০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

‘ইন্দোনেশিয়া দুঃস্বপ্ন’ ভুলে সাফ চ‍্যাম্পিয়নশিপে তাকিয়ে ডুলি

গত মাসে আসিয়ান কাপে ৯-২ গোলে হার থেকে শিক্ষা নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ফুঠবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ভালো করতে উন্মুখ বাংলাদেশের প্রধান কোচ।

‘ইন্দোনেশিয়া দুঃস্বপ্ন’ ভুলে সাফ চ‍্যাম্পিয়নশিপে তাকিয়ে ডুলি

অধিনায়ক তপু বর্মনকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ টমাস ডুলি। ছবি: শামছুল হক রিপন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Nov 2026, 07:43 PM

Updated : 04 Nov 2026, 07:43 PM

নতুন অভিযানের আগে স্বাভাবিকভাবেই উঠল সবশেষ ম্যাচের প্রসঙ্গ। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ওই লড়াইয়ে ৯-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। নানাভাবে ব‍্যাখ‍্যা দিয়ে সেই বিপর্যয়ের কারণ বোঝালেন প্রধান কোচ টমাস ডুলি। একই সঙ্গে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আসন্ন সাফ চ‍্যাম্পিয়নশিপে ভালো করার প্রত‍্যয় জানালেন তিনি।

গত মে মাসে বাংলাদেশের কোচ হয়ে আসেন ডুলি। যুক্তরাষ্ট্রের এই কোচের পথ চলা শুরু সান মেরিনোর বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় দিয়ে। অবশ‍্য ইউরোপের দল হলেও ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে সান মেরিনো ২১১তম। বাংলাদেশ এ মুহূর্তে ১৮২তম।

এরপর ডুলির কোচিংয়ের কঠিন পরীক্ষা নেয় আসিয়ান কাপ। সেখানে তিন ম্যাচে জয়হীন ছিল বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারের পর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে স্রেফ উড়ে যায় দল। সেই দুঃস্বপ্ন চাপা দিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে নতুন শুরুর উপলক্ষ্য খুঁজবেন ডুলি। বাংলাদেশও। জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার শুরু হবে এই প্রতিযোগিতা।

দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ আসরে বাংলাদেশ নিজেদের একমাত্র শিরোপা জিতেছিল ২০০৩ সালে। বেঙ্গালুরুতে গত আসরে উঠেছিল সেমি-ফাইনালে। এই প্রতিযোগিতায় তাদের সাফল্য খরা চলছে ২৩ বছর ধরে। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, ফাহামিদুল ইসলামদের মতো প্রবাসীরা যোগ হওয়ায় প্রায় দুই যুগের খরা কাটানোর স্বপ্ন দেখছেন সমর্থকরা। ডুলির কণ্ঠেও আশাবাদের স্ফুরণ যথেষ্ট।

“আমরা এটি নিয়ে রোমাঞ্চিত, স্পষ্টতই দীর্ঘক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি, চার-পাঁচ মাস আগে থেকেই আমরা জানতাম যে সাফ টুর্নামেন্ট এই বছর আসছে এবং আমরা, পুরো দল, পুরো ফেডারেশন এটি নিয়ে খুব রোমাঞ্চিত। তাই আমরা প্রথম ম্যাচটির জন্য মুখিয়ে আছি এবং মে মাস থেকে প্রস্তুতির মাঝে স্পষ্টতই আমাদের কিছু উত্থান-পতন ছিল কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা যা করেছি তা নিয়ে আমি বেশ খুশি।

“একজন ফুটবল খেলোয়াড় এবং কোচ হিসেবে এগুলোই সেই ম্যাচ, যার জন্য আপনি প্রশিক্ষণ নেন, বড় টুর্নামেন্টগুলোর জন্য অপেক্ষা করেন এবং এই ২৩ বছরের ব্যাপারটি একদিক দিয়ে দেখলে, গত ২৩ বছরে চাপ হয়তো এখনকার চেয়েও বড় ছিল; কারণ, আমাদের জন্য এটি এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি, এবং আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে যে, আমরা ভালো করতে পারি এবং আপনারা জানেন, আমরা এটি জেতার চেষ্টা করব।”

আসিয়ান কাপের দলগুলো শক্তির দিক থেকে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশের চেয়ে। সেখানে দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলো অনেকটা সমমানের। এ কারণে ডুলি আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী।

“আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে যে, আমরা খেলতে পারি, লড়াই করতে পারি এবং আমরা আসলে তা অর্জন করতে পারি। জীবনে আপনার যত লক্ষ্য আছে, সেগুলো বাস্তবসম্মত হতে হবে এবং আমি মনে করি, এই টুর্নামেন্টটি বাস্তবসম্মত যে, এই দলটি এটি জিততে পারে এবং এটি আসবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলার মাধ্যমে এবং শেষ মিনিট পর্যন্ত খেলা ও লড়াই করার মাধ্যমে।

“এ বছর এটি ঘটতে যাচ্ছে এবং (আমাদের উপর) এই আত্মবিশ্বাস রাখুন আর তা নিয়ে মাঠে নিয়ে আসুন, আমরা বাইরের সবাইকে দেখাতে চাই যে, এটি আমাদের কাছে কতটা অর্থবহ। আমরা ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জন খেলব এবং আমরা প্রথম থেকে শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াই করব। তাই এটি (জেতা) সম্ভব এবং এর জন্যই আমরা পরিশ্রম করছি। আশা করি সবাইকে খুশি করতে পারব।”

টুর্নামেন্টের বাকি পাঁচ দল স্বাগতিক বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখার কথা বলেছে সংবাদ সম্মেলনে। একদিন আগে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালও বলেছেন, এবার শিরোপা জয়ের ব্যাপারে দারুণ আশাবাদী তিনি। ডুলি অবশ্য ‘ফেভারিট’ তকমা গায়ে মাখছেন না। বরং তিনি চান আসিয়ান কাপের জড়তা কাটিয়ে সাফে যেন আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে তার দল।

“এটি সব জায়গাতেই হয়, যখন আপনি কোনো টুর্নামেন্টের আয়োজক হন এবং আপনি সেই টুর্নামেন্টের অন্য সব দলের সাথে সমানে-সমানে থাকেন, তখন ২৫ হাজার দর্শকের কারণে আপনার ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ থাকে। তাই স্পষ্টতই আপনি ফেভারিট; সবাই আপনার কাছে জয় প্রত্যাশা করে।”

“আসিয়ান কাপে যে সমস্যাগুলো খুঁজে পেয়েছিলাম, তা হলো আমরা আত্মবিশ্বাসের সাথে ফুটবল খেলিনি। আমরা কিছুটা গুটিয়ে ছিলাম এবং আমরা আমাদের সীমায় পৌঁছে গিয়েছিলাম। তারপরও এমন পরিস্থিতি ছিল যে, আমরা পাস দেওয়া এবং রিসিভ করার ক্ষেত্রে বল হারিয়ে খুব-খুব সহজ ভুল করেছি। যা কখনোই হওয়া উচিত নয়। এজন্যই আমরা পুরোটা সময় ওই সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করেছি।”