রাইকার।
৩১তম মিনিটে কাছ থেকে পিএসজির আশরাফ হাকিমির হেড লাগে পোস্টে। পরের মিনিটেই স্কোরলাইন ৩-০ করেন ভিতিনিয়া। ওয়াহেন জাইয়ের এমেরির চমৎকার ফ্লিকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত বাঁকানো শটে জালে পাঠান তিনি।
প্রথমার্ধে পিএসজি যেখানে গোলের জন্য ১০টি শট নিয়ে সাতটিই লক্ষ্যে রাখতে পারে, সেখানে সিটির ছয় শটের কেবল একটি লক্ষ্যে ছিল। যোগ করা সময়ে জেরেমি ডোকুর সেই শট সহজেই ঠেকান সাফানভ।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম পাঁচ মিনিটে ভালো দুটি সুযোগ পায় সিটি। কিন্তু কাছ থেকে উড়িয়ে মারেন সেমেনিও, এরপর দূরের পোস্টে অরক্ষিত ফের্নান্দেস বাইরে হেড করেন।
অবশেষে ৫৩তম মিনিটে গোলের দেখা পায় স্বাগতিকরা। ইলিমান এনদিয়াইয়ের ক্রসে বক্সে লাফিয়ে উঠে জোরাল হেডে ব্যবধান কমান পাঠান হলান্ড।
সিটির ওই স্বস্তি যদিও বেশিক্ষণ থাকেনি। ৬২তম মিনিটে তিন গোলের লিড পুনরুদ্ধার করে পিএসজি। বক্সের বাইরে থেকে মাহনেস আকিউসের শটের গতি জানলুইজি দোন্নারুম্মা লাফিয়ে কিছুটা কমালেও আটকাতে পারেননি, এক ড্রপ খেয়ে গোললাইন পেরিয়ে যায় বল। শেষ মুহূর্তে ডাইভ দিয়েও দলকে বাঁচাতে পারেননি ইতালিয়ান গোলরক্ষক।
৭৪তম মিনিটে হলান্ডের হেড লাগে ক্রসবারে। পরের মিনিটেই বক্সে আয়ুব বুয়াদির পাস পেয়ে জোরাল নিচু শটে দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
৮৩তম মিনিটে হ্যাটট্রিকও হতে পারত হলান্ডের। তবে তার প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন সফরকারী গোলরক্ষক।
নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট বাকি থাকতে নুনো মেন্দস বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় পিএসজি। কিন্তু স্কোরশিটে নাম লেখাতে পারেননি তরেস। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা স্প্যানিশ স্ট্রাইকারের স্পট-কিক অনায়াসে ঠেকান দোন্নারুম্মা।
